৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ - ফাইল ছবি

দক্ষিণ এশিয়ার অবিসংবাদিত নেত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ ৭৬তম জন্ম দিন। তিনি বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। বঙ্গবন্ধু দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বল্পকালীন সময়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বলা যায়, একটি রাজনৈতিক পরিবারে শেখ হাসিনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, যে পরিবারটির স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে একচ্ছত্র ভূমিকা ছিল।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী বিস্তৃত। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে তার পিতার গড়ে যাওয়া দল আওয়ামী লীগ ২১ বছর পরে ক্ষমতায় ফিরে আসে। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে একটি বিরোধীদলবিহীন নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনটি বিরোধী দল কর্তৃক বর্জিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি নির্বাচনে বিজয় লাভ করে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে এই নির্বাচন নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ এই সমালোচনার জবাব দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। শাসনকার্য পরিচালনায় তার দক্ষতার পরিচয় রয়েছে। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের আইকন তুল্য পদ্মা সেতু নির্মাণ সে কথাই জানান দেয়। দেশের স্বার্থে আরো অনেক মেগা প্রকল্প তার সরকার বাস্তবায়ন করছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল যেমন থাকবে তেমনি থাকবে সমালোচনাও। তিনি দৃঢ়ভাবে সমালোচনার জবাব দিয়ে তার কাজে অটল রয়েছেন এবং পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। ফোর্বস সাময়িকীর দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ২০২০ সালে তার অবস্থান ছিল ৩৯তম, ২০১৯ সালে তার অবস্থান ছিল ২৯তম, ২০১৮ সালে ২৬তম এবং ২০১৭ সালে ৩০তম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ফরেন পলিসি নামক সাময়িকীর করা বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০০ বৈশ্বিক চিন্তাবিদের তালিকায় শেখ হাসিনা জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি বিশ্ব নারী নেত্রী পরিষদ-এর একজন সদস্য, যা বর্তমান ও প্রাক্তন নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীদের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন : শেখ হাসিনা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের টুঙ্গিপাড়ায় (বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা) ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি টুঙ্গিপাড়াতে বাল্যশিক্ষা নেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনী বোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয় এবং ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে, ২০০৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের দু’সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গ্রেফতারের সময় শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাসায় পিতার পাশেই ছিলেন। শেখ মুজিবের গ্রেফতারের পর তিনি মায়ের সঙ্গে ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সব সদস্যকে হারান। এটা শুধু তাদের পরিবার নয় বাংলাদেশের জন্যও একটা ট্র্যাজেডি। বোনদ্বয় সেইসময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন। ফলে তারা রক্ষা পান। এরপর তিনি ভারত, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে থাকেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে তিনি ১৯৮১তে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে প্রত্যাবর্তন করেন।

শেখ হাসিনার রাজনীতিতে প্রবেশ : বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী থাকা কালে তিনি রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন। (কলেজটি আগে ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ নামে পরিচিত ছিল।) তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাবা মায়ের অত্যন্ত আদরের কন্যা শেখ হাসিনা এভাবে রাজনীতির পাঠ নেন, বলা যায় ভালোভাবেই নেন। এর প্রমাণ মেলে তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বশীলতার সাথে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে। তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জীবনের একটা বড় সময় জেলে কাটিয়েছেন। ফলে তার একটা প্রভাব তাদের জীবনে তো ছিলই। এর পরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তারা হাসি মুখে সেই দিনগুলো বরণ করে নিয়েছেন। আর তা পেরেছেন বলেই বাবা মা ভাই হারা শেখ হাসিনা শক্ত হাতে রাজনীতির হাল ধরতে পেরেছেন। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ : আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তাকে বেশ ক’টি বছর বিদেশে কাটাতে হয়। ১৯৮১ সালে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন, দলের হাল ধরেন। পরবর্তীকালে তিনি এবং তার দল সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন ও ১৯৯০ সালে কয়েকটি দল ও জোটের অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৮টি সংসদীয় আসন লাভ করে এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯৬ সালে তার দল আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাধ্য করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তার দল আন্দোলনে জয়ী হওয়ায় পরে তার দল জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে এবং ওই বছর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সব সময়ই আপসহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে এবং রায় কার্যকর করে।

শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিক‚লতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ অর্জন করেছে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত হতে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

শেখ হাসিনার অর্জন ও সাফল্য : শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্থসামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল : ভারতের সাথে সাথে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এ ছাড়া তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : দুস্থ মহিলা ও বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তিনিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, পাঁচ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষিদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস।

২০১৪-২০১৮ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ ইত্যাদি।

চতুর্থ মেয়াদে এ পর্যন্ত অর্জিত উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়ন দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্তিকরণ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত এবং ঢাকায় মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু। রাজধানী ঢাকার সাথে বেশ কয়েকটি জেলা শহরের সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ি বহুমুখী প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মিত হচ্ছে। সব বিভাগে আইসিটি পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে। শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : শেখ মুজিব আমার পিতা, ওরা টোকাই কেন?, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা, আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে, মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের, Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

শেখ হাসিনা ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর সভাপতি। এই ট্রাস্টের মাধ্যেমে জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।


আরো সংবাদ


premium cement