০২ এপ্রিল ২০২০

একুশের প্রথম প্রহরে কথা হলো দেবর-ভাবির

একুশের প্রথম প্রহরে কথা হলো দেবর-ভাবির - ছবি : নয়া দিগন্ত

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও উপনেতা জিএম কাদের। শুক্রবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন তারা। রওশন এরশাদ জাপার প্রধান উপদেষ্টা এবং জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর দেবর-ভাবিকে এক সাথে দেখতে পেলেন জাপার নেতাকর্মীরা।

তাদের সাথে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব ফখরুল ইমাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, হুইপ পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ, নাজমা আক্তার এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেয়া জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাপা নেতারা এক সাথে হয়েছেন। প্রথমে জিএম কাদের সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। এরপর বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ সেখানে গেলে এগিয়ে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন জিএম কাদের। সেখান থেকে যার যার গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে রওনা দেন জাপার নেতারা। রাত ১২টার আগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় যান বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতা। উভয়ে গাড়ি থেকে নেমে নেতাকর্মীদের নিয়ে এক সাথে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাদের আগে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন জানান, ফুল দেয়ার মাঝখানে মোটামুটি আধাঘণ্টা সময় তারা এক সাথে ছিলেন। এসময় টুকটাক তাদের কথা বলতে দেখা যায়। তবে, সাংগঠনিক কোনো বিষয় বা ওই রকম গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা করতে দেখা যায়নি। তাদের মধ্যে দূরত্ব আছে বলেও মনে হয়নি। হাসি খুশিভাবেই তাদের কথা বলতে দেখা গেছে।

গতবছরের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। মৃত্যুর আগেই এরশাদ তার অবর্তমানে জাপার উত্তরসুরি করে যান তার ভাই জিএম কাদেরকে। কিন্তু, তা মেনে নিতে পারছিলেন না তার এরশাদ স্ত্রী রওশন।

এরশাদের মৃত্যুর পর তার দাফন, দোআ মাহফিলসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রমগুলো রওশন ও জিএম কাদেরপন্থিরা আলাদাভাবে পালন করেন। এরশাদের মৃত্যুর পর বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, এবং তার শুণ্য আসনে (রংপুর) আসনে প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে রওশন ও জিএম কাদেরের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এমন কী এরশাদের অবর্তমানে জিএম কাদেরকে জাপার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রওশনপন্থিরা। শেষ পর্যন্ত পার্টির সিনিয়র কয়েকজন নেতার মধ্যস্থতায় রওশনকে বিরোধী দলীয় নেতা এবং তার সন্তান সাদ এরশাদকে রংপুরের আসনে প্রার্থী দেয়ার শর্তে জাপার চেয়ারম্যানের পদ পাকাপোক্ত হয় জিএম কাদেরের। তবে, এর মাঝে রওশন ও জিএম কাদেরের সাক্ষাত হয়নি। সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাপার কাউন্সিলেও উপস্থিত হননি এরশাদপত্মি রওশন এরশাদ। ওই সম্মেলনে তাকে জাপার প্রধান উপদেষ্টা করে সন্মানিত করে পার্টির চেয়ারম্যান হন জিএম কাদের। মাঝখানে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়েও রওশন ও জিএম কাদেরের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে আসে আবার। রওশন তার ছেলে সাদ এরশাদকে পার্টির কো চেয়ারম্যান এবং আরো ১২ জন নেতাকে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভক্ত করার জন্য তালিকা দিলেও তা আমলে নেননি কাদের।

মাঝখানে আরো কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচি পালিত হলেও এসব অনুষ্ঠানে দেখা মেলেনি দেবর-ভাবির। হঠাৎ রওশন ও জিএম কাদেরের এক সাথে হওয়াকে ভালভাবেই দেখছেন নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে অভিভাবকের দায়িত্বে থাকা রওশন এরশাদ ও নেতৃত্বে থাকা জিএম কাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাদের দূরত্বে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এরশাদের জাতীয় পার্টি।


আরো সংবাদ