১৯ জানুয়ারি ২০২১
`

মাদকাসক্তি চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বন্ধের আহবান

মাদকাসক্তি চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বন্ধের আহবান - ছবি : সংগৃহীত

মাদকাসক্তি চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বন্ধের আহবান জানিয়েছে মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক `সংযোগ'।

‘সংযোগ’-এর উদ্যোগে রাজধানীর শ্যামলীস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান নেটওয়ার্কের সদস্যরা।

তারা সঠিক তথ্য প্রমাণের ভিক্তিতে যেসব প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসক মাদকাসক্তি চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করছে তাদের প্রতি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অনুরোধ জানায়।

এদিকে, একজন রোগীর সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে সংবাদ পরিবেশনের জানায় অনুরোধ করেন নেটওয়ার্কের সদস্যরা। তারা বলেন, সম্প্রতি কিছু মিডিয়াতে রোগীর ছবি প্রকাশিত হওয়ায় অনেক অবিভাবক শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

সংযোগ সভাপতি ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংযোগের সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শাহবুদ্দীন চৌধুরী সুমন, সংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রনি, কোষাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শাহীন ও অন্যান্য সদস্যগণ বক্তব্য রাখেন।

সভায় ইকবাল মাসুদ বলেন, ১৯৯০ দশকে বাংলাদেশে মাদক সমস্যা শুরু হয়, যে সমস্যাটি বর্তমান সময়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর এর অন্যতম একটি কারণ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের একটি অন্যতম করিডোর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যবহত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন একটি জটিল বিষয়। কারণ মাদকনির্ভরশীলতার কারণে একজন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আচরন পরিবর্তন হয়ে থাকে যা কখনো কখনো এককভাবে একজন চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরো বলেন, মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসা শুধু মনোরোগের বিষয় নয়, মাদকনির্ভরশীদের চিকিৎসা হয় সমন্বিত প্রচেষ্টায়। এখানে যেমন প্রয়োজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ তেমনি প্রয়োজন কাউন্সিলর, দক্ষ রিকভারী অর্থাৎ সুস্থ্যতাপ্রাপ্ত মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তি ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের। বিশ্বের যে প্রান্তের মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসার দিকে দৃষ্টি দেইনা কেন, সেখানে দেখা যায় প্রতিটি মাদকনির্ভরশীল ব্যক্তিই ভিন্ন প্রকৃতির সমস্যা ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যায়। তাই চিকিৎসা রোগীর ধরণ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়। একটা সমন্বিত দল মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসাসেবায় জড়িত এবং সবার প্রচেষ্টায় একজন মাদক নির্ভরশীলকে সুস্থ্য করে তোলা হয়।

তিনি জানান, এই চিকিৎসায় পেশাজীবী সংকট এবং এই চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক প্রশিক্ষণ ও মানুষের মাঝে নানা রকম ভুল ধারণার জন্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম হয়না। দেশের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং এসমস্থ প্রতিষ্ঠানের সাথে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও চিকিৎসক জড়িত। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দোষী ব্যক্তিদের ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘মাদক প্রতিরোধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি’ সাথে একাত্ম হয়ে সংযোগ সদস্যগণ কাজ করছে। এছাড়া মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে সংযোগ।

 



আরো সংবাদ