৩০ মার্চ ২০২০
চসিকে ইভিএম ব্যবহার বন্ধের দাবি

রাজনীতিবিদের ভাষায় কথা বলছে সিইসি : রিজভী

ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার বাংলাদেশের জনগণকে নিজ দেশেই পরাধীন করে ফেলেছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি সভ্য দেশ হলে, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল, নির্বাচন কমিশনের প্রতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। সেটি না করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এখন রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তৃতা দিচ্ছেন। গত রোববার আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বেশরম সিইসি নুরুল হুদা বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারের কাছে না গিয়ে রাস্তায় শোডাউন করেছে। আর সে কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে।’ কিন্তু আমরা বলতে চাই, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ শোডাউন ভোটের প্রচার কার্যক্রমেরই অংশ। ভোটাররা শোডাউনে অংশ নেয় কিন্তু ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যায় না এটার দায় নির্বাচন কমিশনের বেশি। কারণ আওয়ামী লীগের শোডাউন হচ্ছে সন্ত্রাসী শোডাউন। ফের ভোট ডাকাতি করতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোশেনেও (চসিক) ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটাররা ইভিএম ঘৃণ্যভরে প্রত্যাখ্যান করলেও সিইসি চসিক নির্বাচনে ডিজিটাল কারচুপির এই যন্ত্র ব্যবহার করার আবারো ঘোষণা দিয়েছে। তার মানে ঢাকার মতো একই কায়দায় চট্টগ্রামে ভোট ডাকাতির সুযোগ তৈরির জন্য এটা করা হচ্ছে। সিইসির এই সিদ্ধান্তকে আমরা ধিক্কার জানাই। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঔপডনিবেশিক আমলে জনগণের যতটুকু অধিকার ছিল সেটাও আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছে। দেশের জনগণের এখন কোনো অধিকার ও মর্যাদা অবশিষ্ট নেই। নেই ভোটাধিকার। জনগণ বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছে, তাদের ভোটাধিকার হরণের জন্য জনম্যান্ডেটহীন সরকার খোদ নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের পুতুল করে রেখেছে। একবার বিনাভোটে এমপি ঘোষণা দিয়ে সরকার গঠন, আবার নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে সরকার গঠনের পর জনগণের সামনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতালোভী কদাকার চরিত্র স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার ভোটাধিকার হরণের নতুন যন্ত্র ইভিএম নিয়ে মাঠে নেমেছেন সিইসি নুরুল হুদা।

তিনি বলেন, বিতর্কিত এবং ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে সারা বিশ্বে নিষিদ্ধ ইভিএম বাংলাদেশে আমদানি করতে রাষ্ট্রের খরচ হয়েছে শত শত কোটি টাকা। গত ঢাকা সিটি নির্বাচনে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, ইভিএম হলো মহা ভোট চুরির শান্তিপূর্ণভাবে-নিরাপদে-ঝামেলামুক্ত যন্ত্র। অথচ এই ভোট চুরির মেশিনের পক্ষে সাফাই গেয়েই চলছেন সিইসি। কারণ তাদের জনগণের ভোটের দরকার নেই, তাদের দরকার ইভিএম কেনার নামে রাষ্ট্রের শতশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা। অথচ খারাপ মানুষ যাতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে না পারেন, এ জন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত সময়োপযোগী আইন ও বিধি তৈরি করা এবং নির্বাচনের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা যেন জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। সিইসি সেটি না করে সারা বিশ্বে নিষিদ্ধ ইভিএম নিয়ে দেশে হেড মাস্টার সেজেছেন। সিইসির ক্ষমতা পেয়েই নিজের অখ্যাত ভাগ্নেকে যিনি এমপি বানানোর লোভ সামলাতে পারেন না তার মুখে আর ভোট নিয়ে কোনো কথা মানায় না।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথিত সেøাগানের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার সব অর্জন আর মর্যাদা। জনগণকে পরিণত করা হয়েছে একটি আত্মমর্যাদাহীন জাতিতে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি বলেছেন, ‘ভারতের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে দেবে।’ ভারতীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও কাণ্ডজ্ঞানহীন যা, বাংলাদেশের জনগণের জন্য লজ্জাকর ও অপমানজনক। আসলে গত এক দশকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মাথা এতটাই নত করেছে যে এখন আর বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে, বাংলাদেশের জনগণের সম্মান ও মর্যাদার পক্ষে যা হয়েছে তা মর্যাদাহানিকর। বাংলাদেশের সাথে ভারতের কথিত স্বামী-স্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজ তাই বাংলাদেশের জনগণ হেয় হচ্ছে।

‘কে ভোট দিলো, কে দিলো না তা বিবেচনা করে না আওয়ামী লীগ’ গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিলেন, তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া, সরকার গঠনের জন্য জনগণের ভোটের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নিশিরাত আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ সুষ্ঠু ভোট তাদের জন্য আতঙ্ক, তাদের মসনদ উল্টে যাওয়ার ভয়ে তারা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। এই কারণেই আমরা বলি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের জনগণ ক্ষমতাহীন হয়ে যায়। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণ দেশে অনিরাপদ আর বিদেশে আত্মমর্যাদাহীন হয়ে যায়।


আরো সংবাদ