১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

বাঁশ ভালুক : বিরল এই প্রাণী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

বাঁশ ভালুক : বিরল এই প্রাণী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে -

বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুটি বেয়র ক্যাট বা বাঁশ ভালুকসহ কয়েকটি বিরল প্রাণী উদ্ধার করে রেসকিউ সেন্টারে রেখেছে স্থানীয় বনবিভাগ।

সেখানকার রেঞ্জ অফিসার শহীদুল ইসলাম বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে প্রাণীগুলোর পরবর্তী গন্তব্য ঠিক হবে।

এগুলো বিরল প্রাণী। সঠিক পরিবেশ ছাড়া যেখানে সেখানে ছেড়ে দিলে বাঁচবে না। আমরা রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। এগুলো এখন ভালো আছে। পরে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলে একটি ব্যক্তিগত পার্কে বনবিভাগের অভিযানে বাঁশ ভালুক ছাড়াও একটি শকুন ও একটি খাটো লেজা বানর উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসলাম বলছেন এগুলো সবই বিরল প্রজাতির প্রাণী। গবেষকরা বলছেন, বাঁশ ভালুক এখন আর বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না।

বাঁশ ভালুক সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
বন্যপ্রাণী গবেষক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যাপক আ ন ম আমিনুর রহমান বলছেন, বাঁশ ভালুক দেখতে ভালুকের মতো হলেও এটা ভালুক প্রজাতির নয়।

এটি দেখতে কুচকুচে কালো। নিরীহ এবং মুখের সামনে গোঁফের দেখা মেলে। তাকায় খুব ঔৎসুক দৃষ্টিতে।

প্রায় ৮/১০ বছর আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি বাঁশ ভালুক পাওয়া গিয়েছিলো জানিয়ে রহমান বলেন এটি মূলত রাতের প্রাণী এবং এরা কিছুটা লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

দিনের বেলা গাছের কোটরে ঘুমায়। আর রাত হলে নেমে আসে। এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে যেতে পারে।

একটি বাঁশ ভালুক প্রায় ১০ বছর বাঁচে, তবে প্রজনন কাল ছাড়া এরা একাকী চলাচল বা থাকতে পছন্দ করে।

এরা খুব ভালো লাফাতে পারে। আর এদের লেজ খুব নড়ে। আবার দেখতে কুচকুচে কালো হলেও এর গোঁফ সাদা। চোখগুলো সবসময় চকচক করে। সাধারণত কারো ক্ষতি করে না।

বাঁশ ভালুকের গোত্র, কোথায় দেখা মেলে
আমিনুর রহমান বলছেন, এটি ভাইবেরিটি গোত্রের অর্থাৎ ভোঁদড়ের কিছুটা কাছাকাছি এবং বিড়াল বা কুকুর থেকে আলাদা। যত ধরণের খাটাশ, বাগডাশ, গন্ধগোকুল এগুলো হলো ভাইবেরিটি গোত্রের।

তিনি বলেন, এদের শরীর থেকে একটা গন্ধ বের হয় যা থেকে এগুলোকে গন্ধগোকুল গোত্রের বলা যায়। লেজের গোঁড়ায় এক ধরণের গ্র্যান্ড থাকে যা থেকে পারফিউমও তৈরি হয় বলে এরা আক্রমণের শিকার হতো।

রহমান বলেন ক্যাম্বোডিয়া, লাওস, নেপাল, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাঁশ ভালুকের দেখা মেলে।

তবে এখন বাঁশ ভালুক বিরল একটা প্রাণী। মিশ্র চির সবুজ বনে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্ব চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর দেখা মিলতো।

কিন্তু সংখ্যায় খুব বেশি এখন আর নেই, যদিও বাংলাদেশে এর ওপর কোন জরিপ বা গবেষণা কখনো হয়নি।

গেছো ও সর্বভুক এই প্রাণী মানুষকে আক্রমণ করে না কিন্তু অনেক সময় না বুঝে মানুষ এদের মেরে ফেলে। কারণ বাঁশ ভালুক আকারে দেখতে একটু বড়ো হয়, বলছিলেন রহমান।

তিনি বলেন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সঠিক পন্থায় জরিপ হলে বাঁশ ভালুক আছে কি নেই সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


সকল

মেয়ের চিকিৎসায় ১০ দিন ধরে ঢাকার হাসপাতালে থেকেও মন্দির ভাঙার আসামি (১২৯০৫)‘বাতিল হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’ (১২২০৬)প্রধানমন্ত্রী মোদি কি আগামী নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন বলে এখনই টের পেয়েছেন (৯৫৬৯)কাশ্মিরে নতুন করে উত্তেজনা ভারতের তালেবানভীতি থেকে? কেন সেই ভীতি? (৯৪১৪)কাশ্মিরে এক অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় সেনা নিহত (৮০৩৮)৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতেই হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী (৬৬০০)সঙ্কটের পথে রাজনীতি (৫৯৭৭)গ্রাহকদের উদ্দেশে কারাগার থেকে যা বললেন ইভ্যালির রাসেল (৪৮৯৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ (৪৮৬২)কিছু ‘বিভ্রান্তিকর খবরের’ পর বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে ভারত (৪৮২৯)