০৫ আগস্ট ২০২০

মসজিদ আমারও প্রার্থনার জায়গা

বায়তুল মোকাররম মসজিদ - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

মসজিদের বহুমাত্রিক ব্যবহার আবশ্যক। ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে মসজিদ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ইসলামী মূল্যবোধ, গৌরবের পরিচয় বহন করবে মসজিদ। স্বপ্নের মসজিদটি এমনই হবে, যার প্রাঙ্গণে সবুজ ঘন ঘাস, লতানো ফুলের গাছে রঙিন ফুল। ঝকঝকে রোদে কিংবা চাঁদের আলোয় সুউচ্চ মিনার হাসবে।

বৃহস্পতিবার এলে পরিবারের সবাই মিলে মসজিদে মাগরিব-এশা পড়ে, জুমার দিনের অধিক ইবাদতের অংশীদার হবো। তাহাজ্জুদ শেষে ফজর পড়ে মসজিদ থেকে বের হবো। মসজিদে সবাই সবার সাথে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করবে। নিজের তৈরি সাধারণ খাবারে একে অপরকে আপ্যায়ন করার সুযোগ থাকবে। শিশুরাও আসবে মা-বাবার সাথে নামাজ পড়তে। শুক্রবার মসজিদে কুরআন গবেষণা ও বিশ্লেষণ নিয়ে ঈমান আমলের উন্নয়নে বিজ্ঞজনদের মোটিভেশনাল স্পিচ, ডায়লগের আয়োজন থাকবে।

থাকবে আধুনিক উন্নতমানের লাইব্রেরি। ইসলামের গবেষক সব ধর্মের যে কেউ মসজিদ লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবেন। কারো যদি সময় থাকে, তিনি যেন মসজিদে বসে দিন-রাতের যেকোনো সময় প্রার্থনা করতে পারেন, তেমন সুবিধা মসজিদে থাকা উচিত। কেননা স্থান-কাল-পাত্রভেদে প্রার্থনার একাগ্রতা ও গভীরতার তারতম্য হয়ে থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে ইসলামিক ডকুমেন্টের ভার্চুয়াল আয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন থাকবে। চাইলে যে কেউ মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে স্বেচ্ছাভিত্তিক অংশ নিতে পারবে। আমার দৃষ্টিতে ইবাদত মানেÑ আল্লাহর প্রতি অনুগত হয়ে যেকোনো ভালো কাজ করা, এমনকি কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলা, সচেতনতামূলক তথ্যর প্রচার করা ইত্যাদি সব ভালো কাজই ইবাদত। 

সহজেই জনসমাগম, উত্তম লোকেশন, সুপরিসর, আলো-বাতাসের আধুনিক ব্যবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় প্রকৃত ইসলামী জীবনবিধানের দায়িত্বানুভূতি জাগিয়ে তোলার সুমহান ব্রত নিয়ে কাজ করবে মসজিদ। ঢাকা শহরসহ বহু এলাকায় দৃষ্টিনন্দন বহু মসজিদ দেখেছি। খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমরা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং সরকারি-বেসরকারি বেতন-ভাতা, আর্থিক সাহায্য-অনুদান ইত্যাদি বিবেচনায় এটি একটি সবল-সক্ষম ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। 

অথচ আমাদের দেশে মসজিদ কুরআন, হাদিস আর নামাজ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মসজিদের স্থাপনাগত অবকাঠামো বিবেচনায় বর্তমানে এর ব্যবহার একমাত্রিক। পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে নামাজ পড়া এবং ধর্মীয় পাঠের বাইরে এর ব্যবহার তেমন নেই বললেই চলে। বিশ্ব যেখানে প্রতি ইঞ্চি জায়গা আর প্রতি মুহূর্ত সময়কেও বহুবিধ ব্যবহার করার দিকে ছুটছে সেখানে মসজিদব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। মসজিদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রকৃত ইসলামী জীবন বিধানের দায়িত্বানুভূতি জাগিয়ে তোলা, সমাজের কল্যাণমূলক বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ বাস্তবায়নে কাজ করা প্রয়োজন; যেমন, ইসলামী শিক্ষা ও কুরআন গবেষণা, রামাদান-ঈদ, বিবাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম, স্পেশাল চাইল্ড কেয়ার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মেহমানদের আবাসন ও বিদেশী পর্যটকদের পরিদর্শন, পর্যাপ্ত কার পার্কিং, স্টেশন ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে।

সবশেষে একটি অভিজ্ঞতার উল্লেখ করছি। আমি কর্মজীবী। কাজের পথে কোথাও যখন নামাজের ওয়াক্ত হয় তখন সামনের মসজিদে নামাজ পড়ে নিতে পারলে কতই না ভালো হতো। কিন্তু তা হয় না। একবার পথিমধ্যে নামাজের ওয়াক্ত হওয়ায় নিকটবর্তী মসজিদের স্টাফকে জানালাম, ‘আমি কি এই মসজিদে নামাজ পড়তে পারি, কারণ কাজা নামাজ পড়তে চাই না।’ তিনি জানালেন, ‘এখানে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা নেই।’ পাশেই পুলিশ বক্সের ডিউটিরত পুলিশ অফিসার বিষয়টি খেয়াল করেছিলেন। তিনি তার চেয়ারটি দরজার কাছে এনে দিয়ে বললেন, ‘আপনি চাইলে এই চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারেন’, বলে তিনি বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন। প্রত্যেক মসজিদেই নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা উচিত। 

লেখক : পিএইচডি গবেষক


আরো সংবাদ