০৭ এপ্রিল ২০২০

রপ্তানী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত, দাম কমবে পেঁয়াজের : কৃষিমন্ত্রী

রপ্তানী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত, দাম কমবে পেঁয়াজের : কৃষিমন্ত্রী - ছবি : সংগৃহীত

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় পেঁয়াজের দাম বর্তমান ১১০টাকা থেকে অবশ্যই আরো কমবে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দু রাজ্জাক।

সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বৃহস্পতিবার তিনি এ ব্যাপারে বলেন, পেঁয়াজের দাম এই মূহূর্তে বেশি। এখন পেয়াজের মৌসুম। তাছাড়া ইতোমধ্যেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানীর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে দাম ১১০ টাকা থাকবেনা। অবশ্যই কমে আসবে।

জাসদের শিরিন আখতারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা পেঁয়াজের ওপর যথেষ্ট গবেষণা করেছি এবং বিজ্ঞানীরা অনেক উন্নতমানের জাত আবিষ্কার করেছে এবং এখন হেক্টরে ২০, ২৫, ৩০ টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব। কাজেই পেয়াজের দাম অবশ্যই কমে আসবে।

সরকারি দলের আয়েন উদ্দিনের পেঁয়াজ সম্পর্কিত অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। যদি আমদানি করতেই হয়, তবে আগে থেকেই আমদানির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজ উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পায় তার জন্য স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে ২৩ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা রয়েছে ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। গত মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতেইপেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অধিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়, আমরা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। সরকার দ্রুত চীন, মিশরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ড. রাজ্জাক আরও জানান, পেঁয়াজের বিষয়টি সরকার এবার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নানা প্রণোদনা প্রদানের কারণে অতীতের তুলনায় এবার অধিকহারে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। এক্ষেত্রে আমরা আমদানি বন্ধ করে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কেৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে পায় সে ব্যবস্থা করবো। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল। ভরা মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজ খুব অল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে পেঁয়াজ উৎপাদনে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আগামীতে এটা যেন না হয় সে ব্যাপারে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ