১১ জুলাই ২০২০

ভারতের অসাড় ও ফাঁকা আশ্বাসের উপর ভরসার কোনো সুযোগ নেই : সাইফুল হক

-

ভারতের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা খুবই উস্কানীমূলক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে সরকারের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতের অসাড় ও ফাঁকা আশ্বাসের উপর ভরসা করার কোনো সুযোগ নেই।

সাইফুল হক আজ সোমবার এক বিবৃতিতে একথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি আসাম ও পশ্চিম বাংলার কথিত নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপির নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ বিরোধী যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে চলেছেন তাতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, বিজেপির নানা স্তরের নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন ভারতের নাগরিকপঞ্জির বাইরে থাকা লাখ লাখ মানুষকে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবার যে হুমকি দিয়ে চলেছে তা দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিদ্বেষী এসব সাম্প্রদায়িক বৈরী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি।

তিনি অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসব প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে বিজেপির এসব শত্রুতামূলক প্রচারণা বন্ধ করার দাবি জানানোর কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসিতে বাদ পড়া ভারতীয়রা কিভাবে নাগরিক হিসাবে নথিভুক্ত হবেন তা একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তিনি বলেন, বিজেপির কোনো কোনো নেতা যেভাবে বাংলাদেশের ভূখন্ড দাবি করে এনআরসি থেকে বাদ পড়ার ভারতীয়দের পুনর্বাসনের কথা বলছেন তা চরম ঔদ্ধত্যমূলক ও আপত্তিকর এবং বিজেপির আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, অনতিবিলম্বে বিজেপির এই সাম্প্রদায়িক প্রচারণা বন্ধ না হলে তা দ্রুত দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটাবে এবং ভারতের মতো বাংলাদেশেও নানামুখী উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে।

তিনি সরকারকে ভারতের প্রতি অনুগত ও নতজানু নীতি পরিহার করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি’র বৈরী ও আধিপত্যবাদী তৎপরতা ও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, সুস্পষ্ট চুক্তি ও সমঝোতা থাকলেও ভারত বা বিএসএফ তা মানছে না। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। বারবার ভারত সরকার আশ্বাস দিলেও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশ এখনও বঞ্চিত। আর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টিতে ভারতের এখনো পর্যন্ত কার্যকরি কোনো ভূমিকা নেই।

বিবৃতিতে তিনি ভারত ও বিজেপির বাংলাদেশ বিরোধী আগ্রাসী ও উস্কানীমূলক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ