০৯ আগস্ট ২০২০

দক্ষিণ এশিয়ায় সঙ্ঘাতের কারণ ও প্রভাব

দক্ষিণ এশিয়ায় সঙ্ঘাতের কারণ ও প্রভাব - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

গত ১৫ জুন ভারত ও চীনের লাদাখ সীমান্তে ঘটে গেল অর্ধশতাব্দীর ভয়াবহতম সংঘর্ষ। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সেনারা মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠিসোটা আর পাথরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এতে ভারতীয় পক্ষের একজন কর্নেলসহ ২০ জন সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৭৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। সংবাদ মতে, আরো ১০ জন চীনা সেনাদের হাতে আটক হয় এবং পরে মুক্তি পায়। আর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চীনের ‘৪৩ জন’ সেনা নিহত হয়েছে, যদিও এ ব্যাপারে চীনের কোনো সূত্র থেকে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। চীনের সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাদের হতাহতের সঠিক তথ্য কোনো দিন পাওয়া যাবে কি না তা ভবিষ্যতই বলতে পারবে।

সংঘর্ষের উৎপত্তি : গত প্রায় এক মাসের উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে মনে হচ্ছে এই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ সংঘর্ষকে। কিন্তু এর শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। ঔপনিবেশিক আমলে ১৯১৪ সালে এই সীমান্ত দ্বন্দ্বের বীজ বপন করা হয়েছিল। বস্তুত পশ্চিমারা যেসব অঞ্চলে উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল, তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতাকামীদের ধাক্কায় বিতাড়িত হওয়ার সময় সেসব জায়গায় অশান্তির বীজ সন্তর্পণে বপন করে এসেছিল। ফলে আজো বিশ্বব্যাপী রক্ত ঝরছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

১৯১৪ সালে তৎকালীন উপমহাদেশের বিলেতি শাসকরা তিব্বত এবং চীনকে নিয়ে একটি সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ম্যাকমাহন লাইন’ নামে সীমান্ত রেখা টেনেছিলেন। কিন্তু চীনকে তারা সেটা কখনো মানাতে পারেননি। এই সীমানা অস্পষ্টতার বিষয়টি ১৯৫৯ সালে ভারতীয় প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহরুর বেইজিং সফরের প্রাক্কালে প্রথম দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। সফরের সময় নেহরু চীনের অফিসিয়াল মানচিত্রে দেখানো সীমানা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝাও এনলাই সরাসরি ঔপনিবেশিক সীমানাকে অস্বীকার করেন। এরপর ১৯৬২ সালে সীমানা আবার চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সময় দু’পক্ষের অসন্তোষের একপর্যায়ে চার দিনের এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে ভারতের অপমানজনক পরাজয় ঘটে। তাদের শত শত সেনা নিহত হয়। এ সময় চীন কৌশলগত আকসাই-চীন করিডোর, যা তিব্বতকে চীনের সাথে যুক্ত করেছেÑ দখল করে নেয়। ওই যুদ্ধের পরই বর্তমানের আলোচিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) দুই দেশের সীমানা হিসেবে টানা হয় এবং সিদ্ধান্ত হয়Ñ এর পর থেকে দু’পক্ষই এই সীমান্ত বরাবর টহল দেয়ার সময় কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বহন করবে না। এর মাধ্যমে আপাতত যুদ্ধ থামলেও কোনো পক্ষই আসলে সীমান্তরেখার এই ফায়সালা মেনে নেয়নি। ১৯৬৭ সালে উত্তর-পূর্ব সিকিমের ‘নাখুলা’ গিরিপথে আবার সংঘর্ষ হয়েছিল। বেশ কিছু দিন গোলা বিনিময়ের ফলে ওই যুদ্ধে ভারতের ৮০ জন এবং চীনের প্রায় ৪০ জন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ১৯৭৫ সালে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ‘টুলুংলা’ এলাকায় চীনা সেনাদের অ্যাম্বুশে পড়ে চার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর আর কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি তাদের মধ্যে। তবে ভুটানের দোকলাম মালভূমি এলাকায় চীন রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে ভারত সেখানে সেনা পাঠিয়েছিল ২০১৭ সালে। কারণ দোকলাম মালভূমি ভারতের কৌশলগত ‘চিকেন নেক’ বা উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাথে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ সড়ককে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। তবে কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই আলোচনার টেবিলে সেই মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটেছিল। 

আবার গত ১৫ জুন মধ্যযুগীয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায়। বিগত প্রায় দেড় মাস ধরে ওই অঞ্চলে দু’পক্ষের সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান ছিল। গত মে মাসে তাদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটেছিল। তবে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত রাখা হচ্ছিল। 

সঙ্ঘাতের কারণ : যদিও গত সপ্তাহের এই সঙ্ঘাত ছিল বিগত মাসখানেকের দু’পক্ষের সেনাদের মুখোমুখি অবস্থানের পরিণতি, তবুও মূল কারণ রয়েছে অন্যখানে। মূল কারণ আসলে প্রোথিত রয়েছে উভয় দেশের কৌশলগত লক্ষ্যের একেবারে গভীরতম স্থানে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ‘এলএসি’ বরাবর রয়েছে বেশ কিছু অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক করিডোর ও সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। সেগুলোর সাথে দুই দেশেরই স্বার্থ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে। বৃহত্তর কাশ্মিরের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা হিমালয় অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানবিশেষ। এ উপত্যকার পাশ দিয়েই চলে গেছে চীনের অর্থনৈতিক সড়ক কারাকোরাম, যা দিয়ে চীন, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছা যায়। এই চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) প্রজেক্টে চীন প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কাজেই ওই অঞ্চলে ভারতের সামরিক স্থাপনা তৈরির প্রচেষ্টায় চীন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া আকসাই-চীন মালভূমি এ অঞ্চলেই অবস্থিত, যার ওপর ভারত মালিকানা দাবি করে আসছে। অন্য দিকে, গালওয়ান উপত্যকার কাছেই রয়েছে নুবরা উপত্যকা, যেখানে ভারতের সিয়াচেন হিমবাহে মোতায়েনকৃত সামরিক বাহিনীর জন্য রেশন ও রসদ সরবরাহ স্টেশন অবস্থিত। কাজেই গালওয়ান উপত্যকায় চীনের নিয়ন্ত্রণ ভারতের এই সিয়াচেন হিমবাহে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাকে হুমকির সম্মুখীন করবে। এভাবে গালওয়ান উপত্যকা অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

উপরোক্ত মূল কারণের সাথে বেশ কিছু আনুষঙ্গিক কারণও রয়েছে, যা এবারের সংঘর্ষকে অনিবার্য করে তুলেছে। নয়াদিল্লির অভিযোগ মতে, চীন দীর্ঘ দিন ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং হ্রদ ও ডেমকক এলাকায় এবং সিকিমের নাখুলাতে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে। কাজেই ভারতও সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রাস্তা তৈরি করেছে এবং সামরিক স্থাপনা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। গত বছর তারা দারবুক-শায়ক হয়ে দৌলত বেগ ওল্দিতে বিমান ঘাঁটি পর্যন্ত রাস্তা উদ্বোধন করেছেন, যাতে ওই অঞ্চলে ভারতের অস্ত্র ও সেনা চলাচল দ্রুততর হবে। ওই রাস্তা নির্মাণে তাই চীনের খুব আপত্তি ছিল। এ দিকে নয়াদিল্লির আপত্তি হলোÑ বেইজিং গত এক মাসে নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে নিয়েছে। অবশ্য ‘এলএসি’ বরাবর বিভিন্ন নদী, হ্রদ প্রভৃতির উপস্থিতি এবং ঘন তুষারপাতের কারণে নিয়ন্ত্রণ রেখার সীমানা অস্পষ্ট থাকাও উভয়পক্ষকে রেখা অতিক্রম বা অতিক্রমের দোষারোপ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। 

সাম্প্রতিককালে ভারতের একতরফাভাবে তার সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে লাদাখকে কাশ্মির থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেন্দ্রের শাসনাধীন নিয়ে যাওয়া একটি বড় কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। নয়াদিল্লির ওই পদক্ষেপকে চীন তাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখতে পায়। দ্য উইলসন সেন্টারের এশিয়া প্রোগ্রামের উপপরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘আমার কাছে এটা পরিষ্কার, বেইজিং শক্তভাবে ভারতের গত বছর নেয়া সাংবিধানিক পদক্ষেপের জন্য খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। আমার মনে হয়, পাকিস্তানের মতো চীনও মনে করে, ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ তাদের নিজেদের অধিকৃত অঞ্চলের মালিকানাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ৩৭০ ধারা আবশ্যিকভাবেই চীনের বৃহত্তর চিন্তা-চেতনার একটি অংশ’ (সূত্র : আলজাজিরা নিউজ/ এশিয়া-সাইফ খালেক, ১৮ জুন ২০২০)।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীন এই তিন দেশের ত্রিকৌণিক সম্পর্কও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার পেছনে ক্রিয়াশীল রয়েছে। করোনাভাইরাসের উৎসস্থল সম্পর্কে পারস্পরিক দোষারোপের কারণে এবং বাণিজ্যযুুদ্ধের জন্য চীন-মার্কিন সম্পর্ক এখন তলানিতে। অন্য দিকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পালে হাওয়া লাগছে। বিশেষ করে এই দুই দেশের সামরিক বন্ধুত্ব এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে স্বভাবসুলভ, অদূরদর্শী ও অস্থির বক্তব্য চীনকে আরো উদগ্রীব করে তুলেছে। গ্লোবাল টাইমস নামে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির সংবাদপত্র গত ১৮ জুনের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘মার্কিন মদদে সীমান্তে ভারত চীনের মুখোমুখি হতে সাহস করেছে। কারণ মার্কিনিরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ভারতের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। আসলে চীনে আক্রমণ পরিচালনা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভারতকে দরকার’ (সূত্র : প্রাগুক্ত)। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে চীনের ভূরাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের জানান দেয়া। 

এই উত্তেজনার পেছনে আরো একটি কারণ ছিল। উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের ওপর ভর করে গত বছরের মে মাসে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন। ফলে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ওই অঞ্চলে নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে আসলে দূরদর্শিতাহীনতায় ভুগছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। 
এ দিকে চীনও সম্ভবত ভারতের বেপরোয়া ভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। করোনা মহামারীতে ও হংকং সমস্যা নিয়ে চীন সরকার দেশে-বিদেশে সমালোচনার সম্মুখীন এবং দেশকে অর্থনৈতিক টানাপড়েন থেকে বের করার চেষ্টারত। এ সময় তাদের নেতাদের জাতীয়তাবাদী একটা ধ্বনি তোলা খুবই প্রয়োজন। তা ছাড়া এ সময়টায় ভারত করোনাযুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন। কাজেই এটিই ছিল মোক্ষম সময় আক্রমণের জন্য। 

সঙ্ঘাতের প্রভাব : সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত আপাত দৃষ্টিতে শেষ হয়েছে। তবে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির ওপর। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে নতুন মেরুকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লির সাথে সাম্প্রতিককালে তাদের দীর্ঘ দিনের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী নেপালের মানচিত্রযুদ্ধ চলছে। শ্রীলঙ্কায়ও চীন বিভিন্নভাবে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এ দিকে বাংলাদেশের সরকারের সাথে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ভারতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত সাংবিধানিক ও সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশের মানুষ বেশ উদ্বিগ্ন। এমনকি এই মহামারীকালেও ‘বিএসএফ’ নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করছে। আবার পাকিস্তানের সাথে ভারতের প্রায়ই সীমান্ত সংঘর্ষ হচ্ছে। কাজেই এ সময়টায় শুধু ভুটান ছাড়া নয়াদিল্লির আর কোনো সীমান্তবর্তী প্রতিবেশীর সাথে নিষ্কণ্টক সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতি পুরোপুরি বিপন্ন হয়েছে বা ব্যর্থ হতে চলেছে। এ সুযোগে চীন স্বাভাবিকভাবেই এই ছোট দেশগুলোকে তার বলয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আর নয়াদিল্লির কাছে ছোট প্রতিবেশী দেশগুলোর কদর এখন বৃদ্ধি পাবে। কারণ ভারত এ অবস্থায় কোনোক্রমেই চীনের সাথে আর কোনো সামরিক সংঘর্ষে জড়াবে না। এখন সেই সামর্থ্য ও সাহস তার নেই। বরং তারা এখন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চীনকে মোকাবেলার পথই বেছে নিতে পারে। তবে মোদি অভ্যন্তরীণ চাপ কমানোর জন্য আপাতত কাশ্মির ও মুসলমান নাগরিকদেরই ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি ভারতীয় সেনারা চীনা ফ্রন্টে শান্ত থেকে পাকিস্তান ফ্রন্টে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। সেই সাথে কাশ্মিরে জুলুম-নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের শান্ত রাখার জন্য।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই বিবদমান পরাশক্তির মাঝখানে থেকে বাংলাদেশকে দূরদর্শী আচরণ করতে হবে। আমাদের সরকারকে দেশের জনগণের মনোভাব ‘পড়তে হবে’। এ সংঘর্ষের ব্যাপারে আমাদের নেতারা কোনো ধরনের আবেগপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকবেন এবং অতি সন্তর্পণে একটি ইতিবাচক কূটনীতির পথ অনুসরণ করবেন বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন।
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং পিএইচডি গবেষক (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।

E-mail: [email protected]


আরো সংবাদ