রাষ্ট্রের অধিকার আছে সীমান্ত রক্ষা করার। কিন্তু একইসঙ্গে মানুষেরও অধিকার আছে ন্যায্য প্রক্রিয়া, পরিচয় যাচাই এবং মানবিক আচরণ পাওয়ার। যদি কোনো মানুষকে রাতের অন্ধকারে, পরিচয় যাচাই ছাড়া, দুই রাষ্ট্রের মাঝখানে ফেলে রাখা হয়, তাহলে সে শুধু একটি অবৈধ অভিবাসী নয়; সে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি নৈতিক ব্যর্থতার প্রতীক।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশব্যাক বা পুশইন ঘটনাগুলোকে কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
পুশব্যাক এবং পুশইন শব্দ দু’টি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়। বরং এটি দুই রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিগত সংঘাতের প্রতিফলন। এটিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এখন মানবাধিকার, নাগরিকত্ব, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ঘটনাগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ-নারী, শিশু, শ্রমজীবী অভিবাসী, এমনকি এমন ব্যক্তিরাও যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্টতা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অনেককে বাংলাদেশি বলে দাবি করে সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরে তাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদেরও এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার এবং বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, কিছু মানুষকে হঠাৎ করে সীমান্তবর্তী শূন্য-অঞ্চলে রেখে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তারা কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছে না।
আরও উদ্বেগজনক হলো, কিছু মানুষকে “নো-ম্যানস ল্যান্ড”-এ আটকে পড়তে হয়েছে, যেখানেও তারা কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সমস্যাজনক পরিস্থিতি।
বাংলাদেশের অবস্থান মূলত দু’টি নীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে
১. যদি কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হন, তবে তাকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
২. কিন্তু তা অবশ্যই কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, একতরফাভাবে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেয়া আন্তর্জাতিক রীতি ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি। এই কারণে Border Guard Bangladesh বা বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সাথে একাধিক “পুশইন” প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে।



