২৫ নভেম্বর ২০২০

ধর্ষণের বিরুদ্ধে গানম্যান

-

আমাদের দেশে অন্যান্য জঘন্য অপরাধের সাথে চরম কলঙ্কজনক নিকৃষ্ট অপকর্ম ‘ধর্ষণ’ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক ঘটনা আমাদের বাকহীন, দিশাহীন, সীমাহীন পেরেশান করে ফেলে। যেমন- অনেক ‘মাহরাম’ (বাপ, শ্বশুর, চাচা, মামা, ভাইবোন), অভিভাবক সম্পর্কীয়, অতিশয় বৃদ্ধ, শিশু কর্তৃক ধর্ষণের বা নৃশংস বিভিন্ন ঘটনা যা বলতেও মন চায় না। না বললেও এদের দমন করা হবে না। কেয়ামতের এসব আলামত দেখতে হচ্ছে। এটাই দুর্ভাগ্য। আবু জাহেল বেঁচে থাকলে হয়তো বলত, ‘বাংলাদেশ আমাদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’

ভয়ানক ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ধর্ষকরা এমন নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে যে, এরা এত যৌন ক্ষুধার্ত বা নির্ভয় হয় কিভাবে? তাই বড় প্রশ্ন এদেশ ধর্ষণ ও দস্যুতার অভয়ারণ্য হলো কিভাবে? সমস্যার মূলে না গিয়ে কয়েকজন ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করে আন্দোলন করলে বা ফাঁসি দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। সমগ্র সমাজ মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে গেছে। তার মাঝেও যারা ভালো আছে তাদের নিয়ে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।

ভয়ঙ্কর জঘন্য ঘটনায় কয়েকজন সরকারদলীয় গ্রেফতার হওয়া আসলে কোনো সুশাসনের পরিচয় নয়, বরং ঘটনা ঘটার আগেই সুশাসনের পরিচয় দিতে হবে। ‘জিরো টলারেন্স’ ঘটনা ঘটার আগেই না হয়ে, পরে বলা হলে কী লাভ? দলীয় লোকদের গ্রেফতারে কাঁচুমাচু করে ধামাচাপা দিলে বা শাসনের বাহাদুরি দেখালে হবে না। বরং এদের এত দৌরাত্ম্য বাড়ল কেন তার জবাব দিতে হবে। এদের অপকর্মের খুবই সামান্যই প্রকাশ্যে আসে। এদের এত আশকারা কেন দেয়া হয়? এদের যন্ত্রণায় দেশবাসী চরম অসন্তুষ্ট। কখন এদের বিনাশ হবে, সে অপেক্ষায় আছে।

আগে নৈতিক শিক্ষা, ওয়াজ মাহফিল তথা মুরব্বিদের কড়াকড়িতে, লজ্জা ভয়ে কোনো অপরাধী মাথাচাড়া দিয়ে উঠত না, এখন নৈতিক শিক্ষা, ভালো ওয়াজ মাহফিল বন্ধ এবং মুরব্বিরাই সম্মানের ভয়ে চুপষে গেছেন, বখাটেপনারই জয়জয়কার। এরা মুরব্বি দূরের কথা নিজের নেতাকেই মানে না, বা নেতাই বখাটে। এ দিকে সমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে। নৈতিক শিক্ষা, মান্যগণ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। একমাত্র ইসলামী আদর্শই বেপরোয়া ধর্ষণ, লুণ্ঠন, জুলুম, বন্ধ করতে পারে। সমস্যা হলো ইসলামের কথা শুনলেই অনেকের শরীরে যেন আগুন জ্বলে ওঠে। কিন্তু ইসলাম ছাড়া অতীতেও এর সমাধান হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না, ধর্ষণবিরোধী আইন সব দেশেই আছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এমনকি শুধু কয়েকজনকে ফাঁসি দিলেও হবে না। গত ১০ অক্টোবর দেখলাম, সব দলই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার, কিন্তু ছাত্রলীগ বেশি সোচ্চার ‘নূর’কে গ্রেফতার করার জন্য। এমন দল থেকে ফলটা কী আসবে?

জাতি অতীতেও অনেক ভুয়া ধর্ষণের অভিযোগ এবং পাতানো বিচার দেখেছে। অতীতের ভুয়া অভিযোগের বকেয়া পূরণ করতে আজকের ধর্ষকরা কি উম্মাদের মতো আচরণ করছে? হে আল্লাহ তুমি আমাদের বাঁচাও। জনগণের সম্পদ লুটে পুটে নিঃস্ব করে এখন গড় মাথাপিছু আয়ের হিসাব হাতে তুলে দিচ্ছে। হাসপাতাল করোনা সরঞ্জাম, ত্রাণ লুটের প্রতিযোগিতা হয়েছে। চিকিৎসা হয়নি। মানুষ হাসপাতাল বর্জন করছে। মনে হয় তাই করোনাও ‘কমছে’।

মেয়ের নিরাপত্তার জন্য তাড়াতাড়ি বিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যেত। এখন সে নিরাপত্তাও ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশুকন্যা, কন্যা, মা, দাদী, নানী সবাই এখন অরক্ষিত এবং বিপদে। এ দেশে এমন পাইকারি অধঃপতন ছিল না। এখন এ নারীদের জন্য সরকারকে গানম্যানের ব্যবস্থা করতে হবে। মহিলা সমাজকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাই গানম্যান দিতেই হবে। না হয় দস্যুদের থামান। মোবাইল ফোনগুলো এ অবস্থায়ও অবৈধ ‘বান্ধবী’ জোগান দিচ্ছে।

এ দিকে ধর্ষণের আরেকটি দিক লক্ষ করা যায়। তা হলো ‘প্রলোভনে ধর্ষণ? দুর্ঘটনা ক্রমে ধর্ষণ হতে পারে। কিন্তু প্রলোভনে ধর্ষণ, এ কেমন অভিযোগ? লোভ বা প্রলোভনের কোনো বিচার বা শাস্তি হবে না? এ জন্য উভয়ের শাস্তি হতে হবে, এটি মূলত ধর্ষণ নয় বরং সম্মিলিত চরম ব্যভিচার ও পাপাচার। এসব কাজ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এটিকে হালকাভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। অন্যান্য প্রাণী নিয়ম মানে এবং ধর্ষণের স্বীকার হয় না।

সমগ্র পৃথিবীর নারী-পুরুষের মধ্যে পুরুষরা বেশি বস্ত্রাবৃত শরীরে থাকে। দুনিয়াব্যাপী নারীরাই ধর্ষণের শিকার। তার পরও কারো বোধোদয় হয় না এবং এর সমাধানও হয় না। অন্যান্য কারণের মধ্যে পোশাক এবং অঙ্গভঙ্গি ও ধর্ষণের জন্য অনেকটা দায়ী। সব পক্ষকেই সংযত হতে হবে।


আরো সংবাদ