ঢাকায় বেপরোয়া ছিনতাই

পুলিশ-প্রশাসন কি এখনো নিষ্ক্রিয়

মানিক মিয়া এভিনিউ রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি। এখানে প্রকাশ্যে ছিনতাই হলে রাজধানীর অন্য জায়গার নিরপত্তার কি অবস্থা, তা সহজেই অনুমেয়। রাজধানীবাসীর নিরপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় পুলিশের চেকপোস্ট বসাতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় রাতে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। গত শনিবার ভোরে বগুড়া থেকে স্বামীর সাথে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসছিলেন এক স্কুলশিক্ষিকা। রিকশা নিয়ে সংসদ ভবনের মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এলে ছিনতাইকারীরা স্কুলশিক্ষিকার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে মহিলা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল রাত সাড়ে ৩টার দিকে কদমতলীর নামা শ্যামপুর এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আরেক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য- নিহত যুবক নিজেও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ছিলেন। গত ৬ জুন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে সোহেলি ইসলাম সোমা নামে অন্য এক নারী আহত হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুন তার মৃত্যু হয়। গত ১৯ মার্চ উত্তরায় ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তা আক্তার নামে অপর এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ছিনতাইকারীদের শিকার হওয়া ঢাকায় এখন নিত্যদিনকার ঘটনা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডিএমপির দেয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, গত সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৭৮টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২টি, মার্চে ২৫টি, এপ্রিলে ২৫টি, মে মাসে ৩৩টি, জুনে ২৪টি এবং জুলাইয়ে ২০টি মামলা হয়েছে। তবে বাস্তবে ছিনতাইয়ের ঘটনা যে এর চেয়েও অনেক বেশি, তা বলাই বাহুল্য।

অতীতে আমরা ঢাকায় সবচেয়ে বেশি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা দেখেছি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই, যখন দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সে সময় এসব ঘটনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-বিশেষত পুলিশ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করা হয়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, পুলিশ-প্রশাসনের এখনো একধরনের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে, যার কারণে ঢাকায় উচ্চহারে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এতে অর্থকড়িসহ কেবল গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারাচ্ছেন না, মানুষের প্রাণহানিও ঘটছে। গুরুতর আহত হচ্ছেন অনেকে।

এক সময় রাজধানীর মানুষের নিরাপত্তার জন্য মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যেত। সন্ধ্যা হলে এসব চেকপোস্ট দিয়ে সন্দেভাজনদের তল্লাশি করা হতো। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের টহল ছিল নিয়মিত। এমনকি গলিতে গলিতেও পুলিশকে মোটরসাইকেল নিয়ে টহল দিতে দেখা যেত। এখন এসব কিছু সেভাবে দেখা যায় না। মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। পুলিশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট ইচ্ছে করে জিইয়ে রাখা হচ্ছে কি না সেই প্রশ্নও আসছে।

মানিক মিয়া এভিনিউ রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি। এখানে প্রকাশ্যে ছিনতাই হলে রাজধানীর অন্য জায়গার নিরপত্তার কি অবস্থা, তা সহজেই অনুমেয়।

রাজধানীবাসীর নিরপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ বিশেষ জায়গায় পুলিশের চেকপোস্ট বসাতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় রাতে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।

পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় হলে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নাগরিকরা প্রাণ হারানোর কথা নয়। তাই পুলিশের ঘাটতির জায়গা শনাক্ত করতে হবে। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের আরো মনোযোগী হতে হবে।