২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া : বিএনপি

বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া : বিএনপি - ছবি : সংগ্রহ

বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) যে বিবৃতি দিয়েছে সেটাকে মনগড়া ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার বলে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সকলেই অবগত আছে যে এ দেশের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে হত্যার আয়োজন সম্পন্ন করেছেন নিশিরাতের অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে দেখে এসে তার স্বজনরা কান্নাভেজা কন্ঠে জানিয়েছেন, দিন দিন দেশনেত্রীর অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। সারাক্ষণ বমি করছেন। তার গায়ে প্রচন্ড জ্বর। সারাক্ষণ তীব্র ব্যাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। পিজি হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তাঁর যে ভয়াবহ অবস্থা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তার শরীর খুবই খারাপ। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলতে পারছেন না। সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।

রিজভী বলেন, বিএসএমএমইউর পরিচালক দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে গতকাল এক সংবাদ বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতি মূলত শেখ হাসিনারই ফরমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, মুখের ঘা সেরে গেছে, দাঁতের ব্যথা ভালো হয়েছে, শারীরিক দুর্বলতার উন্নতি হয়েছে, আর্থারাইটিসের ব্যথা কমানোর জন্য আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে তাকে পরামর্শ দেয়া হয় কিন্তু দেশনেত্রী নাকি আর্থারাইটিসের চিকিৎসা নিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেননি, ফলে আর্থারাইটিসের আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, পরিচালকের এসকল বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া ও ফরমায়েশী বিবৃতি। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বলেই তো কাদের সাহেবরা বিদেশে চিকিৎসা নেন। শেখ হাসিনা কারাবন্দী থাকা অবস্থায় স্কয়ার কিংবা বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন।

দেশের চারবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে পরিচালকের বিবৃতি গণভবনে তৈরী, আমি এই জীবন্ত কল্পকাহিনীর বিবৃতি ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করছি।
রিজভী বলেন, হাসপাতালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যিনি চিকিৎসক, এধরনের বিবৃতি দিতে পারেন! তাহলে কি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন মিথ্যা কথা বলছেন? তিনি তো মিথ্যা বলার লোক নন। তিনি তার বোনকে দেখে শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দখলদার ভোটলুট, ব্যাংক লুটের সরকার সত্যকে ভয় পায়। তারা কখনোই সত্য প্রকাশ করবে না এটাই স্বাভাবিক। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে সরকারি চাপের মুখে গণমাধ্যমে সব সংবাদ প্রকাশিত না হলেও বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে আসল ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি সুইডেনের সংবাদ মাধ্যম নেত্র নিউজে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া “পঙ্গু অবস্থায়” আছেন এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য তিনি অপরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই তথ্য দিয়েছে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের কাছে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির সাথে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটি পাঠানো হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। পরদিন, অর্থাৎ ১২ই ডিসেম্বর, আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই ভয়াবহ পঙ্গু অবস্থার প্রতিবেদন পাওয়া সত্ত্বেও জামিনের আবেদন বাতিল করে দেয় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে। নেত্র নিউজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটির একটি রিডাক্টেড কপিও (স্পর্শকাতর অংশ ঢেকে দেয়া হয়েছে এমন) প্রকাশ করে। আমরা সরকারকে বলবো- আজই দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে উন্নত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করা হোক। তাকে বেচে থাকার সুযোগ দিন।

গতকাল দুপুরে গোপীবাগ এলাকায় ধানের শীষের প্রচারণায় হামলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর অফিস থেকে সরকারদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা ও গুলি চালালে ইশরাক হোসেনসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরা গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। অথচ পুলিশ উল্টো ১৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মেয়র প্রার্থী ইশরাক ও নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা ভোটের দিন ভোট ডাকাতির পূর্ব-মহড়া। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই হামলা। দেশে যে আইনের শাসনের বদলে পুলিশী শাসন চলছে তা গতকালের হামলা ও মামলায় তা আবারো প্রমাণিত হলো। গতকাল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-দফতর সম্পাদক মোঃ মুনির হোসেন, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য সিরাজুল হক প্রমুখ।


আরো সংবাদ