২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

দুর্ভোগের নতুন উপসর্গ ভ্যাকসিন সাম্রাজ্যবাদ

-

এই বিশ্ব একবার ‘মহামন্দা’ পার করেছে (১৯২৯-১৯৩৯)। সেই বিশ্ব-আকাল কি ফিরিয়ে আনলো সর্বনাশা মহামারী করোনা? অবস্থা দেখে সে রকমই মনে হচ্ছে। করোনার এক বছর পার হলো। বিশ্ব অর্থনীতিতে নাকি আরো ধস নামতে যাচ্ছে। আরো নাকি মন্দার মুখে পড়বে বিশ্ব এবং মন্দার আসল দুর্ভোগ পোহাতে হবে গরিব বিশ্বকে। ‘করোনার আক্রমণের কারণে বহু দেশ তাদের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এনেছে বা আনতে শুরু করেছে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম। এই সংস্কার যারা বা যে সব দেশ করতে পারবে না তাদের দুর্ভোগ দুর্যোগ বাড়বে। চলতি বছর গোটা পৃথিবীতে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির বদলে সঙ্কোচন হচ্ছে ৪.৪ থেকে ৪.৫ শতাংশ। এ পৃথিবী করোনার আঘাতে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে মুখ থুবড়ে পড়ার লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আশঙ্কা করছে, বৈশ্বিক ‘অর্থনীতির করোনা’ সংক্রমণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী অর্থবর্ষে অর্থনীতির কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ক্রমেই ক্ষীণতর হচ্ছে। করোনাকাল এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর অনিবার্য বিস্তার এবং অভিঘাত মালুম করে সংস্থা এই বিপদ সঙ্কেতের জানান দিয়েছে। করোনা মাস ছয়েক চলার পর থেকেই প্রায় সবগুলো দেশ ‘লকডাউন’ তুলে নিয়ে ‘স্বাভাবিক’ জীবনে ফিরতে শুরু করার পর বিশ্বজুড়ে এখন চলছে এই মরণব্যাধির ‘দ্বিতীয় তরঙ্গ’। দারিদ্র্য বিমোচনে পৃথিবী যতটা এগিয়েছিল ততটাই পশ্চাদপসরণে বাধ্য করছে এই মহামারী। পৃথিবীর মোট ৯ কোটি মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে। মুদ্রা তহবিলের কথায় ‘দুঃখের দিন দীর্ঘ হবে। উত্তরণের পথ মোটেও মসৃণ হবে না। সেই পথ ভরা থাকবে অনতিক্রমণীয় খানাখন্দে। অনিশ্চয়তা থাকবে তুঙ্গে।’

এই হিসাবে ২০২০ বিপর্যয়ের বছর হলেও ২০২১ সাল হবে এই বিপর্যয়ের অনিবার্য পরিণতির বছর। তখন মানুষের আয় কমবে; ব্যয় বাড়বে। ধনী ও নির্ধনের ফারাক আরো বাড়বে। মুখ থুবড়ে পড়বে সামাজিক নিরাপত্তার ‘সুরক্ষাবলয়’ এবং ‘অগ্রগতির’ স্বপ্ন পরিণত হবে দুঃস্বপ্নে। ২০২১ সালে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৪ শতাংশের নিচে। এই বৈশ্বিক বিপর্যয়ে ধরাশায়ী হতে পারে উন্নত দেশগুলোই; তাই দরিদ্র, মধ্যবিত্ত বা উন্নতির জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোর অবস্থা সহজেই ধারণা করা যায়। রফতানিকারী এবং জনশক্তির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী দেশগুলোর অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে। গণচীন ছাড়া পৃথিবীর বেবাক দেশই অর্থনৈতিকভাবে করোনাক্রান্ত হবে। চীন বিশ্বের মহাশক্তিধর অর্থনীতি। সে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির জায়গাটিও দখল করে নিতে যাচ্ছে। নতুন যে বাণিজ্যবলয় চীনের কারণে এবং চীনের শক্তিতে গড়ে উঠল, বিশ্ব অর্থনীতিতে যার প্রভাব পড়বে সরাসরি, যা ইতিহাসে আর কখনোই কোনো জোটাজুটির ফলে (যেমন ব্রেটনউড চুক্তি, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা-WTO), খোদ উত্তর আটলান্টিক জোট-ন্যাটো, ওয়ারশ-প্রভৃতি জোট গঠনের পরও হয়নি। নতুন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য জোট ইতোমধ্যেই পরিমাণে ও প্রভাবে আমেরিকার সাথে বাঁধা অন্যান্য জোট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট অর্থনৈতিক সীমাকেও অতিক্রম করেছে। পশ্চিমা বিশ্বে করোনার অভিঘাতে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের ব্যবধান আরো অনেক কমে আসবে, যার কথা আলোচিত রাষ্ট্রনীতিবিদ ড. হেনরি কিসিঞ্জার তার বইতে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলে গেছেন ৪৮ বছর আগেই।

চলমান এই বিশ্ব বিপর্যয়ের তীব্রতা প্রশমনের অনেকটাই এখন নির্ভর করছে করোনাভাইরাসটির টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কারের ওপর। তবে সেই প্রতিষেধক যদি নিজেই আর একটা ব্যাধির রূপ নেয়, তাহলে? ইতোমধ্যেই ‘ভ্যাকসিন সাম্র্রাজ্যবাদ’ কথাটি বিশ্ব গণমাধ্যমের কল্যাণে মশহুর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু কথাটি কেন উঠল, তা তো খানিকটা তলিয়ে দেখা দরকারই। শক্তির বড়াই এবং পেশি প্রদর্শনের সাম্র্রাজ্যবাদী হুঙ্কার থামিয়ে দিতে এই অতি সূক্ষ্ম অদৃশ্য ভাইরাসই যে যথেষ্ট, এর প্রথম প্রমাণ নিয়ে এলো দুর্ধর্ষ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের (USS Thedore Roosevelt) এক হাজার নাবিকের এক রাতের মধ্যে করোনার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই রণতরীর ক্যাপ্টেনকে বরখাস্ত করেও আদেশটি আবার প্রত্যাহার করে নিতে বাধ হলেন। কিন্তু অহঙ্কারের ভাইরাস এতই মারমুখী যে- সৈনিক, সেনাপতি, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ধনকুবের ও সমাজের নেতাদের আক্রান্ত হওয়ার পরও মোড়লদের অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। লকডাউন তুলে দিয়ে ভোটে জেতার কৌশল খাটাতে গিয়ে ট্রাম্পের ভরাডুবি হলো। তাতেও বোধোদয় হলো না। ভ্যাকসিন গবেষণা ও তৈরি করা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে প্রতিযোগিতা এবং কারসাজি।

এদেশ তার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন নিয়ে সন্তুষ্ট, ওদেশ তা মানতে নারাজ। কথা উঠল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সবাই মিলেমিশে গবেষণা করে বের করা যাক করোনার ভ্যাকসিন। আমেরিকা তো আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চাঁদা বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর যখন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ফ্রান্স, জাপান ভ্যাকসিন তৈরি এবং বিতরণে যৌথভাবে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও গড়ে তুলল, তাতেও বাদ সাধল আমেরিকা। ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দিয়ে কোনো লাভ হবে না’ বলে যুক্তি দেখিয়ে ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণায় নেমে পড়লেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তারা রটিয়ে দিলেন- চীন মার্কিন গবেষকদের তথ্য-উপাত্ত সাইবার-গোয়েন্দাগিরি চালিয়ে চুরি করে হাতিয়ে নিয়েছে। তারও আগে শুরু হয় ‘করোনার’ জন্য ‘দায়ী’ করে চীনকে অভিযুক্ত করার তার ‘চীনাদের প্রতি দুর্বলতার’ মিথ্যা প্রচারণা এবং তাকে অভিযুক্ত করার অযৌক্তিক বা বানোয়াট প্রচারযুদ্ধ। অপর দিকে, অস্ট্রেলিয়া কোভিড ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল বলে চীনকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত দল চীনে পাঠানোর প্রস্তাব দিলো।

অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থানের মূল খুঁটির জোর এসেছে আমেরিকা থেকে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ওদের অবস্থানে ওরা বরাবরই ঐক্যবদ্ধ। যত বিভেদ সব তৃতীয় বিশ্বে, নিকট ও মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া বা ককেশাস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপে। প্রথমে বিবাদ বিসংবাদ শুরু হলো ভ্যাকসিন গবেষণা ও তৈরি করা নিয়ে। তার পর সেই ভ্যাকসিনের নমুনা ও প্রয়োগ পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ নিয়ে। এখন চলছে বাণিজ্যিক উৎপাদন, বিতরণ ও ‘ভ্যালু চেইন’ নিয়ে বিবাদ। করোনা বা কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণা এবং উদ্ভাবন নিয়েও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, রেষারেষি বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন জার্মান Curevac AG-এর নীতিমালায় নাক গলানো শুরু করে দিলে জার্মান চ্যান্সেলারি বিশাল Curevac AG প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রে Relocate করার নির্দেশ দিতে তারা এক প্রকার বাধ্য হয়। কারণ জার্মানরা দৃশ্যত ঝামেলা পছন্দ করে না। ওদিকে বিতর্কিত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বহুজাতিক ওষুধ সাম্রাজ্যাধিপতিদের মধ্যে ‘স্যানোফি’র সিইও পল হাডসনকে নিজের ‘এলিসি’ প্রাসাদে তলব করেন। কী কথা হলো তাদের মধ্যে, তা বোঝা গেল সে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের যখন তিনি বললেন, ভ্যাকসিন তৈরির তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র তার চাঁদা দিতে সম্মত আছে, যদি শুধু অগ্রাধিকারী ভ্যাকসিনগুলো তৈরি করা হয়। এদিকে ব্রিটিশ ফার্মা-জায়ান্টের Astrazeneca সিইও পাসকাল সৌরিয়ট এর বহু আগেই অক্সফোর্ড-উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন তৈরি ও রফতানির কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারা দাবি করেছেন Astrazeneca’র ভ্যাকসিন ফাইজার কোম্পানির ভ্যাকসিন এর চেয়ে সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধার দিক থেকে বেশি সুবিধাজনক। ইতোমধ্যে ১০০টির মতো প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং গবেষণার দাবি করছে, যার মধ্যে বড় ১০টি কোম্পানি মানবদেহে তাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সুফল পেয়েছে বলে দাবি করছে। এই ১০টি বিশ্বমানের ফার্মা-কোম্পানির পাঁচটিই চীনের।

ভারতের একটি বড় ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন গবেষণা কার্যক্রম বহুজাতিক উদ্যোগে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ ভ্যাকসিন নিজ দেশের পর ভারতই প্রথম পাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ইত্যবসরে চারটি শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন ও জাপান) World Health Assembly (WHA) স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্যাটেন্ট গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্পর্কিত দোহা-ঘোষণাকে (Doha Declaration) কার্যত বাতিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০০১ সালে কাতারে মরণব্যাধি এইচআইভি/এইডস নিয়ে বিশ্বের প্রধান ওষুধ উৎপাদক দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে এ ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করতে বহুজাতিক সহযোগিতার চুক্তিবদ্ধ সমঝোতা হয়েছিল। এইডসের ওষুধ খুব দামি বিধায় দক্ষিণ আফ্রিকা এইডস ওষুধের ব্র্যান্ড-বর্জিত কেবল আসল ওষুধ বাজারজাত করার প্রস্তাব করেছিল (Generic HIV মেডিসিন)। তাতে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপানোরও হুমকি দেয়, যা সে দিয়ে আসছে ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে। তখন বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ এবং এনজিওদের লাগাতার দরকষাকষির মুখে ‘দোহা ঘোষণা’ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) এখতিয়ার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও ‘পশ্চিমা মোড়ল’দের একগুঁয়েমি চলতেই থাকে। শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ‘দোহা ঘোষণার’ বিরোধিতা করে এবং WHA-এর প্রস্তাব দ্রুত খারিজ করে দেয়।

এভাবে ধনী দেশগুলোর স্বার্থের লড়াই এবং নিজ নিজ দেশের বৃহৎ ওষুধ কোম্পানিগুলোর স্বার্থে কাজ করার ফলে ‘ইবোলা’, ‘সার্স’, ‘এইচ আইভি/এইডস’ প্রভৃতি রোগে হাজার হাজার মানুষকে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হয়েছে, যার জের এই প্রাণঘাতী বৈশ্বিক ব্যাধি ‘করোনার’ ক্ষেত্রে আরো প্রকটভাবে চলতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিষেধক উৎপাদনের জন্য গবেষণা ও ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ বাবদ যে আন্তর্জাতিক তহবিল আছে সেখানেও চলছে বহু জাতির বহু কোম্পানির বহু ধরনের স্বার্থের লড়াই। এগুলো এমনিতেই কল্পনাতীত ধরনের ব্যয়বহুল, তার ওপর যদি অনিশ্চয়তা এসে পথ আটকে দাঁড়ায় তাহলে করোনা রোগীদের দশা কী হবে? মানুষ যেভাবে পঙ্গপালের মতো মরছে সেভাবেই কি মরতে থাকবে?

নোবেলজয়ী মহামারী রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. পিটার ডোহার্টি বলেই ফেলেছেন, বহুজাতিক পাশ্চাত্যকেন্দ্রিক ওষুধ কোম্পানিগুলো বোঝে স্রেফ মুনাফা, (They Live by profits and the rules of capitalism. Capitalism has no interest in human beings other than as consumers)। (ধনবাদীরা মানুষ বোঝে না। তাদের চাই বিনিয়োগের মুনাফা আর ধনতন্ত্রের ধর্মও তাই)।

কানাডার একটি বড় ওষুধ কোম্পানি, যার মালিক আমেরিকান এবং কারখানটি জার্মানিতে, তারা কয়েক পদের বিকল্প ‘স্যাম্পল’ বের করেছিল। তারাও বড় বড় কোম্পানির ওষুধযুদ্ধে টিকতে পারেনি। তাই অনেক দুঃখ করেই, ধনাঢ্য বিল গেটসের অনুদানে পরিচালিত অলাভজনক ভ্যাকসিন তহবিলের GAVI Alliance প্রধান নির্বাহী সেঠ বার্কলে (Seth Barkeley) বলেছেন, ‘আমরা ওষুধ শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাইরে থেকে মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে চাই এবং "That is how science is done, and we really ought to follow the paradigm of the Canadian pharmaceutical initiative. বার্কলে আরো দুঃখ অনুতাপ নিয়ে বলেছেন, ‘মানুষ মানুষকে মারার জন্য কত বোমা-বারুদ-যুদ্ধাস্ত্র বানিয়েছে। সেগুলো মোতায়েন, মজুদ এবং নিরিখও করা আছে। এখন দেখা যাচ্ছে, একটি ক্ষুদ্র ভাইরাস ওই সব মারণাস্ত্রকে ডিঙ্গিয়ে মানব জাতির ধ্বংসের জন্য তৈরি হয়েছে।’

সাম্র্রাজ্যবাদীরা ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন বা ভেনিজুয়েলায় মানুষ মারার জন্য তাদের সেনাদের পাঠিয়েছে। তাতে নিজেদের লাভ তো হয়ইনি, বরং জাতীয় পতাকায় মুড়ে তাদের তরুণ সেনাদের লাশই দেশে ফিরিয়ে এনেছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের USS Roosevelt ক্যাপ্টেনকে যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরখাস্ত করলেন এবং জাহাজভর্তি করোনাক্রান্ত মেরিনদের জাহাজ থেকে ডাঙ্গায় নামতে নিষেধ করলেন সে দিন বিশ্বকে নাড়া দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল আমেরিকার পোতাশ্রয়েই। প্রায় ২৫০ বছর ধরে এত যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, দুই দুটি মহাযুদ্ধ, ‘ঠাণ্ডা’ যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কোরিয়া যুদ্ধ এবং বর্তমান যুদ্ধ চলছে, কোথাও আমেরিকান সেনাদের বিদ্রোহ করার কথা কেউ শোনেনি। এই প্রথম টঝঝ জড়ংবাবষঃ যুদ্ধজাহাজের নৌসেনারা তাদের ক্যাপ্টেনের বরখাস্তের নির্দেশের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পুরো সামরিক কায়দায় তাদের গতরে কোভিড নিয়েই তাকে মার্শাল স্টাইলে বিদায় অভিবাদন জানায়। এই ঘটনা সেনাবিদ্রোহেরই শামিল। এ থেকে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের অনেক কিছু শেখার আছে।



আরো সংবাদ