২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ

-

বিশ্ববাসী কল্যাণরাষ্ট্র থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো ইহুদি ষড়যন্ত্র। ইহুদিরাই বিগত ২১০০ বছর ধরে পৃথিবীকে কল্যাণরাষ্ট্রশূন্য করার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে পৃথিবীর প্রায় সব রাষ্ট্রে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সংক্ষেপে ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের দলিল 'Protocol of the Elders of the Zion' বই থেকে কিছু ষড়যন্ত্রের নমুনা উল্লেখ করছি।

অ-ইহুদিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
১. অ-ইহুদি সমাজে সম্ভ্রান্ত শ্রেণী নামক যে মহলটি আমাদের বিরুদ্ধে ইহুদিদের প্রতিরোধের কাজ করতে সমর্থ ছিল আমরা সে শ্রেণীর অস্তিত্ব মিটিয়ে দিয়েছি। অ-ইহুদি সমাজের স্বাভাবিক ও বংশানুক্রমিক সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর ধ্বংসস্তূপের ওপর আমাদের কাক্সিক্ষত শিক্ষিত ও অর্থশালী লোকদের দিয়ে নতুন সম্ভ্রান্ত গোষ্ঠী স্থাপন করেছি। (প্রটোকল, ষড়যন্ত্রের সর্বমুখী জাল, অধ্যায়) ২. আমাদেরই উসকানির দরুণ জনগণ তাদের সমাজের অভিজাত শ্রেণীকে ধ্বংস করেছে। অথচ এই শ্রেণীতেই ছিল তাদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের একমাত্র রক্ষাকবচ। আজকাল অভিজাত শ্রেণী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর জনগণ নিষ্ঠুর অর্থলোলুপ বদমায়েশদের খপ্পরে পড়েছে। আর এ বদমায়েশ শ্রেণী জনগণের ঘাড়ের ওপর নির্মম ফাঁস এঁটে দিয়েছে। (প্রটোকল, প্রতীক সাপের রহস্য অধ্যায়) ৩. আমাদের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার ফলে জনগণ সৎলোকের নিন্দা করে এবং দুর্বৃত্তদের প্রশংসা করে। এভাবেই তারা তাদের অজ্ঞতা ও অস্থিরতার দরুণ নিজেদের সমাজের সর্বপ্রকার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে প্রতি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। (প্রটোকল) ৪. অ-ইহুদি জনগণের অন্তর থেকে আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার ধারণা মুছে ফেলতে হবে এবং সে স্থানে শুধু গণিতের হিসাবপত্র ও বস্তুতান্ত্রিক প্রয়োজনের অনুভূতি প্রবল করে তুলতে হবে। এমতাবস্থায় তারা পরস্পরের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের তীব্রতাপূর্ণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের বজ্র আঘাত নিরাসক্ত, উদাসীন ও হৃদয়হীন সম্প্রদায়ের জন্ম দেবে এবং দিয়েছে। এ ধরনের সম্প্রদায়গুলো উচ্চতর রাজনীতি ও ধর্মের প্রতি চরম ঘৃণা পোষণ করবে। তাদের একমাত্র আদর্শ হবে স্বার্থ। এ স্তরে পৌঁছার পর অ-ইহুদি সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোকরা আমাদের নেতৃত্বে তাদের সমাজের বুদ্ধিমান শ্রেণীকে আক্রমণ করবে। এ শ্রেণীটিই প্রকৃতপক্ষে আমাদের দুশমন। অ-ইহুদি জনতা কোনো কল্যাণের জন্য বা সব সম্পদ হস্তগত করার জন্য এ আক্রমণ করবে না। আমাদের দ্বারা দীর্ঘকাল যাবত বুদ্ধিমানদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে প্রচারিত বিদ্বেষের ফলে এরা নিজেদের সমাজের উত্তম লোকদের আঘাত করতে এগিয়ে আসবে। (প্রটোকল, ঈমান হরণ অধ্যায়) ৫. আমরা সুকৌশলে উৎপাদনের পরিমাণ কমানোর সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা নেব। এ কাজে সাফল্যের জন্য শ্রমিকদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ও পানাসক্তি বাড়িয়ে দেবো। এ শ্রমিকদের মাধ্যমে অ-ইহুদি সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীকে ধরাপৃষ্ঠ থেকে মুছে ফেলার ব্যবস্থা করব। (প্রটোকল, অর্থনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি অধ্যায়) ৬. আমাদের শাসনক্ষমতা নিরাপদ রাখার জন্য আমরা অবশ্যই শ্রেণিবিভাগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে সবার ভোট দানের ব্যবস্থা করব। এর ফলে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হবো। শিক্ষিত ও বিত্তশালীদের কাছ থেকে এটা পাওয়া যাবে না। সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সবার মনে একটা গুরুত্ববোধ জাগিয়ে দিয়ে আমরা পারিবারিক গুরুত্ব ও শিক্ষার মর্যাদা মিটিয়ে দেবো। উত্তেজিত জনতা আমাদের পরিচালনায় এসব শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্তদের কখনো পাত্তা দেবে না। তাদের কথায় কর্ণপাতও করবে না। (প্রটোকল, রাজনৈতিক চালবাজি অধ্যায়) ৭. ব্যক্তিগত উদ্যম-উৎসাহের চেয়ে অধিকতর বিপজ্জনক বিষয় আমাদের জন্য আর কিছু নেই। প্রতিভা দ্বারা পরিচালিত ব্যক্তিগত উদ্যম, আমাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ লোকের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। এ জন্য আমাদের লক্ষ্যপথে বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম ব্যক্তিদের উদ্যম-উৎসাহকে স্তিমিত করার ব্যবস্থা করি। (প্রটোকল, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী অদৃশ্য সরকার অধ্যায়) ৮. আমরা রঙ্গমঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে থাকি মজলুম শ্রমিকদের ত্রাণকর্তা সেজে। ত্রাণকর্তা হিসেবে আমাদের সংগ্রামী বাহিনীতে যোগদান করার জন্য তাদের উসকানি দিই। আমাদের সংগ্রামী বাহিনী হচ্ছে, সমাজতন্ত্রী, নৈরাজ্যবাদী ও কমিউনিস্ট দল। (প্রটোকল, প্রতীক সাপের রহস্য অধ্যায়) ৯. অ-ইহুদি সমাজের বুদ্ধিজীবী মহলের মনমগজকে আমাদের মতলব অনুযায়ী গড়ে তোলা এবং উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথে তাদের ব্যবহার করার জন্য আমাদের দালাল গোষ্ঠী বিশেষজ্ঞ মহলে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তাসহকারে বিশেষ ধরনের জ্ঞান ও তথ্য পরিবেশন করে চলেছে। আর ওইসব বুদ্ধিমান বিচার-বিশ্লেষণ না করেই আমাদের পরিবেশিত তথ্যগুলোকে কার্যকর করতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। (প্রটোকল ইহুদি প্রাধান্যের গোড়ার কথা অধ্যায়) ১০. সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোনো একজনকেও প্রবেশ করতে দেয়া যায় না যদি তার অতীত জীবনে কোনো কলঙ্কের দাগ না থাকে। ওই কলঙ্ক প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ভয়ে সাংবাদিক গোপন তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। (প্রটোকল, অধ্যায় ১২) ১১. আমাদের পরিকল্পনা থেকে ফল প্রাপ্তির জন্য আমরা এমন সব ব্যক্তির সপক্ষে প্রেসিডেন্ট বা প্রধান নির্বাহী পদের ভোট সংগ্রহ করব যাদের অতীত জীবনের কেলেঙ্কারি জনগণের কাছে অজ্ঞাত। এ ধরনের ব্যক্তি শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত হলে আমাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এজেন্টে পরিণত হবে। কেননা, তার কেলেঙ্কারি প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিলেই সে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আমাদের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে বাধ্য হবে। ১২. আঞ্চলিকতা ও ভাষার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তা জাতিকে অসহায় ও খণ্ড বিখণ্ড করে, তাদেরকে ঋণ সাহায্য ইত্যাদি দিয়ে আমাদের প্রতি নির্ভরশীল করে তোলাই মুখ্য উদ্দেশ্য। এ বিরাট সাফল্যের জন্য অ-ইহুদি সমাজের এজেন্টরা ধন্যবাদার্হ।... অর্থের জন্য তাদের সর্বদাই আমাদের মুখাপেক্ষী হতে হয়। ১৩. ক্ষমতালিপ্সুুদের ক্ষমতা অপব্যবহারে উসকানি দেয়ার উদ্দেশ্যে আমরা এদের পরস্পরের মধ্যে স্থায়ী ঝগড়া-বিবাদ জিইয়ে রাখার পন্থা অবলম্বন করেছি। বিশেষ করে অনুন্নত মুসলিম বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইহুদিদের নানা প্রকার ভলান্টারি সংস্থা (যথা- বিভিন্ন ক্লাব ও এনজিও) ছদ্মবেশে ইহুদি স্বার্থে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে, পেটের দায়ে মুসলিম যুবকরাও শ্রম দিচ্ছে। বিভিন্ন দল গঠন করে আমরা তাদেরকে অস্ত্রসজ্জিত করে দিয়েছি এবং শাসনক্ষমতাকে প্রতিটি উচ্চাকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঠিক করে দিয়েছি। রাষ্ট্রগুলোকে আমরা শক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরিণত করেছি। এখানে অসংখ্য বিভ্রান্তিকর আলোচ্য বিষয় নিয়ে পরস্পরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। তারপর বিশৃঙ্খলা ও দেউলিয়াপনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। (প্রটোকল, প্রতীক সাপের রহস্য অধ্যায়) ১৪. অন্তহীন গোলমাল সৃষ্টিকারীরা পার্লামেন্টের অধিবেশনে ও শাসন বিভাগীয় বোর্ডগুলোতে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়।... ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিটি সংস্থাকে উৎখাত করার চরম মুহূর্তটিকে ডেকে নিয়ে আসবে এবং উন্মত্ত জনতার চাপে সবকিছুই শূন্যে বিলীন হয়ে যাবে। (প্রটোকল অধ্যায় ওই) ১৫, অ-ইহুদি সমাজে আমরা এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির এবং এক জাতিকে অপর জাতির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছি। গত বিশ শতাব্দীজুড়ে এদের মধ্যে ধর্মীয় ও অন্যান্য বিদ্বেষ ছড়িয়েছি। এর জন্যই আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করার সময় কোনো রাষ্ট্র অপর কোনো রাষ্ট্রের সহায়তা আশা করতে পারে না। (প্রটোকল, ঈমান হরণ অধ্যায়) ১৬. আজাদী সত্যিকারের কল্যাণকর হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা জনগণের উপকার করতে পারে, যদি আজাদী আন্দোলনের ভিত্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও মানবজাতির পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ওপর স্থাপিত হয়। সবার সমানাধিকারের দাবিই হচ্ছে সব অনর্থের মূল। কেননা, সৃষ্টিকর্তা কোনো মহলকে কোনো মহলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। ঈমানের জোরেই মানুষকে ধর্মীয় নেতাদের অভিভাবকত্বে সহজে শাসন করা সম্ভব। দুনিয়ার ওপর আল্লøাহর কর্তৃত্ব স্বীকার করে নিয়ে আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন নেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে মানুষ পরিপূর্ণ তৃপ্তি ও আনুগত্য সহকারে জীবন-যাপন করতে সর্বদাই প্রস্তুত।

আমাদের জন্য তাদের ঈমান দুর্বল করে ফেলা জরুরি। অ-ইহুদি জনমনে খোদার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার ধারণা মুছে ফেলতে হবে এবং সে স্থলে শুধু গণিতের হিসাবপত্র ও বস্তুতান্ত্রিক প্রয়োজনের অনুভূতি প্রবল করে তুলতে হবে। (প্রটোকল : ঈমান হরণ অধ্যায়) ১৭. অ-ইহুদি ধর্মগুরুদের বদনাম করে তাদের মতবাদকে অচল করে দেয়ার জন্য আমরা প্রাচীনকাল থেকেই চেষ্টা করে আসছি। নতুবা তারা আমাদের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারত। এখন অবস্থা এই যে, মানব সমাজে ধর্মনেতা ও পুরোহিতদের প্রভাব প্রতিদিনই কমে আসছে। সর্বত্রই ‘স্বাধীন’ চিন্তাধারার দাবি উঠছে। তাই মাত্র কয়েক বছর পরই খ্রিষ্টানদের ধর্ম সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাবে। অন্য ধর্মগুলোকে নাস্তানাবুদ করা আমাদের জন্য আরো সহজ হবে।... ধর্মনেতা ও পাদ্রিদের কর্মক্ষেত্রকে আমরা এমনভাবে সঙ্কীর্ণ করে দেবো যে, তাদের প্রভাব দিন দিন হ্রাস পেতে থাকবে। (প্রটোকল : আইন, ব্যবসা, ধর্ম ও গুপ্তচরবৃত্তি অধ্যায়) ১৮. নেশাগ্রস্ত জানোয়ারের দিকে তাকাও, শরাব পানের ফলে তার মাতাল অবস্থা লক্ষ করো। এটাই হচ্ছে তাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করার উপযুক্ত সময়। এভাবে অ-ইহুদিদের মাতাল করে কাজ উদ্ধার করার পথ আমাদের জ্ঞাত। আমাদের এজেন্টদের প্রচেষ্টায় এদের যুবসমাজ নৈতিক অধঃপতন ও শ্রেণিবিদ্বেষে বোধশক্তিহীন হয়ে গেছে।... জনসমাগম স্থলে আমাদের নারী এজেন্টরা অ-ইহুদিদের নৈতিক চরিত্রের পতন ঘটানোর জন্য কাজ করছে। আর নারী এজেন্টদের সাথে অ-ইহুদি সমাজের ওই সব ‘সোসাইটি গার্ল’ও রয়েছে যারা স্বেচ্ছায় দুর্নীতি ও বিলাসিতার ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করে চলে। (প্রটোকল : ষড়যন্ত্রের সর্বমুখী জাল অধ্যায়)

ইহুদিদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, একজন ইহুদি বাদশাহ সমগ্র দুনিয়া শাসন করবে। এ লক্ষ্যে তারা দুনিয়ার অ-ইহুদি সব জাতিকে ভেতর থেকে পঙ্গু ও দুর্বল করে দখল করতে চায়। এর প্রথম পদক্ষেপ হলো ষড়যন্ত্রের রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। এ রূপরেখা বাস্তবায়নে তাদের প্রকাশ্য সংস্থাগুলো সক্রিয়। অপ্রকাশ্য হলো মিডিয়া। দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য এনজিও ইহুদি এজেন্ডা বাস্তবায়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। ইহুদি ষড়যন্ত্রের দলিল থেকে মাত্র ১৮টি ষড়যন্ত্রতত্ত্ব উল্লেøখ করে ওই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের জাতিকে উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করছি।

ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেতে করণীয়
আমাদের বংশানুক্রমিক সম্ভ্রান্ত শ্রেণীকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনতে হবে। ২. অভিজাত শ্রেণীকে রাজনীতি ও নেতৃত্বে পুনর্বহাল করে ‘বদমায়েশ’দের হাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা কেড়ে নিতে হবে। ৩. ইহুদি মিডিয়ার বিপরীতে নিজস্ব মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সৎ লোকের প্রশংসা ও দুর্বৃত্তদের নিন্দা করতে হবে। ৪. ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন লোকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষা দিলে ইহুদি চক্রান্ত থেকে জাতি রক্ষা পাবে। ৫. অপরাধপ্রবণ লোকদের সৎপথে ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সুফল আশা করতে পারি। ৬. প্রচেষ্টা থাকবে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থায় সবাই যেন সত্যিকারের শিক্ষিত হয় তার ব্যবস্থা করা। ৭. আমাদের কাজ হবে দেশের প্রতিভাবান ও উদ্যমী ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করা। ৮. নৈরাজ্যবাদী নিরীশ্বরবাদী ইহুদিদের সাথে যারা জোটবদ্ধ হয় তাদেরকে বয়কট করতে হবে। ৯. দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধী বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে জাতিকে সচেতন করতে হবে। ১০. ইহুদিদের হাতের ক্রীড়নক সাংবাদিকদের বর্জন, সৎ সাংবাদিকদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। ১১. চরিত্রবান ও খোদাভীরু লোকদের জনগণ যাতে নির্বাচিত করে তার ব্যবস্থা করতে হবে। ১২. ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। ১৩. ইহুদি সংশ্লিষ্ট রহস্যময় ক্লাব এবং এনজিওর সাথে জড়িতরা যাতে দেশের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে আসীন হতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৪. দেশবিরোধী এবং দুর্বৃত্ত শ্রেণীর লোক পার্লামেন্ট সদস্য হতে না পারে তার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ১৫. জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রতিবেশী ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক করতে হবে। ১৬. ধর্মনেতাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। রাসূল সা:-এর নীতিও ছিল সেটিই। ১৭. মূলকথা হলো, আমরা যদি নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ ও উজ্জীবিত করি তবে ইহুদিবাদ লক্ষ্য অর্জনে বাধাগ্রস্ত হবে। ১৮. মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে। দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সে কল্যাণরাষ্ট্রই অন্যান্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে।

লেখক : প্রবন্ধকার, সম্পাদক- ইতিহাস অন্বেষা; আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি (ঢাবি)



আরো সংবাদ