১৫ এপ্রিল ২০২১
`

৫০ বছরের অর্থনীতি: প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

৫০ বছরের অর্থনীতি: প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ - ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্ণ হলো। গত ২৬ মার্চ উদযাপিত হলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পঞ্চাশ বছরের পথচলা সামান্য নয়। সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাইলফলকে পৌঁছে আমাদের অর্থনৈতিক প্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের মূল্যায়ন জরুরি। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি ঔপনিবেশিক শোষণ, লুণ্ঠন থেকে মুক্তি পেয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে নানা বৈষম্য, সাংস্কৃতিক গোলামি ও অধিকারহীনতার নানাবিধ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেও দেশকে এক নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল, বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে অর্থনৈতিক দিক থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। এমনকি আমেরিকায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে Bottomless basket হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই মন্তব্য অসার প্রমাণ করে বাংলাদেশ আজ যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে তা নিঃসন্দেহ প্রশংসনীয়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে চলেছি। আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ, শিল্পের উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি ও পোশাক শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতিসহ রফতানি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে এ অগ্রগতি প্রশংসনীয় হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পেরেছে এমন নয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে আমাদের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তা উত্তরণের জন্য আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার, বিরাট জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল কাজে নিয়োগের ব্যবস্থা করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রতি সরকারকে নজর দিতে হবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী এক দশক আমাদের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষিনির্ভর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ হিসেবে অর্থনীতির কাঠামো ছিল নাজুক অবস্থায়। ১৯৭২-৭৩ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১২৯ ডলার। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২.৭৫ ভাগ (১৯৭২-৭৩)। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.০৮ শতাংশ। ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন পটপরিবর্তন যেমন: গণতান্ত্রিক শাসক, সামরিক শাসক, স্বৈরশাসক অর্থাৎ রাজনৈতিক বিভিন্ন সরকারের আমলে অর্থনীতির গতি উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থায় পৌঁছে। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি কৃষির পাশাপাশি শিল্প ও সেবাখাত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে অগ্রগতি লাভ করছে। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র দর্শনে সমাজতন্ত্রের চাপ ছিল, যেখানে ব্যক্তি খাতের অবদান গুরুত্ব পায়নি। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী সময় ব্যক্তি উদ্যোগে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে নজর দেয়া হয়। ফলে ১৯৮৫ সালে সার্বিক বিনিয়োগের ৩৭ শতাংশের মধ্যে ব্যক্তি খাতের অবদান ছিল ৮০ শতাংশ। তবে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী বলা যায়। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত আমাদের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.০৮ শতাংশ। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ৫.০৯ শতাংশ। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সময়কালে বেড়ে হয়েছে ৬.০২ শতাংশ। ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.০৪ শতাংশে। এশিয়ার ১২টি দেশের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ আমাদের প্রবৃদ্ধির হার মোটামুটি সন্তোষজনক। স্বাধীনতার ৫০ বছর অর্জনের মধ্যে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ বর্তমানে অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে যেখানে আমাদের রিজার্ভ ছিল মাত্র ৪২.৫ মিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী যে জনসংখ্যা ছিল ৫০ বছরে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তখন আমাদের কৃষি ও খাদ্যশস্য উৎপাদন সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমানে ব্যাপক জনসংখ্যার মধ্যেও আমাদের খাদ্যশস্য উৎপাদনে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের অগ্রগতি লক্ষ করা যায়। বর্তমানে চলমান করোনা মহামারীর সময় অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম অবদান রেখে চলেছে আমাদের কৃষিজ উৎপাদন। ১৯৭২ সালে ধান উৎপাদন ছিল মাত্র এক কোটি ১০ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ধান উৎপাদন হয়েছে পাঁচ কোটি ২৬ লাখ টন, যা বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ।

আমাদের ব্যাপক জনসংখ্যার জন্য সারা বছর আলুর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৭০ লাখ টন। সেখানে ২০১৯ সালে উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি পাঁচ লাখ টন। বিশ্বে আলু উৎপাদনে আমরা ষষ্ঠ। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয়। ইলিশ মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম। বিশ্বের উৎপাদিত মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ বাংলাদেশ উৎপাদিত হচ্ছে যার পরিমাণ পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার টন। সবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয়। বছরে সবজি উৎপাদিত হয় এক কোটি ৬০ লাখ টন। হাঁস-মুরগি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। গরু, ছাগল পালন ও ফল উৎপাদনেও প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী।

এফএও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাগলের গোশত ও দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ ক্রমাগত ভালো করছে। বিশেষ করে ছাগলের দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। ছাগলের সংখ্যা ও গোশত উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ ছাড়া আম ও পেয়ারা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে আছে। বছরে আম উৎপাদন হয় ২৪ লাখ টন। পেয়ারা উৎপাদন হয় ১০ লাখ ৪৭ হাজার টন। আম ও পেয়ারা উৎপাদন প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রথম অবস্থানে আছে। এতে দেখা যায় ৫০ বছরে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে আমাদের তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ৫০ বছরে আমাদের রফতানি খাতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রফতানি ছিল ৫ শতাংশের নিচে।

২০১৭ সালে তা ১৫% এ দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে রফতানি কিছুটা ধাক্কা খেলেও অগ্রগতি হয়েছে। ৫০ বছরের ব্যবধানে মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫ ভাগ, ৮৬ টাকা ডলার প্রতি মূল্য এবং রফতানি আয় যেমন বেড়েছে তেমনি আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী রফতানি খাত ছিল ২-৩টি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে পাট, পাটজাত দ্রব্য, চা ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হতো। এখন রফতানিতে স্থান করে নিয়েছে তৈরী পোশাক, জনশক্তি ও ওষুধ। তৈরী পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ দুই হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি করেছে, যা বিশ্বের মোট পোশাক রফতানির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে চীন প্রথম স্থান দখল করে আছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ১১৮টির দেশে ওষুধ রফতানি করছে। ৫০ বছরে আমাদর শিক্ষার হার বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে। ২০০৬ সালে গড় আয়ু যেখানে ছিল ৬৪.৪। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ৭২.৪ (বিবিএস রিপোর্ট)। আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২০.৫ এ কমে এলেও করোনার কারণে তা বেড়ে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়শীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসঙ্ঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করেছে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এই তিন সূচকের মানদণ্ডে জাতিসঙ্ঘ একটি উন্নয়শীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ওই তিন সূচকেই কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন সব কিছু ভালোভাবে চললে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসবে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতির অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। যদিও বর্তমানে আমরা এমন এক সময় অতিক্রম করছি যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি করোনার মহামারীতে আক্রান্ত। বিশ্ব অর্থনীতি যখন নানা সূচকে নিম্নমুখী তখনো বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে খুব খারাপ অবস্থানে আছে বলা যাবে না। আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তরা (এসএমই), গার্মেন্ট শিল্প ও অপ্রতিষ্ঠানিক সেবা খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সরকার এই মহামারী সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ঠিকই, কিন্তু তার অনেকটাই এখনো বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে এর সুফল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখনো নানা সমস্যার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। ক্ষুদ্র মাঝারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সেবা খাতগুলোহর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার না হলে সামগ্রিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার অনেক পিছিয়ে যেতে পারে।

৫০ বছরে অর্থনীতি অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করলেও এতে তুষ্টির অবকাশ নেই। এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে। আমাদের দীর্ঘ পথ চলা আশানুরূপ না হলেও সন্তোষজনক ছিল। তবে সম্ভাবনা ছিল অনেক বেশি। এগুলো আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন। ঠিক কোন কারণে আমরা সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে পারিনি, দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে পারিনি, সেসব বিষয় পর্যালোচনায় আসতে হবে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ খাতের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ঋণ আদায়ের হার হ্রাস ও বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। দ্রুত সঙ্কট উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্ত হাতে, ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সময়োচিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও এ সমস্যার সমাধান না করতে পারলে আগামী দিনে অর্থনীতি কোন দিকে যাবে তা ভেবে দেখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। আমরা এ খাতের কাক্ষিত উন্নয়ন ঘটাতে পারিনি। শিক্ষাব্যবস্থা এখনো ঢেলে সাজাতে পারিনি। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারকে প্রণোদনা বাড়ানো ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠী নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। তা ছাড়া করোনার আগে যারা দরিদ্র ছিল ও করোনার কারণে আরো দরিদ্র হয়েছে তাদের জন্য সরকারের যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও কার্যক্রম আছে তার ব্যাপ্তি, পরিধি ও বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। এ ক্ষেত্রে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা উচিত।

প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, অবকাঠামোর অভাব ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ার পরও জনগণের টিকে থাকার সক্ষমতা বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছে। তবে তার মধ্যে যেসব দুর্বলতা যেমন বেকারত্ব বৃদ্ধি, হাতেগোনা রফতানি পণ্য, পোশাক শিল্পের কাঠামোগত দুর্বলতা, কৃষিকে আধুনিকীকরণের ঘাটতি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধিসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রের অবনতি এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতার মতো সমস্যাগুলো দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৫০ বছরে অর্জিত উন্নয়ন কি টেকসই হবে, জনগণের জীবনমান উন্নত ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে? জবাব ইতিবাচক হতে পারে যদি অংশগ্রহণমূলক টেকসই অর্থনীতির ভীত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া যায়।

বর্তমানে নতুন বিনিয়োগ না হওয়া, কর্ম সংস্থানের অভাব, শিক্ষার নাজুক অবস্থা, কোনো প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হওয়া ইত্যাদি, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির শর্ত বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে নিজেদের অর্জন ও ব্যর্থতাগুলোর বিশ্লেষণ ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জবাবদিহিতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। এ সময় দুর্যোগকালীন সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়েও ভাবতে হবে।

আমাদের এসডিজির যাত্রা শুরুর সময় ২০১৬-২০ সময়কালে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চলমান ছিল। বর্তমানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক (২০২১-২৫) পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আবির্ভূত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক
main706@gmail.com



আরো সংবাদ