০৬ আগস্ট ২০২০

স্বাস্থ্য খাত : আফসোস! বড়ই আফসোস!

স্বাস্থ্য খাত : আফসোস! বড়ই আফসোস! - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

মহামারির মধ্যে থেমে নেই বাংলাদেশের দুর্ঘটনা। নিশ্চিন্ত জীবনের নিশ্চয়তা জান-মালের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এই দুর্ঘটনা জেন থামছেই না। সরকারের পর্যবেক্ষণের অভাব নাকি মানুষের দায়িত্বহীনতার অভাবে হৃদয় বিদারক এক রিফাতের কাহিনী। এভাবেই চলছে কাগজের নৌকার মতো সহায়হীন মানুষের জীবন। যে যেভাবে যে পারে চলছে- কেউ হেলে দুলে, কেউ বেপড়োয়া চালে, কেউ গড়িয়ে, কেউ হামাগুড়ি দিয়ে। আর সাধারণ রিফাতের মতো অপ্রস্তুত যে সে আহাজারি আজ করছে, কাল অন্যজন করবে।

মর্নিং বার্ড - সুন্দর নাম। হামিং বার্ডের মতো ছোট্ট সে, ছিল জলযান। যে নদীতে ঈগল বা শকুনের মতো ভারী সব জলযান হাজার যাত্রী নিয়ে চলে সে নদীতে মর্নিং বার্ড কেন নামবে তার মালিক? অনুমতি লাগার কথা তো ছিল বটেই। পেল কী করে?

সাকিব হাসান একা নন্, এই দুর্ঘটনা মেনে নিতে কেউ পারছে না। কোন সলিল সমাধি আছে লেখা কার ভাগ্যে আমরা কেউ জানি না।

রিফাতময় স্বদেশে সারা জন্মের জন্য কূলহারা মানুষের সংখ্যাই তো অনেক বেশি। কোন যাত্রীর কোনো বীমা পদ্ধতি নেই। রোগীর নেই নিশ্চয়তা কোথায় গেলে সে পাবে বেঁচে ওঠার ভরসা।

সব ভরসা সব নিশ্চয়তা ঠিকাদার আর বিল পাশ করার দায়িত্বে থাকা চেইন অব গুডফরচুনের বলয়ের ভেতর আছেন যারা তাদের জন্য। কেউ তাদের কিছু বলতে পারে না। কোটি কোটি টাকা কলমের খোঁচায় বিনিময় হয়ে যায়। কখোনো বালিশের আজগুবী মূল্যের কথা শোনে বা কখোনো যুগ ধরে তারা শুধু শুনছে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কথা রিফাতের মতো সাধারণরা। তার পর আসে আরো কিছু গাঢ় দাগের অসংগতির কথা। ঢাকা মেডিকেলের কুড়ি কোটি টাকার খানা পিনার কথা! লুটপাটে চিকিৎসাব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর অবস্থা সেখানে আবার করোনা যোদ্ধা ডাক্তার-নার্সরা অভিযোগ করছে তাদের নিম্নমানের খাদ্য সরবোরাহ করার কথা। তার পরও ঠিকাদারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। নেই কোন পরিবর্তন। কিছুতেই কিছু হয় না। আবার কাগজের নৌকার মতো সহায়হীন মানুষের বাংলাদেশ দিনপন্জীর পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে সামনে বাড়াবে। কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না।

করোনাভাইরাসজনিত রক্তহিম করা সঙ্কট ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করছে। চারদিক থেকে প্রতিনিয়ত পঙ্গপালের মত ধেয়ে আসছে হতাশা ও উৎকণ্ঠার খবর। আশার কোনো আলো নেই কোথাও। এইসব দুঃসংবাদ সমাজের প্রতিস্তরের প্রত্যেক ব্যক্তিমানুষের মনের উপর প্রচণ্ড চাপ ফেলছে। নেতিবাচক এই বিভীষিকা থেকে কবে যে মুক্তি মিলবে, একমাত্র আলেমুল গায়েবই তা জানেন।

আমরা দেখছি, বর্তমান কালে গোটা বিশ্বই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। নাকাল হতেহচ্ছে সবাইকে। তবে বিশ্বের উন্নত ও অগ্রসর চিন্তার দেশগুলোর কথা আলাদা। শক্তি, সামর্থ্য, সম্পদ, আধুনিকতা ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তুলনায় দরিদ্র, কম উন্নত, ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোতে বিপদ, ঝুঁকি, প্রাণহানি, সঙ্কটের মাত্রা ও ভয়াবহতা অনেক বেশি। গরিব দেশের বাড়তি সমস্যা হলো স্বাস্থ্যখাতের দুর্বল ভঙ্গুর অবকাঠামো এবং ঘৃণ্যদুর্নীতি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষুদ্রতা থেকে এইখাত মুক্ত নয়। ফলত, অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দুর্বিষহ জনভোগান্তি আরো চরমে উঠছে।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান ভয়ঙ্করতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আমরা জাতিগতভাবে কত অপরিণামদর্শী, সমন্বয়হীন, হঠকারী, নিচ এবং জনগণের জীবনরক্ষায় কতটা ব্যর্থ। আফসোস! বড়োই আফসোস! স্বাস্থ্য খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, পরিকল্পনা ও সমম্বয়হীনতার কারণে তৈরি হয়েছে লেজেগোবরে অবস্থা। যা কতটা দুঃসহ ও অনভিপ্রেত, সেটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, অদক্ষতা, অপেশাদারিত্ব, অবাস্তব পরিকল্পনা, সমন্বয়হীন হঠকারী পদক্ষেপ উদ্ভূত পরিস্থিতিকে আরো বেশি ঘোলাটে ও বিপজ্জনক করে তুলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই চিত্র এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।করোনাভাইরাস এমন কিছু না, আমরা করোনার চেয়েও বেশি শক্তিশালী- এমন সব উদ্ভট ও গা-জোয়ারি কথাও আমরা শুনেছি নীতি নির্ধারকদের কারো কারো মুখে। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাইনি। উল্টো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা জাতি দেখতে পেলো।নিষ্ঠুর করোনা যেন অত্যধিক রূঢ়ভাবে এইসব হঠকারিতার প্রতিশোধ নিয়েছে। সেই পর্ব এখনো সমাপ্ত হয়নি।করোনাভাইরাসের রক্ত তৃষ্ণা মেটেনি এখনো। বরং বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ থেকে সদ্য ফিরে যাওয়া চীনা বিশেষজ্ঞ দলের অভিমত, বাংলাদেশ এখনো পিকে যায়নি। আর কত মৃত্যু হলে আর কত সর্বনাশ হলে পিকে যাওয়া যাবে, তার থেকে নিম্নমুখী ট্রেন্ড কবে যে শুরু হবে, আল্লাহ মালুম। জুন মাসের শেষ দিকে এসেও দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ এর নিচে নামছেই না।অবশ্য সরকারি এই হিসাব যে কতখানি বিশ্বাসযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ, একথাও দেশবাসী সবাই বেশ ভালো করে জানেন। প্রকৃত করোনাচিত্র খুব কম জনাই জানেন।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে অনেক ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ, আনসার, নার্স, সংবাদকর্মীসহ বিশিষ্ট ও সাধারণ অনেক মানুষকে আমরা হারিয়েছি। এই অকাল মৃত্যুর শোকবিধুর মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। জাতি এভাবে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়েপড়ছে। অতি সাম্প্রতিক একটি সংবাদের দিকে আমরা দৃষ্টি দেব। উল্লিখিত খবরটিতে বলা হয়েছে : ‘ডাক্তারদের মৃত্যুর বড় কারণ স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা।’

এক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও কর্মীরা বলেছেন, কোভিড ১৯ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই চিকিৎসকরা প্রাণ দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা ডাক্তারদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নকল মাস্ক, নিম্নমানের পিপিইসরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।করোনা মহামারিকে যারা ব্যবসা বানিয়েছে, সরকার তাদের মদদ দিয়ে চলেছে। এখনো রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়াসহ চিকিৎসাকর্মী সবাইকে প্রতিদিন মাস্ক দেয়া হচ্ছে না। পিপিই দেয়া হচ্ছে না ডাক্তার, নার্স ওটেকনোলজিস্টদের। প্রথম থেকেই সব হাসপাতালেকোভিড ও নন কোভিড রোগীদের সেবার আলাদাব্যবস্থা চালু করা দরকার ছিল। তাহলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিনা চিকিৎসায় এত মানুষকে মরতে হতো না।

ভার্চুয়াল এই কনফারেন্সের সঞ্চালনা করেন জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডা. ফয়জুল হাকিম।অংশ নেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা.হারুন অর রশিদ,জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রওশন আরা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামানরতন, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক অনুপ কুণ্ডু, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সংগঠক সামিউল আলম প্রমুখ। সারা দেশে প্রতিদিন এক লাখ টেস্ট করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে র‌্যাপিড টেস্ট কিটের ব্যবস্থা করতে হবে। তারা আরো বলেছেন, সব কিছু খুলে দিয়ে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সরকারি যে আহ্বান, সেটি প্রতারণামূলক।

গাজীপুর, টঙ্গী ইত্যাদি শিল্পাঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ দিনকে দিন বিস্তার লাভ করে চলেছে।এইসব এলাকার অনেক কারখানাতেই স্বাস্থ্যবিধি মোটেও অনুসৃত হচ্ছে না। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবন রক্ষার্থে ওইসব এলাকায় কোনো ফিল্ড হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়নি। করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসাপত্রের কোনো ব্যবস্থা না করে মালিকপক্ষ তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এইভাবে গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ আরো বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। এসব রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা কারখানা মালিকদেরই করতে হবে।

বক্তারা আরো দাবি করেন, অবিলম্বে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ করতে হবে সরকারকে।বিনামূল্যে কোভিড ১৯ এর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থানিশ্চিত করতে হবে।

২৩ জুন ২০২০ জাতীয় একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত কয়েকটি রিপোর্টের সারসংক্ষেপের দিকে যদি আমরা একটু দৃষ্টিপাত করি, দেশজুড়ে বিদ্যমান ভয়াবহ নৈরাশ্যের চিত্রটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

* করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার তিন মাস পার হয়েগেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়ে ওঠেনি। নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে এলোপাথাড়িভাবে।বিলম্বিত রিপোর্ট নিয়ে বাড়ছে জটিলতা। যে অবস্থায় চীন প্রতিদিন একটি শহরে ১০ লাখ নমুনা পরীক্ষা করেছে, প্রায় একই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে পরীক্ষা হচ্ছে দৈনিক ১৪-১৫ হাজার নমুনা। এর ফলে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যা কত, সেটি জানা যাচ্ছে না। পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত ল্যাব ও দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবও প্রকট। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, চাহিদা মাফিক করোনা পরীক্ষার কিট তারা পাচ্ছেন না।

* সংক্রমণের অতি ঝুঁকিতে থাকায় দেশে ১০টি জেলার রেড জোনের বেশ কিছু অঞ্চলে লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না মোটেও। ঢিলেঢালা লকডাউনে মানুষজন স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।পুলিশি উপস্থিতিও তেমন একটা চোখে পড়ছে না ওইসব এলাকায়।

* প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্য র‌্যাপিড টেস্টের ডিভাইস চালু করা দরকার, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আছে। এর মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এ ধরনের কিট বাংলাদেশে আমদানি করা উচিত। তাহলে একদিকে যেমন দ্রুত পরীক্ষা করা যাবে, তেমনি জনগণের ভোগান্তিও কমবে। করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় চিকিৎসকরা একদম সামনে থেকে যুদ্ধ করছেন। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে।

আমার দাবি- ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। সুরক্ষা পোশাকের গুণগত মান নিয়ে আর যেন প্রশ্ন না ওঠে। সুরক্ষা নিশ্চিত হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ও সাহস বাড়বে। স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।তাদের সবার জন্য একটা দাবি ছিল, তাদের যেন একটা প্রণোদনা বা ঝুঁকিভাতা দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের যেন স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা হয়। তাহলে তারা উৎসাহিত হবেন এবং আরো সাহস নিয়ে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। আমি বারবার বলেছি যে করোনা হচ্ছে একটা সাম্যবাদী রোগ। এই করোনা কিন্তু রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ধনী, গরিব কাউকেই চেনে না। কাজেই অসচেতন হলেই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

উপসংহারে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আলোকপাত করি।করোনার এই ঘোর দুঃসময়েও ভারত-চীন সীমান্তে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কথা আমরা জেনেছি।পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় ঠিক করতে ভারত সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল। কারণ ভারতের শাসক শ্রেণী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছে যে জাতীয় সঙ্কট মোকাবেলায় সামগ্রিক ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। মোদি সরকারের এই যে শুভবুদ্ধি, তার থেকে কী আমরা কোনো শিক্ষা নিতে পারি না? আমরা কী সবাই মিলে, কাঁধে কাঁধ রেখে করোনার মতো জাতীয় দুর্যোগকে প্রশমনের চেষ্টা করতে পারি না?

লেখক : রাজনীতিক

 


আরো সংবাদ