১৭ জানুয়ারি ২০২১
`

ড. কামালের চেম্বারে মির্জা ফখরুলসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

ড. কামালের চেম্বারে মির্জা ফখরুলসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা - সংগৃহীত

ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। 

বৈঠকে আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মহাসচিব তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ৬ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশ উপলক্ষে সেখানে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া প্রথম দফায় সংলাপের পর ছোট পরিসরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আরেকটি সংলাপ করা যায় কি না সে বিষয়েও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আলোচনা করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরেক দফা সংলাপের জন্য চিঠি দেওয়া হবে কি হবে না সে বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত ১ নভেম্বর সাত দফা দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গণভবনে সংলাপে বসেন ঐক্যফ্রন্টের ২০ নেতা।

সংলাপ শেষ না হওয়ায় নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছে  ঐক্যফ্রন্ট। তফসিল পেছানোর দাবিতে শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে চলতি সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আরো পড়ুন : ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না :  ড.কামাল 
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৯

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়নে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন,গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বারবার ষডযন্ত্র হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কেউ রুকতে পারবে না। অপরদিকে শনিবার একিই আলোচনা সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার রাজনৈতিক অবস্থান জানাবেন বলে জানালেও তিনি আর একদিন সময় চেয়েছেন। ড. কামাল হোসেনর কাছে তিনি এসময় চেয়ে জানান তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান কাল সোমবারের মধ্যে জানাবেন। ঐদিন তার রাজনৈতিক অবস্থানের সিদ্ধান্তটি তিনি তাদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়েই জানাবেন। সবাইকে তিনি আর একটি মাত্র দিন অপেক্ষা করতে বলেন।

আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, জনগণের ঐক্য কেউ রুখতে পারবে না। তিনি একাত্তর ও পঁচাত্তরে কাদের সিদ্দিকীর ভ’মিকার প্রসংসা করে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী গণতন্ত্রের সংগ্রামেও তিনি থাকবেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করে কাদের সিদ্দিকী সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ প্রতিবাদ করতে জানে।

অপরদিকে সভাপতির বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার বিষয়ে সুলতান মনসুর আমাকে অনুরোধ করেছেন। আমি তার অনুরোধ ফেলতে পারিনি। আমি বলেছিলাম গতকাল শনিবার ঘোষণা দেব, সাংবাদিকদেরও বলেছিলাম। কিন্তু, আমি একটা দিন সময় নিতে চাই। আগামী পরশু (সোমবার) ঘোষণাটা দেব। তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই সব স্পষ্ট হবে। দলীয় নেতাদের নিয়ে আমি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে যাব। সেখানেই নিজের অবস্থান জানিয়ে আসব।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন,ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন কিছুদিন আগেও হয়তো কোথাও নির্বাচন করলে বিজয়ী হতে পারতেন না। কিন্তু, আজ তিনি সারা দেশের নেতা। টুঙ্গিপাড়ায় দাঁড়ালেও তিনি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন,কয়েকদিন আগে দুই রিকশাওয়ালা ও এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আমাকে ড. কামাল সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন। আমিও চ্যালেঞ্জ করে বলছি, শেখ হাসিনা ড.কামাল হোসেনের সঙ্গে এক আসনে নির্বাচন করলে তিনি পরাজিত হবেনই।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনাদের বিজয় হয়ে গেছে, যেদিন আপনারা সংলাপে গেছেন। কারণ, একদিন আগেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট এ গাছের ছাল, ওই গাছের বাকল দিয়ে গঠিত। ছালবাকলের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়।’

গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ উপলক্ষে ডিনারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সরকার ‘ছোটলোকি’ করে এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এব্যাপাওে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, অদ্ভুত বিষয়, আমরা গণভবনে সংলাপ করছি, সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিল না। কিন্তু খাওয়ার ছবি বের হলো কী করে? কোনো ছবি বাইরে যাওয়ার কথা না। ফেসবুকে ছবি গেল কী করে? তিনি বলেন,পানি খাওয়াবে, চা খাওয়াবে, স্ন্যাক্স খাওয়াবে কে মানা করছে? কিন্তু তারা স্ন্যাক্সের সঙ্গে স্যুপের ছবি দিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে কী বোঝাতে চাইছে? এই নেতারা জীবনে খায়নি, খেতে গিয়েছিল গণভবনে? সরকারটা একটা ছোটলোকের সরকার। না হলে এগুলো করতে পারে না।

তিনি বলেন, সংলাপ কোনো উৎসব নয়। কিন্তু আমরা তো এই কথা বলিনি যে, তার বাসায় জলপানও করব না। এ রকম সম্পর্ক আমরা কখনও চাই না। কী বোঝাতে?

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, জনগণের ঐক্যও কেউ রুখতে পারবে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছরের ইতিহাসে বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কেউ পারেনি, আর কেউ গণতন্ত্রকে হত্যা করতে পারবেও না। একাত্তরের স্মৃতি ধরে রেখে ভবিষ্যতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। অনেক মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও দেশকে এভাবে মূল্য দিতে হচ্ছে। বাঙালিকে কেউ পরাজিত করতে পারেনি, পারবেও না। দেশের মালিক জনগণ। ক্ষমতার মালিক হিসেবে জনগণ মাথা উঁচু করে থাকবে। সকলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, দেশ ও জাতির সঙ্কট নিরসনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট সফল হবে বলে আশা করি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধী জোট থেকে যারা সংলাপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে সফল হয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জনতার পক্ষ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার নজির স্থাপন করেছেন তারা। আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এখন দেশের গনতান্ত্রিক সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হয়েছেন ড. কামাল হোসেন। আমি আশা করি এই ২০১৮ সালে দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট বিরাজ করছে তা থেকে উত্তরণে তিনি সফল হবেন।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মাঠে নেমেছি। জয়লাভ করা ছাড়া ঘরে ফিরে যাবো না। জনগণ যখন মাঠে নেমেছে, তখন আন্দোলনের ফসল ঘরে না তুলে ফিরে যাবে না। দাবি আদায়ে যা যা করা দরকার, তা করা হবে। দেশে নির্বাচন না হলে তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করে আ স ম রব বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে, নিরপেক্ষ সরকার সৃষ্টি না হলে, তার জন্য নির্বাচব না হলে এর দায় দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর সরকারকে বহন করতে হবে। 
এতে আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাসরিন সিদ্দিকী প্রমুখ।

বি চৌধুরী এলেন না

এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভায় বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক বি. চৌধুরী আসেননি। গতকাল এআলোচনা সভায় বি চৌধুরীর যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। সভার একপর্যায়ে কাদের সিদ্দিকী জানান, বি চৌধুরীর এই সভায় আসার কথা ছিল। গতকালও তার সাথে কথা হয়েছে। তিনি তখনো বলেছিলেন তিনি আসবেন। কিন্তু আজ যখন তিনি শুনলেন যে এই সভায় সভাপতিত্ব করছেন ড. কামাল হোসেন, তখন তিনি না আসার সিদ্ধান্ত নেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি বি চৌধুরীর মঙ্গল কামনা করছি, তার দীর্ঘায়ু কামনা করি, তার শুভ বুদ্ধির উদয় কামনা করছি।



আরো সংবাদ