০৪ মার্চ ২০২১
`

২০২১ সালের অর্থনীতি ও কিছু কথা

২০২১ সালের অর্থনীতি ও কিছু কথা - ছবি : প্রতীকী

আশা-ভরসা, সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের অর্থনীতি। বছরের শুরুতেই চিন্তা ছিল কিভাবে অর্থনীতিকে সতেজ করা যায়; বাড়ানো যায় কর্মসংস্থান। কিন্তু সব কিছুকে থমকে দিলো ছোট্ট একটি ভাইরাস। বাংলাদেশসহ সরা বিশ্বের জন্য বছরটি ছিল করোনার বছর। দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। কোভিড-১৯ আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হন। তখন থেকে জীবনযাত্রা বদলাতে শুরু করে। ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যু। পরদিন লকডাউন। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি, শেষ হয় ৩০ মে। থমকে যায় অর্থনীতির চাকা। মানুষ হলো ঘরবন্দী। জীবন না জীবিকা এই নিয়ে চলে নানা চিন্তা। সবার মাঝে পরিচিত হয়ে ওঠে একটি শব্দ: ‘লকডাউন’। প্যান্ডেমিক (মহামারী), কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ), সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক ব্যবহার- এসব শব্দ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২০ সালের এসব শব্দ, অভিজ্ঞতা ও মৃত্যুর মিছিলের মাঝেও বেঁচে থাকার তীব্র আকাক্সক্ষা, জীবিকা ও জীবনযুদ্ধের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক আশা, ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র স্পৃহা দেখা যায়; যাকে বলে ‘রেজিলিয়েন্স’ বা ঘুরে দাঁড়ানো বা প্রতিরোধ। দেশে দেশে নেয়া হয় অর্থনীতি সচল রাখার নানা কর্মসূচি। বাংলাদেশের মানুষ অনেক আশাবাদী। এখানেও অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২১টি খাতে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তার মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে দেয়ার ঘোষণা আসে। আমাদের কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনায় ধনী দেশগুলো নানা দিক দিয়ে ধরাশায়ী হলেও ক্ষুদ্র ও দুর্বল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের দেশের মানুষ করোনাকালীন মহামারীর মধ্যে টিকে থাকার কম চেষ্টা করেনি। মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রমসহ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৯-২০ সালে অর্জিত হয় ৫.২ শতাংশ।

২০২০-২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২০ সালের করোনাভাইরাস আমাদের জীবনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং ২০২১ সালের সূচনালগ্নে টিকার আশ্বাস পাওয়ার পরও আমাদের অর্থনীতি কেমন যাবে তা বলা মুশকিল। তবে এ বছর সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বাস্তবায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ রিজার্ভের ব্যবহার ও সংরক্ষণ সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি তদারকি, কর্মসংস্থান সর্বোপরি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর ২০২১ সালের অর্থনীতির অগ্রগতি নির্ভর করবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৮.৫০ শতাংশ, সেখানে অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরে বিবিএস বিগত তিন বছরের মুদ্রাস্ফীতি তথ্য উপস্থাপন করে।

২০২০ সালের ৫.৬৯, ২০১৯ সালে ৫.৫৯ এবং ২০১৮ সালে তা ৫.৫৫ শতাংশ ছিল। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়ায় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বছরের মাঝপথে এসে ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমাতে হচ্ছে। এতে ব্যয়ের প্রাক্কলন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকা এনবিআরের ‘বহির্ভূত রাজস্ব’। গত অক্টোবর পর্যন্ত এনবিআর বহির্ভূত কর আহরণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনবিআরকে তিন লাখ ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। বছর শেষে এনবিআর সংগ্রহ করেছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত এডিপি ১৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অথচ গত অর্থবছরে একই সময় এর বাস্তবায়ন ছিল ১৯.২৪ শতাংশ।

তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে এডিবি বাবদ দুই লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা রাখা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বাড়বে ৫ শতাংশ। বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। মহামারীতে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার অনেক কমেছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকরি হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে অনেক মানুষ চলে গেছে। ব্যবসায়-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দারিদ্র্যসীমা ২০১৯ সালে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছিল; সেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে তা ৩০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

২০২০ সালে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক। সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বাস্তবায়ন এবং ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ২০২১ সালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। ২০২১ সালের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা উল্লেখযোগ্য। যেসব প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছেন তাদেরকে কর্মে নিয়োগ করা কিংবা পুনরায় বিদেশে যাত্রার ব্যবস্থা করা না গেলে ২০২১ সালে বেকারত্ব আরো বেড়ে যাবে। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- অতিমারীর আগে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল প্রবৃদ্ধির দেশ। করোনার কারণে স্থানীয় উৎপাদন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গত অর্থবছরে রফতানি কমেছে অনেক বেশি। চলতি অর্থবছরে রফতানির গতি কম। তাই সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে পরিমিতি থাকতে পারে।

করোনাভাইরাস হানা দেয়ার আগে নানা চাপে ছিল এ দেশের অর্থনীতি। রফতানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। আমদানিও ঋণাত্মক। করোনায় অর্থনীতিতে বছরজুড়ে নানা বিপর্যয় দেখা দেয়। এ সময়ে দারিদ্র্য বেড়ে যায়। মানুষ কাজ হারিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন অনেকে। বৈষম্য আরো বেড়ে যায়। দেখা দেয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি, স্বাস্থ্য খাতে নানা অনিয়ম, সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটা ও কাজ দেয়ার অনিয়ম, ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি।

এ ছাড়া সাহেদ বা জেকেজি কেলেঙ্কারি ছিল ব্যাপকভাবে আলোচিত ঘটনা। দেশ ও মানুষের চরম সঙ্কটেও থামেনি দুর্নীতি। তাই ২০২১ সালের অর্থনীতিতে ভালো কিছু করতে হলে অনিয়ম ও দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। এ দেশে রফতানি আয়ের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। দেশের মধ্যে কর্মসংস্থানের বড় উৎস এই খাত। অথচ এই খাতটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষমতা অর্জন করেনি। তাই ২০২১ সালের পোশাক খাতের উন্নতির লক্ষ্যে শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার বিষয়ে মালিকদের চিন্তা করা উচিত। ২০২০ সালে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা ভালো ছিল না। জানুয়ারি থেকে ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক শিথিলতা আরোপ করলে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু রিপোর্টিংয়ে ‘খেলাপি ঋণ’ হিসাবে তা দেখানো যায়নি। পরবর্তীতে ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করার বিষয়টি বর্ধিত করা হয়। ঋণ আদায়ের শিথিলতার কারণে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন তাদের অনেকেই পরিশোধ করা বন্ধ করে দেন। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিকভারির হার অনেক কমে যায়।

তাই ২০২১ সালে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের অন্যতম কর্মসূচি হওয়া উচিত এটা বাড়ানো। রিকভারির হার বৃদ্ধি না পেলে অর্থ আবর্তনের গতি কমবে। ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে উৎসাহ পাবে না, অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়বে। ২০২০ সালে করোনাকালে সরকার ৫৬টি ব্যাংক ও ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আট মাসে সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ও বিতরণ করতে পারেনি। কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে- কম সুদে ঋণ, তার আদায়ের ব্যাপারে সন্দেহ ও কাগজপত্রের ঘাটতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৬টি প্রতিষ্ঠান মোট ছয় হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে যা এই প্যাকেজের ৩১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এই ঋণ বিতরণ দাঁড়িছে ৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি যা ৪৫ শতাংশের কম। সিএমএসএমই খাতে ঋণ দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা কেন, কী কী সমস্যা রয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করে ২০২১ সালের শুরু থেকে এই ঋণ বিতরণ জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এসডিজি বাস্তবায়নে ১৩২টি সূচকের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৩৯ সূচককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে। এ সূচকগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য সমস্যা, শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা প্রভৃতি। বাংলাদেশ এর মধ্যে বেশ কয়েকটি খাতে প্রারম্ভিকভাবে সফলতা দেখিয়েছে যদিও করোনার কারণে বর্তমানে আমাদের দারিদ্র্য হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘মধ্যম আয়ের’ দেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

করোনা ও বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে এবং বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে বাংলাদেশ বাড়তি দুই বছর সময় চেয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে গেলেও নানা ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে রক্ষার জন্য দুই বছর বেশি চাওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ হলে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে, বন্ধ হয়ে যাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাও। এ ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিকল্প উৎস কী হবে, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা কিভাবে অব্যাহত রাখবে, আয়ের বিকল্প উৎস কী হবে সে বিষয়ে সরকারকে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিতে হবে। আমাদের রাজস্ব আদায়ের হারও কম। মোট রফতানির ৭০ শতাংশই বর্তমানে বাণিজ্য সুবিধার আওতায়। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে শীর্ষ বাজারগুলোতে পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এসব উত্তরণের জন্য ২০২১ সালেই অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা তৈরি করতে হবে।

২০২১ সালটি আমাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ৫০তম বছরে পদার্পণ, বর্তমান সরকারের একযুগ (১২ বছর) পূর্তি, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২৫) ঘোষণা এবং করোনা মহামারীতে জীবন স্তব্ধকারী ২০২০ সাল থেকে নতুন শিক্ষা, নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা। তাই এ বছরে অর্থনীতি কেমন কাটবে তা নির্ভর করবে করোনার টিকা প্রাপ্তি ও বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারের কর্মপরিকল্পনা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর। ২০২০ সালে নষ্ট হয়েছে একটি শিক্ষা বছর, কর্মহীন হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অনেক ব্যবসায়ী পথে নেমে গেছেন, হারিয়েছেন তাদের পুঁজি। লাখো শ্রমিক-কর্মচারী তৈরী পোশাক শিল্পে কাজ হারিয়েছেন, অভিবাসী শ্রমিকরা চাকরিচ্যুত হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাই বেকারত্ব দূরীকরণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট দমন করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ক্রয় ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দূর করা, অভিবাসীদের চাকরিতে ফেরত পাঠানো এবং করোনার হাত থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করে ২০২১ সালে অর্থনীতিকে গতিশীল করার পরিকল্পনা সরকারকে নিতে হবে।

আমাদের অনেক সম্পদ রয়েছে। সবচেয়ে বড় সম্পদ, আমাদের বিশাল জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। অর্থনীতির সাধারণ সূত্র বলে- শ্রম ও পুঁজির বিনিয়োগ ব্যতীত উৎপাদন বৃদ্ধি পায় না। আর উৎপাদন না হলে মোট দেশজ আয়ও বাড়ে না। এ বছরই সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈষম্য দূরীকরণ ও মধ্যবিত্তদের সুরক্ষা, চর ও হাওর অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা, গ্রামীণ কৃষি ও অর্থনীতিকে প্রাধ্যন্য দেয়ার নীতি গ্রহণ করা উচিত।

মনে হচ্ছে, চলমান করোনা পরিস্থিতি এ বছরও শেষ হবে না। আরো কয়েক বছর পর্যন্ত এটা থাকতে পারে। তবে তা অনেকটা নির্ভর করছে টিকার কার্যকর প্রয়োগের ওপর। তবুও আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এসব সমস্যাকে মানিয়েই চালাতে হবে। জীবন ও জীবিকা রক্ষা, অর্থনীতিতে সুনীতির প্রয়োগ, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ও বৈষম্য দূরীকরণের প্রত্যয়ে হোক ২০২১ সালের অর্থনৈতিক পথচলা।

লেখক : অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
ইমেল : [email protected]



আরো সংবাদ