০২ মার্চ ২০২১
`

তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে

তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে - ছবি : সংগৃহীত

মহাভারতে প্রজা পীড়নকারী রাজা কংসের গল্পটা হয়তো অনেকের মনে আছে। নিজের বাবা রাজা উগ্রসেনকে বন্দী করে কংস মথুরার রাজা হয়েছিলেন। এ সময় কংসের বোন দেবকীর সাথে বাসুদেবের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কংস দৈববাণী শুনতে পান যে, দেবকীর অষ্টম সন্তান তাকে বধ করবে। কংস তখন দেবকী ও বাসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন। কারাগারে ছয়টা সন্তান জন্ম নিলে, সবাইকে কংস মেরে ফেলে। সপ্তম সন্তান বলরাম, দেবকীর গর্ভ থেকে প্রতিস্থাপিত হন গোকুলবাসী বাসুদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিনী দেবীর গর্ভে।

সেখানেই ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষে অষ্টম তিথির মধ্যরাতে জন্ম হয় কৃষ্ণ নামে অষ্টম পুত্রের। বংশ রক্ষার জন্য কৃষ্ণকে গোকুলে গোপরাজ নন্দের ঘরে গোপনে রেখে আসেন বাসুদেব। একই রাতে গোপরাজ নন্দের ঘরে জন্ম নেয় তার কন্যা দেবী মহাশক্তিরূপে ‘যোগমায়া’। নন্দের স্ত্রী যশোদার কাছে কৃষ্ণকে রেখে, ওই রাতে যোগমায়াকে মথুরায় নিয়ে আসেন বাসুদেব। কংস তখন যোগমায়াকে পাথরে নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আদেশ দেন। কিন্তু যোগমায়া নিক্ষিপ্ত অবস্থায় আকাশে উঠে নাকি বলেন, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।’ তারপর গোকুলে বেড়ে ওঠা সেই কৃষ্ণ বড় হলে, শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের হাতেই কংসের মৃত্যু ঘটে।
গল্পটা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের প্রেক্ষাপটে বলা হলো। নারীবাদ, প্রগতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদি কিছু শব্দের বর্গ দিয়ে যে হারে কয়েক দশক ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, ওই জনগণই বড় হয়ে খোদ সেকুলার, প্রগতিশীল প্রমুখকে এখন বধ করতে নেমেছে।

আমরা হয়তো শাহবাগ আন্দোলনের সেই উচ্ছৃঙ্খল দিনগুলোর কথা ভুলে গেছি। ফাঁসির দাবির নামে গোটা দেশকে কিভাবে উচ্ছৃঙ্খলতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছিল? ওই সময়ের শিশু-কিশোররা এখন তরুণ-তরুণী। তারা জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পরই দেখেছে, কিছু লোককে ফাঁসি দিলেই নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। চোখের সামনে তাদের উচ্ছৃঙ্খল মুরব্বিদের তাণ্ডব দেখেছে দিনের পর দিন। শিখেছে কিভাবে বেয়াদব হতে হয়। সেই শিশুরা শিখেছে তসলিমা নাসরিনের কথিত যৌন স্বাধীনতাই আসল স্বাধীনতা, এর বাইরে আর কোনো স্বাধীনতা নেই। পুরুষদের পোশাক পরলেই নারী তার স্বাধীনতা পেয়ে যায় (আবার এই পুরুষকেই কিন্তু তসলিমা ঘৃণা করতে শিখিয়েছেন, কী পরিহাস)। কারণ তারা এসব শিখেই বড় হয়েছে। জেনেছে নাস্তিকতার কারণে কয়েকজন ব্লগারকে কিভাবে আঘাত এবং খুন করা হয়েছে। সেকুলারিজমের মোড়কে নাস্তিকতাকেই (প্রকৃতপক্ষে ইসলামবিদ্বেষ) মানবধর্ম বলে জেনেছে। সাথে আরো শিখেছে তাদের মধ্যবয়সী অথবা তরুণ বাবা-মায়ের কাছেও, ইসলাম ধর্মের মতো নিকৃষ্ট বিশ্বাস এই দুনিয়ায় আর নেই। প্রগতিশীল হওয়ার মূল সূত্র হিসেবে জেনেছে, যা খুশি তাই করে বেড়ানো। এবং যার সাথে খুশি তার সাথে ঘুরে বেড়ানো।

এ কারণেই উন্মুক্ত স্থানে অনেক তরুণী সিগারেট খেতে এখন দ্বিধা করে না। মানুষের তাড়া খেয়ে সেই তরুণী ফেসবুকে যারা তাড়া করেছিল তাদের একজনকে খুব করে শাসিয়ে দেয়। কোনো কোনো কোম্পানি বিজ্ঞাপনে শেখায় ‘তোমার রাতে স্লিপ ওভার করতে পারা উচিত’ অথবা ‘বাবা-মায়ের তোমাদের জীবনে ইন্টারফেয়ার করা উচিত নয়’ ইত্যাদি। লেখকদের কেউ কেউ উপন্যাস-গল্পে মা-বাবাদের ভুল দেখিয়ে আসলে বেয়াদব হতে শিক্ষা দেন। ফেসবুকের মতো মিডিয়া পেয়ে ইচ্ছেমতো উন্মুক্ত ছবি দেয়া কোনো বিষয়ই যেন নয় বর্তমান প্রজন্মের কাছে। কেউ কেউ বিদেশে বসে, লেসবিয়ান নারীকে চুমু খাওয়ার দৃশ্য যেমন পোস্ট করে, একই নারী বহুগামিতার ছবিও অবলীলায় ছেপে দেন। ফেসবুক আমাদের বড্ড বেশি ছ্যাঁচড়া করে দিয়েছে! এসব করার পেছনে হয়তো নারীবাদ, প্রগতিবাদ ও সেকুলারিজম নামের আদর্শ আর শক্তি। এগুলো বর্তমান প্রজন্মকে এতটাই মোহাবিষ্ট করেছে যে, ফেসবুকে নিজের বাবাকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। তার দোষটা কী? বাবার দোষ হলো, কন্যার পেছনে ‘গোয়েন্দাগিরি’ করা। সুকন্যা তার ফেসবুক দেয়ালে কী সব আবোলতাবোল লিখে রাখে, সেক্স নিয়ে লেখালেখি করে, এসব খুঁজে খুঁজে বের করে সে বাবা। এটাই দোষ।

এবার কিন্তু কংস রাজারা ধরা খেয়েছে কৃষ্ণদের কাছে। কারণ কৃষ্ণদের এই বাবারাই তাদের সন্তানদের গোকুলে বড় করেছিল। সময় কিন্তু তার প্রতিশোধ ঠিক ঠিক নিয়ে নেয়। প্রগতিশীলদের সন্তানরা তাদের মতোই প্রগতি মাথায় নিয়ে বড় হয়েছিল এবং হচ্ছে। তবে সর্ষের মধ্যেই যে ভূতটা ছিল, সেটা এই বাবা-মায়েরা দেখতে পাননি। প্রগতিশীল, সেকুলারিজম আর নারীবাদের রঙিন চশমাটা বয়োবৃদ্ধির সাথে চোখ থেকে যতই খসে পড়তে শুরু করেছে, ততই তাদের চোখ খুলছে। কিন্তু সময় গেলে যে সাধন হয় না। তাই আনুশকার মতো মেয়েরা আজ অসহায়ের মতো মারা যায়। বাবাকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’র মতো গালি শুনতে হয়। মাকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু এই মা-বাবারাই কি সন্তানদের বড় করেননি? যেভাবে তারা বীজ রোপণ করেছিলেন সেই বীজ থেকে বেড়ে ওঠা বিষাক্ত ফল এখন ভোগ করতেই হবে। কারণ সময় কাউকে ক্ষমা করে না।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী



আরো সংবাদ


বিদ্যুৎক্ষেত্রে চীনের হানায় অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল মুম্বাই! বিজেপিতে যোগ দিলেন শ্রাবন্তী যেকোনো সংকটে দেশের মানুষ ঢাবির দিকে তাকিয়ে থাকে : নুর ২০২১ সালের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৩ বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় : আমাদের পরিবেশ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রথম অধ্যায় : আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ২০২১ সালের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৩ এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা প্রথম পত্র গল্প : অপরিচিতা এসএসসি পরীক্ষার লেখাপড়া : রসায়ন একাদশ অধ্যায় : খনিজ সম্পদÑ জীবাশ্ম আজ তৃতীয় দফা করোনা টেস্ট অ্যাতলেটিকো ও লিভারপুলের জয় বসুন্ধরা কিংসের খেলা মালদ্বীপে

সকল