০৩ জুন ২০২০

বার্লিনে স্কার্ফ পরিহিত গর্ভবতী নারীকে কিল-ঘুষি

জার্মান মুসলিম নারী - সংগৃহীত

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি স্কার্ফ পরা একজন মুসলিম গর্ভবতী নারীসহ দুই নারীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নিউক্লেন ট্রেন স্টেশনের কাছে। সেখানে ওই ব্যক্তি তার কুকুর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল।

দুই নারী জানান, ওই ব্যক্তি গর্ভবতী মহিলার পেটে ও অন্য নারীর মুখে ঘুষি মারে। পরে দ্রুত সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বার্লিন পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে অভিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি জার্মানদের বৈরী আচরণ বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবল গত বছরই জার্মানিতে মুসলিমদের ওপর ৯৫০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নিহতদের দাফন শুরু

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত সিরিয়ার এক উদ্বাস্তু ও তার ছেলের লাশ সেখানকার মেমোরিয়াল পার্ক কবরস্তানে দাফনের জন্য গতকাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : এএফপি -
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে দুইজনের লাশ শোক আর শ্রদ্ধায় দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার নামাজে জানাজার পর ক্রাইস্টচার্চ মেমোরিয়াল পার্ক কবরস্তানে দাফন করা হয় বাবা ও ছেলেকে। তারা হলেন সিরীয় অভিবাসী খালেদ মুস্তাফা (৪৪) ও তার ছেলে হামজা (১৬)। এর আগে নামাজে জানাজা ও দাফনের জন্য সাদা কাফনে জড়িয়ে তাদের লাশ নিয়ে আসা হয়। ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী, সদ্য খোঁড়া কবরে কিবলামুখী করে তাদের চিরশায়িত করা হয়। তাদের নামাজে জানাজায় অংশ নেন কয়েক শ’ মানুষ। 

নামাজে জানাজা ও দাফনের সময় সেখানে কয়েক শ’ লোক উপস্থিত ছিলেন। টুপি পরা পুরুষদের পাশাপাশি সালোয়ার, কামিজ ও হিজাব পরা অনেক নারীও ছিলেন। এই শেষকৃত্যে যোগ দেয়ার জন্য অকল্যান্ড থেকে ক্রাইস্টচার্চে আসা গুলশাদ আলী বলেন, ‘লাশ কবরে শুইয়ে রাখা হচ্ছে, আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি, খুব কষ্ট হচ্ছে।’ পার্কের ভেতরে একটি এলাকায় ওজু করার ব্যবস্থা করা হয় এবং পুরো এলাকা নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা পুলিশের রিভলভারের হোলস্টারে ও তাদের অত্যাধুনিক রাইফেলে গোঁজা ছিল ফুল।
হামলায় নিহত বাকিদের লাশ গতকাল বুধবারেই হস্তান্তরের কথা। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের এই কবরস্থানেই দাফন করা হবে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২১ জন নিহতকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। বুধবার রাতের মধ্যে শনাক্তকরণ শেষ করার কথা রয়েছে। এই দাফন নিয়ে মিডিয়ার প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যেন সাংবাদিকেরা বিরক্ত না করেন সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দারা বলছেন, ইতোপূর্বে অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসী হামলার কথা শুনেছেন তারা। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের নারকীয় হত্যাকাণ্ড তাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এ হামলার মধ্য দিয়ে নৃশংস এক বর্বরতার সাক্ষী হলো তাদের দেশ, বিশ্ব মানচিত্রে যার পরিচিতি ‘শান্তির দেশ’ হিসেবে। এ ঘটনাকে তারা দেখছেন সহিষ্ণুতার অবসান হিসেবে। হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট এতটাই বেপরোয়া ছিল যে, তার হাত থেকে এমনকি রক্ষা পায়নি দুই বছরের শিশুও। তবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে মসজিদের দরজায় ফুলের তোড়া ও কার্ড নিয়ে হাজির হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শোক আর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন নিহতদের।

মসজিদে রেখে যাওয়া কার্ডগুলোর কোনোটিতে শান্তি ও সহিষ্ণুতার বার্তা। কোনোটিতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে রুখে দেয়ার বার্তা। আবার কোনোটি আবার ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ হিসেবে মেলবন্ধনের। রাস্তায় চক দিয়ে ভালোবাসার বার্তা লিখেছেন অনেকে। একটি কার্ডে লেখা রয়েছে, ‘খুবই মর্মাহত। আমরা সবাই এমন নই।’ আরেকটি কার্ডে লেখা ‘রুখে দাঁড়াও’। ফুলের তোড়ার সাথে দেওয়া চিরকুটে একজন লিখেছেন, ‘পাশেই আছি। তোমাদের কষ্টগুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নাও।’ ক্রাইস্টচার্চের রাস্তায় চক দিয়ে লেখা, ‘ওরা কখনো জিতবে না। ভালোবাসাই বিজয়ী হবে।’

হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮) নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ডানেডিনে বসবাস করতেন। গত শুক্রবার দুই মসজিদে চালানো নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে থাকা ট্যারেন্টকে আগামী ৫ এপ্রিল ফের আদালতে হাজির করা হবে। তখন তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেনসহ বিশ্বব্যাপী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্রেন্টনের প্রোফাইল তৈরি করছে। রাজধানী ওয়েলিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত তা আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি আমি।’
নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের অনেকেই জন্মগতভাবে অন্য দেশের মানুষ। এদের একটা বড় অংশের জন্ম আফগানিস্তান, ভারত, সিরিয়া, জর্দান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে। সব ভেদাভেদ ভুলে এই আল নূর মসজিদেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন তারা।

সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স


আরো সংবাদ