০৫ ডিসেম্বর ২০২০
আগামী শনিবার ফের বিক্ষোভ

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে - ছবি : নয়া দিগন্ত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে ক্ষমতাসীন সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শনিবার ঢাকায় এক সমাবেশে তারা বলেন, এখন একটাই দাবি। সেটা হলো- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। আমরা সরকারকে বাধ্য করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হয়। সভাপতির বক্তব্যে একই দাবিতে আগামী শনিবার আবারো বিক্ষোভ মিছিলের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি হওয়ার দুই বছর পূর্তির দিনে ‘ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসার নির্মম শিকার বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এই সমাবেশ হয়। পুলিশের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। বেলা দুইটায় শুরু হওয়া সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শাসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, মিজানুর রহমান মিনু, ফজুলর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, কাজী আবুল বাশার, এবং ঢাকা সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন। মঞ্চে থাকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বক্তব্য দেননি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, শিরিন সুলতানা, এহছানুল হক মিলন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এমএ মালেক, মীর সরফত আলী সপু, আব্দুল খালেক, শামীমুর রহমান শামীম, সেলিম রেজা হাবিব, রফিক সিকদার, নিপুণ রায় চৌধুরী, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সরোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ফখরুল ইসলাম রবিন, সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল, আসাদুজ্জামান পলাশ, মশিউর রহমান মিশু, জিয়া পরিষদের আব্দুল্লাহিল মাসুদ সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। ফকিরেরপুল মোড় থেকে কাকরাইল নাইটেঙ্গেল রেঁস্তোরার মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঢল নামে। বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে মিছিলে মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্রে রুপ নেয়। নেতা-কর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নানা শ্লোগানের পাশাপাশি সিটি নির্বাচনে ভোটচুরির বিরুদ্ধে ‘শেখ হাসিনা ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর’ স্লোগানও দেয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা অনেক কথা বলেছি, অনেক সভা করেছি, অনেক দাবি জানিয়েছি, নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন আমাদের একটাই কথা- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হবে। সরকারকে বাধ্য করবো, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জনগণের সব অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই হচ্ছে আমাদের এখন একমাত্র কাজ। আন্দোলন ও জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করে মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল হবে। আমরা আবার বলছি অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে আপনাদের কর্মকান্ডের জন্য আপনারাই দায়ী হবেন, জবাবদিহি আপনাদেরই জনগণের কাছে করতে হবে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ, ঠিকমতো হাটতে পারেন না। তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। আর্থারাইটিস বেড়েছে। ঠিকমতো খেতে পারেন না। কমপক্ষে ৬/৭ পাউন্ড ওজন কমে গেছে। দুই বছর সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে আটক রাখা হয়েছে। যাকে মানুষ সার্বভৌমত্বের প্রতীক মনে করে সেই নেতাকে যারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্দি করেছে তাদেরকে এদেশের জনগণ কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

ঢাকা সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মাত্র ১৫% ভোট পেয়ে কোনোদিন মেয়র বা জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। আমাদের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়রদের নির্বাচিত করো। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্বাস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় জনগণের উত্তাল তরঙ্গে আপনারা ভেসে যাবেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীকে গায়ের জোরে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে শুধু কারাগারে রাখা হয়নি, সারা বাংলাদেশকেই কারাগারে রাখা হয়েছে। একটি উদ্দেশ্য আজকের যারা সরকার গায়ের জোরের সরকার, তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আপনারা দেখেছেন ২০১৪ সালে ১০ম সংসদ নির্বাচন জনগণ বয়কট করেছিলো, কেউ ভোট দেয়নি। তারপরও এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসেছে। যখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। এই সরকার মনে করেছে দেশনেত্রী যদি বাইরে থাকেন তার নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাই তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেশনেত্রীকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, যেদিন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী হবে সেই দিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। এরপর কোনো বিচারপতির জন্য তাকে জামিন দেয়া সম্ভবপর? এভাবে বিভিন্নভাবে তারা প্রভাবিত করে আদালতকে। তবে এই অবস্থা চিরদিনের থাকবেনা। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ গণতন্ত্রকে ভালোবাসে, তারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি আসবে। সেইসাথে দেশে গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। সিটি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, যে নির্বাচনে দুইজন মেয়র হয়েছেন তারা মেশিনের মেয়র। আর আমাদের তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন জনগণের মেয়র। তাও আবার তারা মেশিন দিয়েও ২৭% ভোট দেখাতে পারেন নাই। এই নির্বাচনে একটা জিনিস প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ এই সরকার ও এই নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখান করেছে। এই যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া তা কোনোদিনই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না-এটা এদেশের মানুষ আবার প্রমাণ করেছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, এই হায়েনা সরকারের বিরুদ্ধে যেমন চামারের ঘরে পূঁথি পড়ে লাভ নাই। ঢোল বাজাতে হবে, ঢোলের আওয়াজ শুনা যাবে। অনেকে বলেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না। তাদেরকে বলি এই যে সমাবেশ এটাই আন্দোলনের অংশ। ক্ষমতাসীনরা দেশনেত্রীকে ন্যূনতম সম্মান না দিয়ে তিলে তিলে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছেন। আমরা বলব- আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দিন। ইনশাআল্লাহ আজকে যে জনতার টেউ, জনতার মিছিল, বাংলার গ্রামে-গঞ্জে থেকে শুরু হবে এবং শেখ হাসিনার তখতে তাউস নাড়াতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত হবেন। নেতা-কর্মীদের সকল বিভেদ ভুলে নিজ নিজ এলাকায় সংগঠিত হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল ও পুন:নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।


আরো সংবাদ