১৩ আগস্ট ২০২২
`

ধর্ম অবমাননা সমস্যার সমাধান

ধর্ম অবমাননা সমস্যার সমাধান - প্রতীকী ছবি

ভারতের শাসক দলের ইসলামবিরোধী নীতির কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ঝড় থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল, বিজেপির দুজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। ইরান থেকে সৌদি আরব পর্যন্ত ভারতের কৌশলগত অংশীদার ভাবা হয় যে দেশগুলোকে, তারাও স্বয়ং মোদির কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করেছে।

আমরা দেখেছি, বিজেপির নেতাদের হৃদয়ে আঘাতকারী বক্তব্যের বিরুদ্ধে শুধু পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিশাল বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ক্র্যাকডাউন করে পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করেছে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যে পুলিশ মুসলমান বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে যারা শহিদ হন, তাদের মধ্যে ১৫ বছরের ছাত্র মুদ্দাসসির আলমও রয়েছে।

দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রের পরীক্ষার ফল তার শাহাদাতের দুই সপ্তাহ পর প্রকাশ হয়। সে এ গ্রেড পেয়েছে। ভারতে শাসকগোষ্ঠী অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ভারতীয় মুসলমানদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ সব কিছু কয়েক বছর ধরে চলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যদি মোদি ক্ষমা প্রার্থনাও করেন, তবুও এটা ভারতে মুসলমানদের ভবিষ্যৎকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়। ইসলামোফোবিয়া শুধু ভারতেরই বিষয় নয়, বরং এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। আমেরিকার বাফেলো শহরের সুপারমার্কেটে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের গুলিতে ১০ জন নিহত হওয়ার বিষয়টিও ইসলামবিরোধী পাশাপাশি ইহুদিবিরোধী আবেগে পরিপূর্ণ। কানাডার মুসলমান এখনো গত বছর অন্টারিওতে নিহত চার ব্যক্তির জন্য চোখের পানি ফেলেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত ইসলামের অনুসারীদের ইসলামোফোবিয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমি পাশ্চাত্যের এমন কিছু লোককে চিনি, যারা এ ইস্যুটাকে এড়িয়ে যাওয়াকে প্রাধান্য দেবে।

কিছু লোকের বক্তব্য হচ্ছে, ধর্ম অবমাননা (ব্লাসফেমি) স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিহত করতে গেলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আমরা কি এটা উপেক্ষা করতে পারি? নেদারল্যান্ডসের অন্যতম পার্লামেন্ট সদস্য গেরট ওল্ডার প্রকাশ্যে রাসূলুল্লাহ সা:-এর শানে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বেয়াদবিমূলক বক্তব্যের সমর্থন করেছেন। অতীতে নিজ দেশেই ওল্ডারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। নূপুর শর্মার জন্য তার সমর্থনকে প্রাচ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদের সাথে পাশ্চাত্যের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীর ঐক্য হিসেবে ধরে নেয়া হচ্ছে। যে সময় বিজেপির পদাধিকারী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ধর্ম অবমাননামূলক বক্তব্য দেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে, সে সময় আমি ব্রিটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সফরে ছিলাম। আমি বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিই। বিষয় ছিল, কিভাবে ব্রিটিশ শাসনামলের তৈরি করা আইন এখনো দক্ষিণ এশিয়ার ভাগ্যের ফায়সালা করছে।

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের হলে আজো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছবি ঝুলছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে সত্তরের দশকে তিনি এই হলে কয়েকটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। তিনি তার শেষ গ্রন্থ Reconciliation-এ (প্রকাশকাল ২০০৮) রবার্ট স্পেনসারের মতো মার্কিন লেখকদের সমালোচনা করেছেন, যারা ইসলামের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়িয়ে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের বিরুদ্ধে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেন।

বেনজির সর্বদাই সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনার পক্ষে ছিলেন। আমিও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন হলে এমন কিছুই করলাম। আমি চেষ্টা করলাম, যাতে প্রমাণপঞ্জির মাধ্যমে সহায়তা করা যায়। আমি বিদ্রোহ সম্পর্কিত আইনসহ (১২৪ এ) ব্রিটিশ যুগের আরো কিছু আইনের উদ্ধৃতি দিলাম, উপমহাদেশে ১৮৬০ সালে যেগুলোর পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমি দাবি করলাম, নব্য ঔপনিবেশিক যুগের এই উত্তরাধিকারের পরিসমাপ্তি হওয়া উচিত। কয়েকজন ভারতীয় আলোচক আমার মতামত সমর্থন করলেন। পরিশেষে হাউজে প্রস্তাব গৃহীত হলো- ব্রিটিশ রাজ এখনো বেঁচে আছে।

বিতর্ক অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের এক ছাত্রী আমাকে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইন নিয়ে প্রশ্ন করল, আপনার অভিমত অনুযায়ী নব্য ঔপনিবেশিক যুগের এই আইনেরও পরিসমাপ্তি হওয়া উচিত।

আমি ওই ছাত্রীকে পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা আইনের প্রেক্ষাপট বুঝালাম। আমি তাকে বললাম, এতে সন্দেহ নেই যে, পাকিস্তানে বর্তমান ধর্ম অবমাননার আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে যার ব্যাপারে আমার নিজেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা পাকিস্তানে আমার বিরুদ্ধে, আমার টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে এবং কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আরোপ করে, যাতে বিরোধী কণ্ঠকে রুদ্ধ করা যায়। তথাপি ধর্ম অবমাননা (যাকে বিশেষভাবে ইসলামোফোবিয়ার মতো ব্যাপকতর সমস্যার বিষমিশ্রিত প্রকাশ মনে করা হয়) মারাত্মক স্পর্শকাতর বিষয়। এটাকে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করা উচিত।

ব্রিটেন সফরের সময় কয়েকজন মুসলিম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সাথেও সাক্ষাৎ হয়। সবাই আমাকে ব্রিটিশ তরুণ মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া উগ্রপন্থা সম্পর্কে সংশয়ের সাথে অবহিত করলেন। তাদের বক্তব্য, এই উত্তাল ঢেউয়ের কারণ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া (যেখানে মাঝে মাঝে ইসলামের বিরুদ্ধে মারাত্মক আক্রমণাত্মক কথা বলা হয়)।

গবেষণায় জানা যায় যে, ধর্ম অবমাননার ব্যাপকতা এবং তার প্রতি সমর্থন ও অনুমোদন সহিংসতা ও উগ্রতা ছড়িয়ে দিতে পারে। এটা একটি কারণ যে, মুসলিম দেশগুলো গত এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধর্ম অবমাননাবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করে আসছে। পাশ্চাত্যে ধর্ম অবমাননা বা হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ইসলামবিদ্বেষী পদক্ষেপগুলো সর্বদাই মুসলিম দেশগুলোতে চরমপন্থী শক্তিগুলোকে শক্তি জোগায়। এ ইস্যুটাই আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিকে ক্ষতবিক্ষত করে ভারতে ধর্ম অবমাননার সর্বশেষ ঘটনার মাধ্যমে সেই চরমপন্থী শক্তিগুলোকে সুদৃঢ় করা হয়েছে, যারা ইসলামোফোবিয়ার জন্য পশ্চিমাকে দায়ী করে। যদি পশ্চিমা দেশগুলো এভাবেই সমস্যাকে উপেক্ষা করার ধারা অব্যাহত রাখে, তাহলে এটা বাড়তেই থাকবে। যদি এ প্রবণতার ছড়িয়ে পড়াকে রোধ করা না যায়, তাহলে চরমপন্থার নতুন ঢেউ আসার আশঙ্কা রয়েছে।

অগ্রসর হওয়ার একটা পথ আছে। চলতি বছরের শুরুতে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করে ১৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই তারিখ বেছে নেয়ার পেছনেও সুনির্দিষ্ট যুক্তি রয়েছে। কেননা ওইদিন ডানপন্থী সংগঠনের এক উগ্রপন্থী নিউজিল্যান্ডে গুলি করে ৫০ জন মুসলমানকে শহিদ করেছিল। পাকিস্তান ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি পেশ করে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসিফ আলি জারদারি, শাহিদ খাকান আব্বাসি ও ইমরান খান ২০১২, ২০১৭ ও ২০২১ সালে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বারবার ধর্ম অবমাননা ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পাকিস্তান ২০০৯ সালে জাতিসঙ্ঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে ধর্ম অবমাননার নিন্দা জানিয়ে প্রথমবার প্রস্তাব পেশ করেছিল। কিছু মানুষ বলবেন, এমন সদিচ্ছামূলক পদক্ষেপের দ্বারা উপকার কমই হয়। অধম এ কথার সাথে একমত পোষণ করে না। জাতিসঙ্ঘের সহায়তায় গঠিতব্য প্রক্রিয়া কাজে আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ধর্ম অবমাননাকে বিদ্বেষনির্ভর অপরাধ অভিহিত করতে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা যেতে পারে। জাতিসঙ্ঘের মঞ্জুরকৃত মাপকাঠি এমন সব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হয়ে সামনে আসতে পারে, যারা নিজস্বভাবে আইন তৈরি করতে যাচ্ছে। গত ১৮ জুন জাতিসঙ্ঘের মঞ্জুরকৃত, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে টু কাউন্টার হেট স্পিচ) পালন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় জাতিসঙ্ঘের প্রস্তুতকৃত কর্মপরিকল্পনা এমন, যা বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি না করে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা সমস্যা সমাধানের একটি প্রচেষ্টামাত্র। কিন্তু বিশ্বকে আরো কিছু করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এমন এক আচরণবিধি প্রকাশ করতে হবে, যেখানে ইসলামসহ প্রতিটি ধর্ম ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের নিন্দা করতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি আলোচনার প্রয়োজন যেখানে সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সংস্কৃতি প্রচারের গুরুত্ব দেয়া হবে। এর ভিত্তি হবে মানবাধিকার, ধর্ম ও বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস। এ ধরনের পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য একটি ভালো মডেল ইতোমধ্যে বিদ্যমান। এটাকে বলা হয় ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়া।

২০১১ সালে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিল একটি প্রস্তাব পাস করেছিল, যার কারণে মুসলিম দেশগুলো এবং আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মাঝে আলোচনার ভিত তৈরি হয়, যা এখনো চলমান। এ দেশগুলো ধর্মীয় বৈষম্যের মূল কারণগুলো মোকাবেলা করতে এবং সহিংসতা প্ররোচনাকে অপরাধকরণের জন্য উত্তেজনা চিহ্নিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। আমি মনে করি, পাকিস্তান ও ইসলামী সম্মেলন সংস্থার অপর ৫৬টি দেশগুলোর ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, যাতে সব ধর্মের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করা যায়।

মুসলমানরা যদি চায় অন্যরা তাদের নবীর সম্মান করবে, তাহলে আগে তাদের নিজেদের নবীর শিক্ষার অনুসরণ করতে হবে। হজরত মুহাম্মদ সা: সহনশীলতার প্রচার করেছেন। তিনি মুসলমানদের অন্য ধর্মকে সম্মান করতে বলেছেন। একবার তো তিনি বিশপসহ খ্রিষ্টান প্রতিনিধি দলকে মসজিদের ভেতর উপাসনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে কিছু মানুষ করাচিতে একটি মন্দিরে হামলা করেছে। তারা দাবি করেছে, তারা ভারতে ছড়িয়ে পড়া নিন্দামূলক বক্তব্যের প্রতিশোধ নিচ্ছে। এ হামলা ইসলামী শিক্ষাবিরোধী। মুসলমান নেতাদের উচিত, মন্দির ও গির্জার ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করা।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে অবশ্যই অমুসলিমদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। তাদের উচিত, তারা এমন এক রোলমডেল হয়ে আবিভর্‚ত হবে, যার কারণে তাদের ইসলামের অধীনে মানবাধিকার রক্ষাকারী দেশ বলা হবে। শক্তি দিয়ে সম্মান অর্জন করা যায় না। ইসলামের প্রকৃত বাণী বিস্তারের মাধ্যমেই সম্মান অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে নতুন আচরণবিধি বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা উচিত নয়। ওআইসির উচিত, ধর্ম অবমাননা আইনের ভুল ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দূর করা। এ উদ্বেগ শুধু মুসলিম দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়।

২০১৯ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি গবেষণা পরিচালনা করে। তাতে দেখা গেছে যে, বিশ্বের প্রতি চার দেশের একটি দেশে ধর্ম অবমাননা বা ধর্ম ত্যাগের আইন রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ভারসাম্য অর্জনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে মৌলিক সমস্যা সমাধান করা আবশ্যক।

এটাও একটা সমস্যা যে, পশ্চিমা দেশগুলো যে সময় ধর্ম অবমাননার আইন বাতিল করে চলেছে, সে সময় মুসলিম দেশগুলো জাতিসঙ্ঘের কাছে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করে যাচ্ছে। উভয়ে চলছে উল্টোপথে। এ পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। আমাদের সভ্যতার সংঘর্ষ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের একটা সংলাপ দরকার। বেনজির ভুট্টো সভ্যতার সঙ্ঘাত থেকে বাঁচার জন্য একটি সৎ সংলাপের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি তার শেষ গ্রন্থটি এই বলে শেষ করেছেন যে, এখন নতুন ভাবনার সময়। এখন সৃজনশীলতার সময়। এখন সাহসী প্রতিশ্রুতির সময়। এখন উভয়ের মধ্যে এবং মানুষের মধ্যে সততার সময়।

পাকিস্তানের জাতীয় পত্রিকা দৈনিক জং ২৩ জুন, ২০২২ হতে ভাষান্তর ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
ahmadimtiajdr@gmail.com
লেখক : পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আরো সংবাদ


premium cement

সকল