৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

মুহাম্মদ সা:-এর স্বাস্থ্যনীতি

মুহাম্মদ সা:-এর স্বাস্থ্যনীতি - ছবি : সংগৃহীত

মুহাম্মদ সা: ছিলেন আল-কুরআনের ভাষ্যকার। তাঁর জীবদ্দশায় জীবনের সর্বক্ষেত্রে কোরআন বাস্তবায়ন করেছেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থায়ও এর ছাপ পড়েছে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমরা জানি, রোগ প্রতিরোধ রোগের চিকিৎসার চেয়ে অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী।

খাদ্যাভ্যাস : আমাদের রাসূল পাকস্থলীর তিন ভাগের এক ভাগ খাবার দিয়ে পূর্ণ করতে বলেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কম আহার করলে হৃদরোগসহ বেশ কিছু রোগ কম হয়ে থাকে। তিনি আরো বলেন, ‘আদম সন্তানের জীবন ধারণের জন্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট’। তবে তিনি সব ধরনের খাবার খেতেন। কোনো কোনো ধর্মীয় স¤প্রদায় আমিষজাতীয় খাবার পরিহার করে। তাতে আমিষ ও কিছু ভিটামিনের অভাবে বেশ কিছু রোগ হতে পারে।

শারীরিক পরিশ্রম : তিনি শারীরিক পরিশ্রম করেছেন। নেতা হয়েও নিজ হাতে মাটি কেটেছেন, পাথর বহন করেছেন, উটের দড়ি টেনেছেন, কবর খনন করেছেন, ঘর ঝাড়ু দিয়েছেন, জুতা সেলাই করেছেন। মানুষকে দূর থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে হেঁটে মসজিদে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, মৃতের লাশ বহনে উৎসাহিত করতেন। তা ছাড়া হজ, ওমরাহ, তারাবিহসহ ধর্মীয় কাজে শারীরিক পরিশ্রম রয়েছে। এমন শারীরিক পরিশ্রম রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ থাকার জন্য সহায়ক।

রোজা : রোগ প্রতিরোধের অন্যতম একটি মাধ্যম রোজা। রমজানের পাশাপাশি সারা বছর সাপ্তাহিক, আইয়ামে বিজের রোজা, মুহররম ও আরাফাতের রোজা ইত্যাদি রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। এতে শরীরের দুর্বল কোষগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় (Autophagy)। এই আবিষ্কারের জন্য একজন জাপানি বিজ্ঞানী নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকার অনেক ডাক্তার উপবাস বা রোজার মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যাপারে রোগীদের উৎসাহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মরমন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় রয়েছে যারা আট বছর বয়স থেকে নিয়মিত রোজা রাখে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে হৃদরোগ ওই দেশের সাধারণ মানুষের চেয়ে কম।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা : আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হতো না। যেমন- ব্রিটিশ রাজা প্রথম জেমস তার জীবনে কখনো গোসল করেননি, ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই ও স্পেনের রানী ইসাবেলা জীবনে মাত্র দু’বার গোসল করেছেন। পরিচ্ছন্নতাকে ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ করে দিয়েছে। রাসূল বলেছেন, ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ঈমান থেকে’। তিনি আমাদের উৎসাহিত করেছেন, যেন আমরা খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধুই, দৈনিক পাঁচবার নামাজের জন্য, কুরআন পড়ার জন্য, এমনকি রাগের সময় অজু করি। সারাক্ষণ অজু অবস্থায় থাকার মধ্যে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। তা ছাড়া রয়েছে জুমার দিনে গোসল ও ফরজ গোসল। এভাবে বেশ কিছু সংক্রামক, চর্মরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। করোনা মহামারীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘন ঘন হাত ধোয়ার উপদেশ আমাদের নবীর কথা মনে করিয়ে দিলো। এ প্রসঙ্গে তার আরেকটি কথা জানা গেল। তিনি বলেন, ‘যখন কোথাও মহামারী দেখা দেয় তখন কেউ যেন ওই এলাকায় না যায় এবং ওখান থেকেও যেন কেউ বাইরে না যায়।’ আমরা যাকে কোয়ারেন্টিন বলছি।

ধূমপান : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ফুসফুসের ক্যান্সার ছিল বিরল। বর্তমানে প্রতি বছর পৃথিবীতে ১৮ লাখ লোক ফুসফুসের ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে থাকে, যার ৯০ শতাংশ কারণ হচ্ছে ধূমপান। হৃদরোগের ২৫ শতাংশ কারণও হচ্ছে ধূমপান। ২০২০ সালে শুধু সিগারেটের কারণে পৃথিবীতে মৃত্যুবরণ করেছে ৮০ লাখ লোক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’। (কুরআন ২:১৯৫) ‘আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না’। (কুরআন ৪:২৯)

পান সুপারি : এটি নেশা উৎপাদনকারী বস্তু। ভারতীয় উপমহাদেশে সুপারিতে মুখের ও খাদ্যনালীর প্রচুর ক্যান্সার (৩৫ শতাংশ ক্যান্সার) হয়ে থাকে। তা ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি অঙ্গকে সুপারি ক্ষতি করতে পারে। চুনের কারণে হাইপারক্যালসেমিয়া, কিডনি ইনজুরি ও কিডনিতে পাথর হতে পারে। আর জর্দা ও গুলের ক্ষতি সিগারেটের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি। অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সুপারির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা : রাসূল সা: বলেছেন, দু’টি নিয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ আত্মপ্রতারণার নিমজ্জিত- স্বাস্থ্য ও সময়।’ (বুখারি) তিনি আরো বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করো, কারণ ঈমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে বড় কোনো নিয়ামত আর কিছু নেই’। (তিরমিজি, নাসায়ি)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ এমন রোগ সৃষ্টি করেননি যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি’। একজন বেদুইন রাসূলের কাছে জানতে চাইলেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেবে নাকি তাকদিরের ওপর ভরসা করে বসে থাকবে। তিনি তাকে চিকিৎসা নিতে বলেন। আমাদের সমাজে অনেক স্বঘোষিত ডাক্তার আছে যারা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছাড়া দোকান, চেম্বার খুলে বা রাস্তাঘাটে অপচিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।

মানসিক সুস্থতা : যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বহির্বিভাগে যেসব রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন তাদের ৭০ শতাংশেরই শারীরিক কোনো রোগ নেই। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অনেক রোগী বা মানসিক অশান্তির কারণে অনেকে আত্মহত্যা করে বসে। জাপানে শুধু ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করেছে ২১ হাজার ৩২১ জন।

অহঙ্কার রাগ গালমন্দ : রাসূল সা: বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। (মুসলিম) রোগী বা ডাক্তারের মধ্যে অহঙ্কার, ক্রোধ ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসা-কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রাসূল সা: বলেছেন, ‘কুস্তিতে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে জয়লাভ করাতে বীরত্ব নেই। ক্রোধ ও গোস্বার মুহূর্তে নিজেকে সংবরণ করতে পারাই প্রকৃত বীরত্বের পরিচয়।’ (বুখারি) ক্রোধের কারণে কোনো কোনো রোগ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, যেমন- স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি।

দাওয়াই ও দোয়া : চিকিৎসার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে রোগমুক্তির জন্য সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর ওপর সার্বিক নির্ভরশীলতা রোগীর মনে প্রশান্তি এনে দেয় ও হতাশা দূর করে। একটি গবেষণা হয়েছে যেখানে এক গ্রুপ রোগী জানত যে, তাদের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। অন্য গ্রুপের জন্য কেউ প্রার্থনা করেনি। তাতে চিকিৎসায় প্রথম গ্রুপের ওপর উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে।

সামাজিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ : গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে বিত্তবানদের চেয়ে দরিদ্রদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। কারণ হচ্ছে, চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগতা। রাসূল সা: দারিদ্র্য দূরীকরণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। জুয়া, লটারি, চুরি, ডাকাতি কঠোর হস্তে দমন করেছেন। সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর জাকাতকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দান সাদাকাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

মানুষ হত্যা, আত্মহত্যা ও ভ্রূণহত্যা : মহান আল্লাহ এগুলোকে কঠোর ভাষায় নিষিদ্ধ করেছেন।
বৈরাগ্যবাদ, চিরকুমারিত্ব : ইত্যাদি সুস্থ মন ও দেহের জন্য হুমকিস্বরূপ। কোনো কোনো ধর্মে চিরকুমার-কুমারী থাকাকে আধ্যাত্মিকতার নিদর্শন মনে করা হয়। রাসূল সা: এ ধারণা দূর করে দেন । তিনি বলেন, ‘স্ত্রীলোক ও সুগন্ধি আমার কাছে প্রিয় করা হয়েছে। আর নামাজ হচ্ছে আমার চক্ষু শীতলকারী।’

বিয়ে ও বিয়েবিচ্ছেদ, অবৈধ যৌনাচার : বিয়ের মধ্যে আল্লাহ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। রাসূল সা: বলেন, ‘হে যুবসমাজ তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে নিচু করে রাখে এবং যৌনজীবনকে সংযমী করে, আর যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোজা পালন করে। কেননা, রোজা তার যৌন কামনা কমিয়ে দেয় ।’ (বুখারি) পরকীয়া প্রেম, অবৈধ যৌনাচার সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি যৌনরোগের কারণ। এইডস আফ্রিকার অনেক দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। রাসূল সা: বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল হচ্ছে তালাক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে বিচ্ছেদের হার ৫০ শতাংশ। এর ফলে সন্তানদের মধ্যে মানসিক সমস্যা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

ভেজাল খাবার ও ধোঁকা দেয়া : রাসূল সা: খাবার বা কোনো পণ্যের দোষত্রুটি থাকলে তা ক্রেতাকে অবহিত করতে বলেছেন। অথচ আমাদের দেশে ভেজাল খাবার ও নিম্নমানের ওষুধের সয়লাবে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ওপর অস্ত্র উত্তোলন করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে আমাদের ধোঁকা দেয়, সেও আমাদের লোক নয়।’ (মুসলিম)

পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষনিধন ও রোপণ : স্বাস্থ্যরক্ষায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং পরে সেই পানিতে গোসল না করে।’ তিনি কাঁটা বা অপ্রিয় জিনিস মানুষের চলার পথ থেকে সরানোকে ঈমানের একটি অংশ সাব্যস্ত করেছেন। যুদ্ধের সময়ও ফলবান বৃক্ষ কাটতে তিনি বারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো মুসলিম কোনো বৃক্ষরোপণ করলে সে বৃক্ষের ফল থেকে যদি মানুষ ও জীব-জন্তু খায় তাহলে তা তার জন্য সাদাকা হয়ে যাবে’। একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে থাকেন, চিকিৎসা দেন না। আমাদের রাসূলের স্বাস্থ্যনীতি শুধু তাত্তি¡ক বা ওয়াজ নসিহতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা সমাজে তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন। একজন অমুসলিম ডাক্তার (সম্ভবত হারিস বিন কালাদা) মদিনায় চিকিৎসা করতে এলেন। বেশ কিছু দিন মদিনায় অবস্থান করার পর কোনো রোগী পাওয়া গেল না। কারণ জানতে চাইলে রাসূল সা: বললেন, ‘আমরা ক্ষুধার্থ হলে খাবার খাই ও ক্ষুধার্থ অবস্থায় খাওয়া বন্ধ করি’।

কালোজিরা, রক্তমোক্ষণ ইত্যাদি : বুখারি শরিফে ‘কিতাবুত তিব’ অধ্যায়ে রাসূলের চিকিৎসাসংক্রান্ত বেশ কিছু হাদিস আছে যা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা কঠিন। যেমন- কালোজিরা, রক্তমোক্ষণ, চন্দনকাঠ, আগুন দিয়ে দাগ লাগানো, উটের পেশাব দিয়ে চিকিৎসা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে খেজুরগাছের পরাগায়ন সংক্রান্ত হাদিসটি গুরুত্বপূর্ণ। মদিনায় হিজরতের পর রাসূলের পরামর্শে আনসাররা খেজুরগাছের পরাগায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। তাতে খেজুর ফলনে মন্দাভাব দেখা দেয়। তখন তিনি বললেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে আমি যদি কিছু বলি তা মেনে নাও, আর দুনিয়ার ব্যাপারে আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ (অর্থাৎ আমারও ভুলভ্রান্তি হতে পারে)’। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ ড: ইউসুফ আল কারজাভীর অভিমত প্রণিধানযোগ্য। তিনি কুরআনের একটি আয়াতকে উপমা হিসেবে পেশ করেন যেখানে বলা হয়েছে- ‘সদাসজ্জিত ঘোড়া শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত করে রাখো যেন তাদের ভীতশঙ্কিত করতে পারো।’ (কুরআন ৮:৬০) এখানে স্থায়ী উদ্দেশ্য হচ্ছে- শত্রুকে প্রতিহত করা আর অস্থায়ী উপরকরণ হচ্ছে ঘোড়া যার স্থান দখল করেছে বর্তমানে ট্যাংক, কামান ইত্যাদি। তিনি বলেন, ‘সুন্নাহকে বুঝতে সন্দেহ ও ভুলের যেসব কারণ ঘটে তা হচ্ছে এই যে, কিছু লোক স্থায়ী উদ্দেশ্য ও অস্থায়ী উপকরণগুলোকে (যেমন- কালোজিরা, আজওয়া খেজুর ইত্যাদি) গুলিয়ে ফেলে’।

আমি মনে করি, এসব ব্যবস্থাপত্র রাসূল সা: প্রদত্ত ওষুধের মর্ম নয়। বরং এর মর্ম হচ্ছে- মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও পীড়িত হলে চিকিৎসা। এর মর্ম এই যে, চিকিৎসা নেয়া তাকদিরে বিশ্বাসের পরিপন্থী নয়, না আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভরশীলতার বিপরীত। এর অর্থ হচ্ছে- প্রত্যেক রোগের চিকিৎসা আছে যা নেয়া সুন্নাত। উপায় ও উপকরণ সময়ে পাল্টায় (যেমন- রক্তমোক্ষণ ও কালোজিরার স্থান নিয়েছে আধুনিক চিকিৎসা) কিন্তু উদ্দেশ্য একই রয়ে গেছে। (সুন্নাহের সান্নিধ্যে, ড. ইউসুফ আল কারজাভি)

লেখক : মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ


আরো সংবাদ


premium cement