২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

তালেবানের দুই প্রজন্মের সাথে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপাখ্যান


পঁচিশ বছর আগে আমাকে তালেবান মিলিশিয়ার সাথে এই বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, এ আফগানিস্তানে ‘পাইপলাইন পুলিশের’ দায়িত্ব পালন করবে। ওই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তালেবানের সাথে আমার যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, যিনি তালেবানকে সহায়তা করার জন্য তার সরকারের বিরুদ্ধে আমার সমালোচনায় অস্থির ছিলেন। তিনি তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিরুল্লাহ খান বাবরকে বলেন, সে আমাকে তালেবান সম্পর্কে তথ্য জানাবে। বাবর পাকবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। তিনি আমার সামনে কয়েকবার স্বীকার করেছেন, তিনি কয়েকজন প্রসিদ্ধ আফগান বিদ্রোহী যেমন আহমদ শাহ মাসউদ, বুরহানুদ্দিন রাব্বানি, গুলবু-দীন হেকমতিয়ারকে ১৯৭৫ সালে ফ্রন্টিয়ার কোরের আইজি হিসাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর (বেনজির ভুট্টোর পিতা) নির্দেশে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। বাবর আমাকে বলেছেন, তিনি ১৯৭৫ সালে আফগান বিদ্রোহীদের সহায়তা শুরু করেন। কারণ, সর্দার দাউদের নেতৃত্বে আফগান সরকার ভারতের সাথে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা করছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও আমেরিকা তালেবানকে সহায়তা করছে। কেননা আমেরিকান তেল কোম্পানি ইউনোকল তালেবানকে ‘পাইপলাইন পুলিশ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

জালমে খলিলজাদ (যিনি ২০২০ সালে মোল্লা বারাদারের সাথে দোহাচুক্তিতে দস্তখত করেন) ১৯৯৭ সালে আমেরিকায় অবস্থিত ইউনোকল কোম্পানির দফতরগুলোতে তালেবান নেতাদের সফরের ব্যবস্থা করেছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ওকলে ও হামিদ কারজাইও সে সময় ইউনোকলের জন্য কাজ করেছিলেন। নাসিরুল্লাহ বাবর আমাকে বলেন, ইউনোকল ১৯৯৫ সালে তালেবানকে কান্দাহার ও কোয়েটার মাঝে যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সরবরাহ করেছিল। ইউনোকল চেয়েছিল, তালেবান তুর্কমেনিস্তান থেকে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানগামী গ্যাস পাইপলাইনের নিরাপত্তা দেবে।

মরহুম মোল্লা উমরের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন নাসিরুল্লাহ খান বাবর। অনুভব করলাম, এ অঞ্চলে তেল নিয়ে চলমান টানাপড়েন সম্পর্কে মোল্লা উমর খুব বেশি খবর রাখতেন না। তিনি শুধু আফগানিস্তানে শরিয়া আইন বাস্তবায়নে আগ্রহী ছিলেন। আর তিনি বলতেন, আমাদের সাথে পাকিস্তানের ভ্রাতৃসুলভ আচরণ করা উচিত; অধীনস্থদের মতো নয়। নাসিরুল্লাহ বাবর বুরহানুদ্দিন রাব্বানি ও আহমদ শাহ মাসউদের ওপর তার প্রভাবকে ব্যবহার করে তালেবানের সাথে তাদের আলোচনা শুরু করতে বাধ্য করেন। বাবর কাবুলে একটি ব্যাপক অংশীদারভিত্তিক সরকার চেয়েছিলেন, যেখানে সব নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা থাকবেন। বেনজির ভুট্টো মার্কিন চাপ সত্তে¡ও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি করেছিলেন। বেনজির সরকার গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ আর্জেন্টিনার তেল কোম্পানি ব্রিডাসকে দিতে চেয়েছিল। বেনজির একবার আমাকে বলেছিলেন, মার্কিন সরকার তাকে ইউনোকলের সাথে চুক্তি করতে চাপ সৃষ্টি করছিল। বেনজির সরকার কাবুলে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিল। উজবেক যোদ্ধা আবদুর রশিদ দোস্তামও তালেবানের সাথে কাজ করতে সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে হঠাৎ বেনজির ভুট্টোর সরকার ভেঙে দেয়া হয়। সাথে সাথে পর্দার আড়ালের আফগান শান্তি আলোচনা শেষ হয়ে যায়। আর পাইপলাইন প্রকল্প চলে যায় ইউনোকলের কাছে।

বিন লাদেনের সাথে প্রথম সাক্ষাৎকার
বেনজির ভুট্টোর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আমি জালালাবাদের কাছে তোরাবোরা পর্বতমালায় উসামা বিন লাদেনের প্রথম সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। মৌলভী ইউনুস খালিস তোরাবোরা পর্বতমালার গুহায় আমাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অবাক করে দিয়েছেন। বিন লাদেনের সাথে তার সম্পর্ক আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। কেননা তাকে তো নারহারের বাদশাহ মনে করা হতো। এখন তার পুত্র মুতিউল্লাহ ইউনুস তালেবানের শীর্ষ নেতা। ১৯৯৮ সালে কান্দাহারে উসামা বিন লাদেনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। আমার মনে আছে, আমার দাড়ি না থাকার কারণে তালেবান আমাকে কান্দাহারে গ্রেফতার করেছিল। আমাকে আল কায়েদার যোদ্ধারা তালেবানের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল। নাইন- ইলেভেনের দুই মাস পর উসামা বিন লাদেন কাবুলে আমাকে তৃতীয় সাক্ষাৎকার দেন। যখন আমি ওই বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরছিলাম, তখন অন্যতম তালেবান কমান্ডার মোল্লা খাকসার আমাকে কাবুলের বাইরে জাতিসঙ্ঘের কম্পাউন্ডের কাছে গ্রেফতার করে। আমাকে গ্রেফতারের কারণ, আমার কাছে একটি ক্যামেরা ছিল। ওই সময় আফগানিস্তানে ক্যামেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা আবদুর রাজ্জাক আখুন্দের সাথে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমার মুক্তির নির্দেশ দেন। তিনি আমাকে তার দফতরে এক কাপ কফি পানের দাওয়াত দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তিনি আমাকে বলেন, খুব দ্রুত আপনার আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কি পালাচ্ছেন? তিনি হেসে বললেন, এটা খেলার অংশ। তবে আমরা নিশ্চিত, ফিরে আসব।

মোল্লা আবদুর রাজ্জাক আখুন্দ ২০১০ সালে পাকিস্তানের একটি কারাগারে ইনতেকাল করেছেন। তার ভবিষ্যদ্বাণী ২০ বছর পর ১৫ আগস্ট, ২০২১ সালে সত্য প্রমাণিত হলো, যখন তালেবান হাম্ভি গাড়ি ও ট্যাংকে আরোহণ করে নিজেদের সফেদ ঝাণ্ডা উড়িয়ে আবার কাবুলে প্রবেশ করল। বিশ বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তালেবান ও আল কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ‘ক্রুসেড’ বা ধর্মযুদ্ধ পরিভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এই পরিভাষা আন্তঃধর্ম যুদ্ধগুলোর ইতিহাসে ভরে আছে। এটা একটা বাস্তবতা যে, আজকাল আমেরিকায় ক্রুসেড শব্দ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর কোনো বিশেষ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেই। অবশ্য প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ওই শব্দের ব্যবহার নিশ্চিতরূপে তালেবানকেই সহায়তা করেছে। তারা তাদের আন্দোলনকে ধর্মীয় রূপ দেয়। বিশ বছর আগে বুশ যখন তার ক্রুসেড যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তালেবান কাবুল থেকে পালিয়েছিল। এখন তালেবান প্রেসিডেন্ট ভবনে বসে আছে আর আমেরিকা কাবুল থেকে পালাচ্ছে। এই ধর্মযুদ্ধে পরাজিত কে, আর বিজয়ী কে? আমাদের কোনো ফলাফলে যাওয়া উচিত নয়। কেননা আমার দৃষ্টিতে এবার ১৫ আগস্টের পর তালেবানের আসল পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

আজকের তালেবান কি অন্যরকম?
অনেক মানুষ বলছেন, আজকের তালেবান ২০০১ সালের তালেবান থেকে ভিন্ন। আমার ধারণায়, তারা এখনো পুরাতন চিন্তাভাবনার ওপর অটল। তবে তারা বিগত দুই দশকে কিছু নতুন কৌশল শিখেছে। তাদের কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম মূলত তাদের মতাদর্শের আশপাশেই ঘুরে বেড়িয়েছে। এটা জানা জরুরি যে, কয়েক বছর থেকে কাতারে কর্মরত তালেবানের রাজনৈতিক দফতরের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ছিল না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ‘শূরা নেতৃবৃন্দ’ বা ‘ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা কাউন্সিলের’ মাঝে সীমাবদ্ধ। আর তাদের অধিকাংশ সদস্য আফগানিস্তানের ভেতর আন্দোলনে শরিক ছিলেন। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দযাদা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তার তিনজন নায়েবের (ডেপুটি) পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোল্লা আবদুল গনি বারাদার রাজনৈতিক বিষয়াবলি দেখাশোনা করেন। মোল্লা উমরের পুত্র মোল্লা ইয়াকুব সামরিকবিষয়ক প্রধান ও আফগানিস্তানের দক্ষিণ অঞ্চলগুলোর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। বিখ্যাত আফগান গেরিলা কমান্ডার মৌলভী জালালুদ্দিন হাক্কানির বড় পুত্র সিরাজুদ্দিন হাক্কানি আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের দেখাশোনা করেন। ইয়াকুব ও সিরাজুদ্দিনকে প্রাদেশিক ও জেলা গভর্নর নিযুক্ত করার ক্ষমতাও রয়েছে।

তালেবানদের কাতারে অ-পশতু
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েও অ-পশতু আফগান তালেবানের অংশীদার ছিল। এখন তালেবানের কাতারে তাদের আরো বেশি সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। তালেবান তাজিক, উজবেক, হাজারা ও তুর্কমান জাতিগোষ্ঠীর মাঝে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। কারি দীন মুহাম্মাদ ও কারি ফাসিহুদ্দিন বাদাখশানের গুরুত্বপূর্ণ দুই তাজিক তালেবান নেতা। আবদুস সালাম হানাফি ফারইয়াবের উজবেক তালেবান নেতা। সম্প্রতি তালেবান তাজিক যুবক মাহদি আরসালানকে পাঁচটি উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের কমান্ডার নিযুক্ত করেছে। মাহদি আরসালানের আনসারুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আনসারুল্লাহ নামের দলকে তাজিকিস্তানে নামসর্বস্ব ভুঁইফোড় আখ্যায়িত করা হয়েছে। মাহদি আরসালান তাজিক, উজবেক, হাজারা ও তুর্কমান সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ে উত্তরে একটি তালেবান বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিছু উজবেক সশস্ত্র ব্যক্তির ইসলামী আন্দোলন উজবেকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর তালেবান হাজারার শিয়াগোষ্ঠীর মৌলভী মাহদিকে উত্তরে সারেপোল প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করেছিল। মৌলভী মাহদি উত্তর আফগানিস্তানে তালেবানের সাম্প্রতিক বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তালেবানের পদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে মোল্লা আবদুল হাকিমও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি তালেবানের সাবেক চিফ জাস্টিস। তিনি মোল্লা হায়বাতুল্লাহকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়াবলিতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তালেবানের কয়েকজন মুখপাত্র রয়েছেন। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ২০০৭ সাল থেকে মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৪ বছর পর্যন্ত আফগান ও আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার জন্য এক রহস্যপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে থেকেছেন। তারা তাকে খুঁজে পেতে সবসময় ব্যর্থ হয়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ১৭ আগস্ট প্রথমবার আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে হাজির হন। তিনি তার জীবনের বেশির ভাগ সময়ই আফগানিস্তানের ভেতর অতিবাহিত করেছেন। তিনি পূর্ব ও মধ্য আফগানিস্তানে সশস্ত্র কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকেন। কারি ইউসুফ আহমাদি আরেক তালেবান মুখপাত্র। যিনি দক্ষিণ ও উত্তর আফগানিস্তানে সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সুহাইল শাহিন দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক দফতরের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি নাইন-ইলেভেনের আগে পাকিস্তানে উপরাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কাবুল টাইমসের সাবেক এডিটর। তিনি বেশির ভাগই তালেবানের রাজনৈতিক কলাকৌশলের ওপর কথা বলে থাকেন। ড. নাঈম ওয়ারদাক দোহায় রাজনৈতিক দফতরের মুখপাত্র। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ থেকে আরবি ভাষায় পিএইচডি করেছেন। তালেবান নেতাদের আরো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি শের মুহাম্মাদ আব্বাস স্তানিকজাই একজন সাবেক সেনাকর্মকর্তা। তিনি ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে ভারত থেকে সেনা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তবে তিনি রাশিয়ার সাথে লড়াই করার জন্য আফগান বাহিনী ত্যাগ করেন। স্তানিকজাই গত বছর মস্কোতে কিছু অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় ক‚টনীতিবিদের সাথে যোগাযোগ করেন। নওজোয়ান তালেবান নেতা আনাস হাক্কানি আসাতিরি আফগান নেতা মরহুম জালালুদ্দিন হাক্কানির সর্বকনিষ্ঠ পুত্র। তিনি কয়েক বছর বাগরাম জেলে বন্দিজীবন কাটান। তিনি একজন কবি। তাকে অপহৃত অস্ট্রেলিয়ান টিমুথি ভিক্সের বিনিময়ে ২০১৯ সালে মুক্তি দেওয়া হয়। আনাস ও টিমুথি ভিক্স এখন পরস্পর বন্ধু হয়ে গেছেন। আনাস হাক্কানি গুলবু-দীন হেকমতিয়ার ও ড. আবদুল্লাহ আবদুল্লাহের মদদে কাবুলে ঐকমত্য সরকার গঠনে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আনাস হাক্কানিকে পাকিস্তানের বেশ ঘনিষ্ঠ ভাবা হয়। কিন্তু তিনি পাকিস্তানের চেয়ে তালেবানের বেশি বিশ্বস্ত বন্ধু। ইবরাহিম সদর, আবদুল কাইউম জাকির, মোল্লা আবদুল ওয়াসিক, আমির খান মুত্তাকি, মৌলভী আবদুল কাবীর, শীরিন আখুন্দ, খাইরুল্লাহ খায়েরখাহ, মুতিউল্লাহ ইউনুস, নুরুল্লাহ নুরি ও শিহাবুদ্দীন দেলাওয়ারও তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তারা সকলেই মোল্লা উমরের বিশ্বস্ত অনুগত ছিলেন এবং এখন তারা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদের অনুগত। মোল্লা হায়বাতুল্লাহ কি আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের অনুমতি দেবেন? এটা একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রশ্ন। কাবুলে নতুন পার্লামেন্ট ভবনকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা ভারত সরকার আফগান সরকারকে উপহার হিসেবে দিয়েছে? আমার জানামতে তালেবান সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী এমনকি অমুসলিমদেরও নতুন সরকারে যুক্ত করতে বেশ নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে থাকে, কিন্তু তারা ‘পশ্চিমা গণতন্ত্রের’ ব্যাপারে বেশ কঠোর।

এক তালেবান নেতা আমাকে অফ দ্য রেকর্ড জিজ্ঞাসা করেন, যদি আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত ও পাকিস্তান, সৌদি আরবের মতো অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারে, তাহলে তারা পশ্চিমা গণতন্ত্রকে আফগানিস্তানে কেন চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে? আমি মোল্লা উমর, জালালুদ্দিন হাক্কানি ও মৌলভী ইউনুস খালিসের বংশধরদের দেখছি। তাদের সাথে ভদ্রোচিত আচরণ করা যেতে পারে। কিন্তু তারা কারো চাপিয়ে দেয়া শাসন বা সাম্রাজ্যবাদ মেনে নিতে সর্বদা অস্বীকার করেছেন। তাদের পুত্র মোল্লা ইয়াকুব, সিরাজ হাক্কানি ও মুতিউল্লাহ ইউনুস শুধু যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাদের বড়দের সাথে মতবিরোধ করেন। কিন্তু এতদসত্তে¡ও তাদের চিন্তাদর্শন মূলত একই। যদি তাদের সাথে ভদ্রোচিতভাবে আচরণ করা যায়, তাহলে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা শুনবেন। নতুবা পিতৃ-পুরুষদের মতো তারা নতুন যুদ্ধ শুরু করার জন্য সদা প্রস্তুত।

অনুবাদ : ইমতিয়াজ বিন মাহতাব
ahmadimtiajdr@gmail.com
লেখক : পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট



আরো সংবাদ


ইলিশের ২৩ টনের প্রথম চালান বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি সাফের জন্য দল ঘোষণা করল বাফুফে বিশ্ব নেতৃত্বকে তালেবানের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলল কাতার চীন এ বছর বিশ্বকে ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেবে : শি জিনপিং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সংঘাত সমাধানের ‘উত্তম পন্থা’ : বাইডেন বিদায় তিকি-তাকা, বিদায় বার্সেলোনারও? হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত দিবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগান ইস্যুতে বাতিল সার্ক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বি-পক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের বাউল শিল্পীকে মাথা ন্যাড়া, স্কুল শিক্ষকসহ আটক ৩

সকল