১৮ মে ২০২২, ০৪ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩
`

ব্যাপারটা ভাবা দরকার

-

দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তারা দেশ-সমাজ ও পরিবারের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। পুরুষের পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করে থাকেন। আমাদের দেশের নারীরা সাধারণত বাসাবাড়িতেই নামাজ আদায় করেন। কিন্তু একজন নারী ঘরের বাইরে গেলে সময়মতো নামাজ আদায় করতে পারেন না। বিশেষ করে যখন কোনো ধর্মপ্রাণ দম্পতি ঘরের বাইরে বের হয় তখন সঙ্গী পুরুষ নামাজ পড়তে পারেন। কিন্তু একজন নারী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় নামাজ পড়তে পারেন না। আমাদের দেশে বিপণি বিতানের হিসাব নেই। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও থানাপর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বিপণি বিতান, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি রয়েছে। এসব জায়গায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মহিলা কর্মজীবী রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিপণি বিতানের বেশির ভাগ গ্রাহকই নারী। কিন্তু এসব জায়গায় স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হল-হোস্টেল, হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রেলস্টেশন, মার্কেট, টার্মিনাল-স্টেশন, যানবাহন-যাত্রাপথ, বিনোদনকেন্দ্র, পর্যটন স্পট, বিমানবন্দর, হাইওয়ে রোড- সব জায়গায় মহিলারা কমন একটি অসুবিধার মধ্যে পড়েন। তা হলো- তাদের জন্য নামাজের জায়গার ব্যবস্থা না থাকা। অথচ এসব জায়গায় যারা যাতায়াত করেন তাদের উল্লেøখযোগ্যসংখ্যক মহিলা নামাজ পড়েন। কিন্তু তাদের জন্য নামাজের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরকে নামাজ কাজা করতে হয়।

রাজধানী ঢাকাকে ‘মসজিদের শহর’ বলা হয়। অথচ বেশির ভাগ মসজিদে নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা নেই। রাজধানী ঢাকায় সর্বসাকুল্যে প্রায় ১৫-২০টির মতো মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই কোটি জন-অধ্যুষিত ঢাকা মহানগরীর হাতে গোনা কয়েকটি মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা-কতটুকু অপ্রতুল তা সহজেই অনুমেয়। উপরে উল্লিখিত যেসব জায়গার কথা বললাম সেগুলোর দু-একটি জায়গায় নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও নামাজ পড়ার মতো নয়। এই জায়গাগুলো নোংরা, নামাজ পড়ার চাদর এত নোংরা থাকে, সেখানে সিজদা দেয়ার আগে দুইবার চিন্তা করতে হয়।

বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে প্রত্যেকটি নাগরিকের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার আছে। এটি সবার নাগরিক অধিকার। অথচ সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও নারীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন না। অপর দিকে আমাদের দেশে অনেক মহিলা আছেন যারা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে চান। মসজিদে নামাজ পড়া কিন্তু ইসলামের প্রথম দিন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত একটি অধিকার হিসেবে তারা ভোগ করেছেন; কিন্তু তাদের নামাজের ব্যবস্থা না থাকার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা মসজিদে যেতে পারেন না; জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ পড়তে পারেন না। সুতরাং মহিলাদের নামাজ পড়ার সুবিধার্থে বিপণি বিতান থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, মার্কেট, টার্মিনাল-স্টেশন, যানবাহন-যাত্রাপথ, বিনোদকেন্দ্র, পর্যটন স্পট, স্টেডিয়াম, হল-হোস্টেল, হাইওয়ে মসজিদগুলোতে নামাজের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ যেখানে নারী, সেখানে নারীদের জন্য এই অসুবিধা অস্বীকার করা যায় না।

নামাজ আমাদের জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। যে পরিবারে নামাজের প্রচলন নেই সে পরিবার কিংবা বাড়ি বিরান বাড়ির মতো। যে পরিবারে সঠিকভাবে নামাজের পরিচর্যা নেই, সেই পরিবারে শান্তির সুবাতাস বিরাজ করে না; বরং প্রায়ই অশান্তি দেখা দেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি সুশৃঙ্খল আদর্শ পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর। নামাজ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর অভাব সুশঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তির ভ‚মিকেই দুর্বল করে দেয়। ব্যাপারটি সবাইকেই ভেবে দেখার অনুরাধ করছি।
লেখক : অধ্যাপক ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ
Email- shah.b.islam@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement