২৪ জুলাই ২০২১
`

‘বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল না’

‘বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল না’ - ছবি : সংগৃহীত

সংসদ সদস্যরা শুধু ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ বলার জন্য সংসদে আছেন উল্লেখ করে সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন এবারকার বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। তিনি বলেছেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদেরও জাতীয় বাজেট কিংবা সরকারের অন্যান্য নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় না। গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাজেট ডায়লগ -২০২১’ শীর্ষক বাজেট পরবর্তী এক ওয়েবনিয়ার আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় এমপি রুমিন ফারহানা, এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন, এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ সহসভাপতি মো: শহীদুল্লাহ আজিমসহ অনেকে বক্তব্য দেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, করপোরেট কর আরো কমিয়ে ভ্যাট আদায় বাড়ানোর দরকার। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যয় বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগ ও উৎপাদনের স্বার্থে ব্যবসায়ীদের ওপর করপোরেট ট্যাক্সের চাপ আরো কমিয়ে আনা প্রয়োজন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাদের অনুরোধে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অন্তত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধানদের পরামর্শ নিতেন এবং বসে উনি নিজে নোট করতেন। এটাতো এই বছর আর হয়নি। আমার মনে হয় না কোনো কমিটির ওনার (অর্থমন্ত্রীর) সাথে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সিস্টেমে সংসদ আসলে খুব একটা আলোচনার মধ্যে আসে না।

এ সময় অন্যান্য বক্তার বক্তব্যের কথা সুরে তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই বলেন, বাজেট অবশ্যই অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হতে হবে। এখানে যেন অপচয় না হয় সেটা দেখতে হবে। কিন্তু আমরা যে আলোচনা করব, বিতর্ক করব, আমরা যে ডায়লগ করব- এই বেসিসটাতো (ভিত্তি) ঠিক থাকতে হবে। সেটা আমরা কিভাবে করব। সাবের বলেন, এটা না হলে যে সমস্যাটা হয় আমরাতো শুধু সংসদে আছি, হ্যাঁ বা না বলার জন্য। আমরা সংসদে আছি মানুষের যে চাহিদার কথাগুলো আছে সেগুলো ব্যাখ্যা করা এবং তুলে ধরার জন্য। কিন্তু আমরা যদি সেই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত না থাকি তাহলে সেই বিষয়গুলো কেন আসবে।

সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, কোভিড মোকাবেলা ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে যে বিষয়গুলো জায়গা পাওয়ার কথা ছিল, তার অনেকই দেখা যায়নি। প্রাধিকারগুলো এবং করোনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে খুব কম। করোনার কারণে এক দিকে সারাদেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। অন্য দিকে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রায় ৪৫ শতাংশ পেশাজীবী ও কর্মজীবীর আয় কমেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এটা পর্যাপ্ত নয়।

এমতাবস্থায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
সিপিডি বলেছে, করোনা থেকে মুক্তি না পেলে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসবে না। সেজন্য যারা যোগ্য তাদের প্রত্যেককে টিকা দিতে হবে। সে কারণে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ রাখা এবং এই অর্থটা যাতে সুচারুভাবে এবং মানসম্পন্নভাবে ব্যবহার হয় সেজন্য মধ্যমেয়াদে সংস্কার কাজগুলো চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতকে পুরো ঢেলে সাজানো দরকার। অন্য দিকে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

আগের মতোই এ খাতে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন রয়েছে। তাই এটাকে যত বড় দেখা যাচ্ছে আসলে সেটা ততটা বড় নয়। সার্বিকভাবে দুর্বল অনুমিতি ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে কোভিডকালীন বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে এমন অভিমত ব্যক্ত করে সংস্থাটি বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে এবং অনুন্নয়ন বা পরিচালনা ব্যয় সঙ্কোচিত করতে হবে। এ থেকে যা সাশ্রয় হবে তা দিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড . ফাহমিদা খাতুন বলেন, বেশ কয়েক বছরে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমেছে। প্রণোদনা প্যাকেজেও গতি ফেরানো যায়নি। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। শুধু কর ছাড় দিলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। পাশাপাশি অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা, দুর্নীতি রোধ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ৩০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।



আরো সংবাদ