১১ আগস্ট ২০২০

মনে রাখতেই হবে

শফিউল বারী বাবু - ফাইল ছবি
24tkt

গত মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হওয়া শফিউল বারী বাবু।

ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন ছাত্ররাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা শফিউল বারী বাবু। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে সচেতনভাবেই ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে আহ্বায়ক হন। এরপর যথাক্রমে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। এবং শেষ পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সফল সভাপতি থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

বিনয়ী, স্বল্প-ভাষী, সৎ সাহসী এবং সমসাময়িক বয়সের অনেকের চেয়ে বেশি চিন্তাশীল উদীয়মান সম্ভাবনাময়ী নেতা বাবু মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমাদের মাঝ থেকে হঠাৎই চলে গেলেন চিরকালের জন্য।

তার এ চলে যাওয়া আমাদের জন্য কত বড় কষ্টের তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। হৃদয় দ্বারা তা উপলব্ধি করছি এবং করে যাবো। আমাদের জন্যই, দেশের জন্যই, সর্বোপরি জাতীয়তাবাদীর শক্তির জন্য। এ প্রজন্মের ছাত্রনেতারা মনে রাখবে আগামী প্রজন্মের জন্য। কিভাবে তিনি শহীদ জিয়ার আর্দশ ধারণ করে, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আগামীর দেশনায়ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা পালন করছেন। আমরা থাকে ভুলতে পারি? ভুলবো না- স্মরণে ও কর্মেই বেঁচে থাকবেন তিনি।

শফিউল বারী বাবুর সতীর্থ হিসেবে বিপরীত ধারার প্রতিযোগিতামূলক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুল হক নিজের ফেসবুক পেজের পাতায় এক লেখায় লিখেছেন, ছাত্রদলের রাজনীতির ইতিহাসে বাবু ভাইয়ের কাছাকাছি জনপ্রিয় ও সাংগঠনিক নেতা কখনো দেখেননি, ছিলেন বলেও বিশ্বাস করেননি। বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে ও আগামীর জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে তার এই উপলব্ধি।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিশ্বাসী এরকম একজন সম্ভবাবনাময় সংগঠকের অকাল মৃত্যু সামগ্রিক রাজনীতির জন্য সুখকর নয়।

বিদায় আমাদের প্রিয় নেতা শফিউল বারী বাবু, যার সাথে দেখা হলে কাছে আসার আগেই বিনয়ীভাবে সালাম বিনিময় করতেন। তিনি আর সেরকম করবেন না। বাবাকে হারিয়ে এতিম হওয়া আপনার দুটি শিশুসন্তান বড় হয়ে গর্বের সাথে সমাজে মাথা উঁচু করে যেন দাঁড়াতে পারে এই দোয়া করি।

ইনশাআল্লাহ আমরা আপনার আদরের সন্তানদেরকে আগলে রাখবো বাকি পথটুকুতে।

লেখক : সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস


আরো সংবাদ