০৪ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশে শিক্ষার হালহকিকত

-

সবাই বলেন শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তবে আজকের পরিপ্রেক্ষিতে বলব, সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার আগে ‘সু’ অব্যয়টি যুক্ত করলাম। কারণ আজকাল দাবি করা হচ্ছে দেশে শিক্ষিতের হার বাড়ছে। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষ করছি, সে শিক্ষা জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারছে না। এর কারণ বহুবিধ হলেও অগ্রগতির জন্য সুশিক্ষা চাই। নিজে যেহেতু একজন শিক্ষক তাই শিক্ষকের ভূমিকার কথাই আগে বলি।

আমার শিক্ষকতুল্য ঢাকা কলেজের সহকর্মী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একটি সাক্ষাৎকারে শিক্ষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আজকাল শিক্ষকদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা শিক্ষক না আমলা, না ব্যবসায়ী, না ঠিকাদার, নাকি অন্য কিছু’। তিনি শিক্ষকতার চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেন কেন’? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আজকাল শিক্ষা আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস কক্ষে নেই। তা চলে গেছে শিক্ষকদের কুটিরে কুটিরে’ (কথাগুলো আমি স্মৃতি থেকে বললাম, হয়তো তার উক্তির সাথে হুবহু মিলবে না, তবে কথাগুলো এ রকমই।) শুনেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আজকাল প্রাইভেট পড়ান, দলীয় রাজনীতি তো করেনই। সরকারি কলেজের শিক্ষক-অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষরাও আজকাল দলীয় রাজনীতি করেন।

আমাদের শিক্ষাজীবনে (১৯৪৮-১৯৬৭) ‘শিক্ষকের কুটিরে কুটিরে শিক্ষা’র তেমন চল ছিল না। তবে কেউ কেউ বাড়িতে গৃহশিক্ষক ডেকে পড়তেন। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তার ‘নিষ্ফলা মাঠের কৃষক’ গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি ও তার ছোট ভাই গৃহশিক্ষকের কাছে পড়েছেন। আমিও প্রাইমারি লেভেলে তাই করেছি। তবে শিক্ষকতা জীবনে এর ঘোর বিরোধী ছিলাম, এখনো তাই আছি। এমন নয় যে, আমার বিষয়-আশয় প্রচুর ছিল বা আছে। পুরো শিক্ষকতা জীবন বেতন নির্ভর হয়ে যেমন পেরেছি তেমনই চলেছি। তবু সে পথে আমার রুচি হয়নি। যেসব শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান তাদের কুমিল্লা অঞ্চলে ‘দোকানদার’ বলা হয় অর্থাৎ এরা ‘বিদ্যার ব্যাপারি’। এ অভিধাটি আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে- বিদ্যাদান যেন আলু-পটোলের ব্যবসা। ফলে বহু শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যাচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে একবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের স্টাফ রুমে বসে কিছু সহকর্মীর সাথে শিক্ষকদের বেতন ও ‘কুটিরে’ শিক্ষকতা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। আমার যুক্তি ও নীতি-নৈতিকতার কথা শুনে এক তরুণ সহকর্মী আমাকে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলেন, ‘আপনি কি চান শিক্ষকরা মলিন পাজামা-পঞ্জাবি গায়ে রঙচটা ছাতা বগলে করে ক্লাসে আসুক?’ উত্তরে শান্তভাবে বললাম, ‘যিনি মলিন পাজামা-পাঞ্জাবি গায়ে রঙচটা ছাতা বগলে করে ক্লাসে আসতে পারেন, তিনিই যেন শিক্ষকতা পেশায় আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার গণিতের শিক্ষক আবদুর রহমান খলিফা তা-ই করতেন।’ আমি বুঝি, আমার উত্তর যথেষ্ট রূঢ় এবং সে সময়ে যারা সমতুল্য পেশায় ছিলেন তাদের জীবনমান বিবেচনা করলে যথেষ্ট বেমানান হয়েছিল। তবে আমি বিশ্বাস করি- শিক্ষকতা একটি ব্রত- কোনো পেশা নয়।

আজকাল ‘কুটিরে কুটিরে’ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোচিংবাণিজ্য। সে কারণে ক্লাসে আর ছাত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। শিক্ষকরাও ক্লাসের বদলে ছাত্রদের ‘কুটিরে’ কিংবা কোচিং সেন্টারে পড়াতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, যদিও তাদের বেতন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরাও এটি স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছেন। তা ছাড়া বৈধ-অবৈধ পথে লোকের হাতে আজকাল অঢেল পয়সাও এসেছে, যারা শিক্ষাকে আলু-পটোলের মতো পণ্য মনে করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ তাই ইংরেজ কবি টিএস এলিয়টের ভাষায় বলতে গেলে ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’ আর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ভাষায় ‘নিষ্ফলা মাঠ’। তবে এর থেকে পরিত্রাণের সহজ উপায় নেই। কারণ আজকাল যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুল লেভেলে হেডমাস্টার-অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার এবং কলেজ লেভেলে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ হচ্ছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেই শিক্ষকতা জীবনে প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে পড়াতেন (এককালে এসব পদের লোকেরা স্কুল-কলেজে ক্লাস নিতেন, আজ নেন না)। এরা এদের অধীনস্থ শিক্ষকদের প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে পড়াতে বারণ করবেন কোন মুখে? এখানেই শেষ নয়। সাম্প্রতিককালে ‘শিক্ষা ভবনে’ এডি থেকে ডিজি পর্যন্ত যারা বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন তাদেরও প্রায় সবাই শিক্ষকতাকালে এ কর্মটি করে এসেছেন। তবে সত্য এই যে, আজ সমাজ দেহের সর্বত্রই যেখানে ক্ষত সেখানে কেবল শিক্ষকদের ছিদ্রানুসন্ধান করেই বা লাভ কী?

আজকাল ছাত্রছাত্রীরা পাস করে ঠিকই, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ হয়ে বেরোয় না। আজকাল ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে ভাবে না যে, দায়িত্ব বাড়ল। এ সাফল্যকে ধরে রেখে জীবনে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু একটা করে দেখাতে হবে। উল্টো তারা ঢোল পিটিয়ে হাতের আঙুলে ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষর দেখিয়ে অশিষ্ট নাচানাচি করে। দেখে মনে হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো কিছু একটা জয় করে ফেলেছে- যা থেকে প্রচুর ‘গণিমতের মাল’ পাওয়া যাবে। আসলে উদ্দেশ্যটাও তাই; লেখাপড়া শিখে জীবনে বিল গেটসের মতো প্রচুর অর্থ উপার্জন করা। যদি কিছু ব্যতিক্রম থেকে থাকে, তবে তা আজকের নিয়মটাকেই প্রতিষ্ঠিত করে।

ত্যাগের শিক্ষা আজকাল ছেলেমেয়েরা তেমন একটা পায় না। সেই ১৯৬০-এর দশকে তদানীন্তন জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ, প্রখ্যাত দার্শনিক সাইদুর রহমান বলতেন, ‘আমাদের একমাত্র ত্যাগ, মলমূত্র ত্যাগ’। অবশ্য ১৯৭১ সালে বাঙালির ত্যাগের বিনিময়েই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তবে আজকের পরিপ্রেক্ষিতে তার এ উক্তি বহুলাংশেই যথার্থ। তিনি আরো একটি মজার কথা বলতেন। সেকালে ঢাকা শহরে জগন্নাথ কলেজ ছিল সবচেয়ে গোলযোগপূর্ণ। দুর্মুখরা এ কলেজকে বলত ‘জগবাবুর পাঠশালা’। শুনেছি, তার জনৈক বন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- ‘তুমি এটা চালাও কী করে’। তিনি উত্তরে বলেছিলেন- ‘এটা তো আমি চালাই না। এটা এমনি চলে। যখন কোনো গোলযোগ দেখা দেয় তখন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি কেবিন ভাড়া করা আছে, আমি তাতে গিয়ে শুয়ে থাকি। আবার যখন সব ঠিকঠাক হয়ে যায় তখন কলেজের লোকেরা আমাকে গিয়ে ডেকে নিয়ে আসে।’ আজ মনে হয়, দেশের প্রায় সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ‘জগবাবুর পাঠশালা’। অধ্যক্ষরা এসব চালান কী করে? বলছি।

১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা কলেজে কর্মরত ছিলাম। সে সময়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নোমান একদিন বললেন, কাউকে না জানিয়ে, কলেজের ছাত্র সংসদ কক্ষের দখল নিয়ে রক্তারক্তি ঠেকাতে তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রসংসদ নেতাদের চাপের মুখে রাতের অন্ধকারে এক আত্মগোপনকারী এ কলেজের ছাত্র নয় ‘এমন এক গুণ্ডার’ কাছে ছাত্র সংসদের চাবির জন্য ধরনা দিতে হয়েছে। আমি যখন ১৯৯০-এর দশকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে, দশকের প্রথমার্ধে সে কলেজের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা অধ্যক্ষকে নিজ কক্ষ থেকে বের করে কক্ষে তালা লাগিয়ে দিলে তাকে ক্ষমতাসীন দলের জেলার শীর্ষ নেতার কাছে চাবির জন্য ধরনা দিতে হয়েছে। একই দশকের শেষার্ধে একই কলেজে ছাত্রসংসদের বন্ধ কক্ষের চাবির জন্য কলেজের অপর এক অধ্যক্ষকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রসংসদ নেতাদের দাবির মুখে একই কলেজের ক্ষমতাসীন দলের এক প্রাক্তন ছাত্র নেতার কাছে টেলিফোন করতে হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াল, ছাত্রদের একটি প্রভাবশালী অংশ আজ আর শিক্ষক বা কলেজ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজ রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তাই শিক্ষা ও শিক্ষকেরও রাজনীতিকরণ হয়েছে।

পক্ষান্তরে, ১৯৬১-৬৩ শিক্ষাবর্ষে আমি যখন ঢাকা কলেজে এইচএসসি (বিজ্ঞান) লেভেলের ছাত্র, তখন একই শিক্ষাবর্ষের এবং একই লেভেলের কতিপয় ছাত্র (তখন কলেজ পর্যায়ে ছাত্র সংগঠন ছিল না) ১৯৬৩ সালের টেস্ট পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সব পরীক্ষার্থীকে কলেজে ঢুকতে বাধা দিলো। পরীক্ষার্থীরা কলেজ গেটের ওপারের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আছে। কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমেদ (রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমানের শ্বশুর) জনাকয়েক সিনিয়র শিক্ষক সাথে করে কলেজের গেটে এসে ছাত্রদের পরীক্ষা দিতে সস্নেহ অনুরোধ জানান। তিনি এ-ও বললেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে দেশের সেরা ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা যে যা পার তাই লিখ, আমি একজনকেও আটকাবো না। তবে মনে রেখ টেস্ট পরীক্ষা ব্যতিরেকে একটি ছাত্রকেও সেন্টআপ করব না।’ কিছু সেই ছাত্রদের ভয়ে তবু কেউ পরীক্ষা দিতে গেল না। সবার দৃষ্টির আড়ালে কলেজ-অডিটোরিয়ামের পেছনে লোহার হেলমেট মাথায় অজস্র পুলিশ মোতায়েন ছিল। উপায়ান্তর না দেখে অধ্যক্ষ পুলিশ দিয়ে সে ক’জন ছাত্রকে গ্রেফতার করালেন। এরপর সবাই টেস্ট পরীক্ষা দিতে কলেজের ভেতরে ঢুকল। পরবর্তীতে ওই সব ছেলের আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়। একজনকে আজীবন।

শিক্ষামন্ত্রী জ্ঞানী লোক হওয়ারই কথা। শুনেছি, জ্ঞানী লোকেরা মেপে মেপে কথা বলেন। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যে কী বেহাল দশা, সে ব্যাপারে সরকার এবং শিক্ষাপ্রশাসন তেমন একটা মাথা ঘামায় বলে মনে হয় না। বিজ্ঞানে ছেলেমেয়েরা পড়তে অনাগ্রহী। বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী ফেল করে। বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান গবেষণাগার নেই। পরীক্ষাকালে প্রায় দেখা যায়, পরীক্ষার হলে ছাত্রছাত্রীদের মাথায় হাত রেখে শিক্ষামন্ত্রী আলাপ করে থাকেন। এতে পরীক্ষার্থীর মনোযোগ নষ্ট হয়ে উত্তর ভুল হতে পারে। ভিডিও ক্যামেরার বহর নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে তার যাওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে কি? এটি যদি তার সদিচ্ছার প্রকাশ হয়ে থাকে তবে এই সদিচ্ছা নিয়ে স্বাধীন দেশের সরকার প্রধান ও শিক্ষামন্ত্রী যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়নে ও সমস্যা সমাধানে একনিষ্ঠ হন, তবে ছাত্রছাত্রী তথা জাতি উপকৃত হতো। পরাধীন ভারতে যুক্তবঙ্গের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী এ কে ফজলুল হক তাই করেছিলেন। আমরাও তো পরাধীন দেশে লেখাপড়া করেছি। কই কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তো পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের ডিস্টার্ব করতে আসেননি। আমার মনে হয়, স্কুল পর্যায়ের ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার ভার প্রধানমন্ত্রী লেভেলের মতো এত উচ্চ পর্যায়ে না নিয়ে সরাসরি বোর্ডগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়াই ভালো। এটাই সঙ্গত। এতে শিক্ষার রাজনীতিকরণের পথ বন্ধ হওয়ার কথা।

আজকাল গ্রামগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। একটা সময় ছিল যখন গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা বেশ ভালো করত। আমরা চাঁদপুরের মতলবের অলিউল্লাহ পাটোয়ারীর কথা স্মরণ করতে পারি। তিনি গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে ভালো ছাত্র সংগ্রহ করে তার মতলব স্কুলে ভর্তি করতেন। তিনি সে স্কুলের সার্থক হেডমাস্টার ছিলেন। আমরা যারা সেকালে (১৯৫৬-৬০) ঢাকার সরকারি হাইস্কুলে পড়াশোনা করতাম, তখন আমাদের শিক্ষকদের শ্রদ্ধাভরে তার নাম উচ্চারণ করতে দেখেছি। সেকালে তার স্কুলের সব ছাত্র তো ভালো করতই অধিকন্তু একাধিক ছাত্র প্রায় প্রতি বছর ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম থেকে দশম স্থানের মধ্যে থাকত। গ্রামে এমন আরো অনেক স্কুল ছিল। শ্মশ্রূধারী এই বরেণ্য হেডমাস্টার পাকিস্তান আমলে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ঢাকা শহরের বেসরকারি স্কুল, নবকুমার ইনস্টিউশনের হেডমাস্টার আবদুল মন্নান যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। আজকাল ঢাকা শহরের বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো এমনকি সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর চেয়ে ভালো করছে। তবে মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো তেমন ভালো করছে না। কারণ এগুলো প্রায় উপেক্ষিত। কেবল ঢাকার স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে গর্বভরে ঢাকঢোল পেটালে চলবে না। সারা দেশের দিকেই তাকাতে হবে। সারা দেশ অন্ধকারে রেখে শুধু ঢাকায় বাতি জ্বালালে, ঢাকাও একদিন অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল, মহিলা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা।


আরো সংবাদ

সকল

সৌদি আরবে ইমাম হোসাইন মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ (১১৪৮৮)রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো (১০৬৫১)অপশক্তি মোকাবেলা করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মামুনুল হক (৯৪০৬)বায়তুল মোকাররমের সামনে ভাস্কর্যবিরোধীদের মিছিলে লাঠিচার্জ (৮২৫২)কোনো মুসলিম হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা (৭৩৩৯)আওয়ামী লীগের আপত্তি, মামুনুল হকের মাহফিল বাতিল (৬৬৯১)ভাস্কর্য, মহাকালের প্রেক্ষাপট (৬২২৫)ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না : সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ (৬১৩০)স্টেডিয়ামগুলোকে জেলে রূপান্তরের অনুমতি না দেয়ায় কেজরিওয়ালের ওপর ক্ষুব্ধ মোদি (৬০৫৭)নাগর্নো-কারাবাখে জয় পেতে কত সৈন্য হারাতে হলো আজারবাইজানকে? (৫৮৭৪)