৩০ মে ২০২০

পরিত্রাণের পথ তিনিই দেখাতে পারেন

পরিত্রাণের পথ তিনিই দেখাতে পারেন - সংগৃহীত

আমার তিন মেয়ে বিশ্বের তিন দেশে বাস করছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সৌজন্যে বাড়ি বসেই সবার হাঁড়ির খবর নিতাম। সপ্তাহে এক-দুই দিন হতো গ্রুপ ভিডিও কল। গ্রুপ ভিডিও কলের সময় মনে হতো, সবাই এক ড্রয়িংরুমেই আছি। সব সুখ-স্বস্তি ও স্বপ্ন তছনছ হয়ে পড়ে করোনাভাইরাসের কারণে। বিশেষ করে ইতালির পাশেই ফ্রান্স। মৃতের সংখ্যায় চীনসহ সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। এক দিনে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যাও এখন ইতালিতে বেশি। ইতালিতে গত ১২ মার্চ দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে ফ্রান্সেও। ৫ ও ১০ বছরের দুই শিশুকন্যা নিয়ে ফ্রান্স প্রবাসী মেজো কন্যার পরিবারও সবার মতো গৃহবন্দী। প্রায় প্রতিদিন ভোর ৫টার দিকে কন্যার ফোনে ঘুম ভাঙে।

‘এখনো ফোন যোগাযোগটা সচল আছে বলেই জীবনের অস্তিত্ব টের পাই, নয়তো অবরুদ্ধ অবস্থায় দম বন্ধ হয়ে মরে যেতাম।’ ‘ভয় পেয়ো না, নিয়মিত নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াতসহ আল্লাহর নাম স্মরণ করো। সাবধানতাসহ মনে সাহস সঞ্চয় করো। আল্লাহ ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না।’ ‘মরতে তো একদিন হবেই, মরণকে ভয় পাই না, ভয় বাচ্চা দুটোকে নিয়ে। এ দেশে কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, নেই আপনজন। আল্লাহ না করুন, আমাদের কিছু হলে, বাচ্চা দুটো কোথায় দাঁড়াবে!’ ‘ওরা (দুই শিশু) ফেরেশতাকে, আল্লাহর ফেরেশতা আল্লাহ-ই দেখবেন।’
‘ফ্রান্স গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা বিদেশী। বিদেশীদের অনেকেই এ দেশের বোঝাতুল্য। তাই ওরা আক্রান্ত হলে কোথায় নিয়ে যায় কেউ জানে না। আক্রান্ত ব্যক্তি কাউকে দেখতে পায় না-আক্রান্ত ব্যক্তিকেও কেউ দেখতে পায় না। এর চেয়ে নির্মম আর কী হতে পারে! সাঁতার না জানা লোক পানিতে ডুবলে যেভাবে দমবন্ধ হয়ে মারা যায়, অক্সিজেনের অভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও সেভাবেই কষ্টকর অবস্থায় মারা যায়।’

ইতালি ২৫ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন। ২০ মার্চ থেকে চার দিন কারফিউ। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের দুই সদস্যও আক্রান্ত হয়েছেন। বিনা প্রয়োজনে বাসার বাইরে বের হওয়াসহ বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগম। জনবহুল পথঘাট এখন ফাঁকা। অবরুদ্ধ বিশ্বের পরাশক্তি আমেরিকার জনগণও। আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এই বুঝি বিশ্বের দম বন্ধ হয়ে আসছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামো মুখ থুবড়ে পড়বে।

মেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা জানতে চাইলে জানাই, ‘আমরা তোমাদের মতো এতটা আতঙ্কিত নই। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বন্ধ ঘোষণার পরপর অনেকেই সমুদ্রসৈকত দর্শনে চলে গেছেন কক্সবাজার ও কুয়াকাটা। তাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পর্যটক, কিটকট ছাতা ও ওয়াটার বাইকসহ সবাইকে বিচ থেকে তুলে দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলো এখনো বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার ভ্রমণ না করতে।

অন্য দিকে দেশে ‘লকডাউন’-এর সম্ভাবনার কথা শুনেই ‘কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ’ শুরু হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে ঈদের মতো কেনাকাটা। এ সুযোগে ৩২ টাকায় নেমে আসা পেঁয়াজের কেজি আবার উঠে গেছে ৮০ টাকায়, চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এর সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে গেছে অন্যান্য দ্রব্যের দামও। ‘আপনারা বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না। দক্ষিণ কোরিয়া কিভাবে আক্রান্ত হয়েছিল খবর জানেন?’ ‘জানি, প্রবাসী সাংবাদিক ছোটভাই হোসেন মনিরের পোস্ট থেকে জানতে পেরেছি। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে জানুয়ারির ২০ তারিখে, একজন ৩৫ বছর বয়স্ক নারী উহান থেকে সিউল বিমানবন্দরে নামার পর তাকে সাথে সাথে সেলফ কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরের এক মাসে গোটা দেশে মাত্র ৩০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

ফেরুয়ারির ৬ তারিখে একজন মধ্যবয়স্ক নারী একটি ছোট এক্সিডেন্টে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন দায়গু শহরে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ফেব্রুয়ারির ৯ এবং ১৬ তারিখে তিনি স্থানীয় চার্চে যান উপাসনায় অংশ নিতে। এর মাঝে কিন্তু ১৫ তারিখে তার জ্বর ধরা পড়েছিল। ডাক্তাররা তাকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন এবং একই সাথে পরামর্শ দেন সেলফ আইসোলেশনে থাকার জন্যও। ডাক্তারদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মহিলা শুধু চার্চেই যাননি, বন্ধুর সাথে এক রেস্তোরাঁতেও যান লাঞ্চ খেতে। ১৭ তারিখের দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে অবশেষে করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করান। ১৮ তারিখে ফলাফল আসে : পজিটিভ এবং তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার করোনাভাইরাস রোগী নম্বর ৩১। এর কিছু দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সেই চার্চেরই সদস্য।

কোরিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের (কেসিডিসি) উপাত্ত অনুযায়ী, ‘রোগী ৩১’ যে দু’বার চার্চে গিয়েছিলেন, সে দু’বার মোট ৯ হাজার ৩০০ জন মানুষ ছিলেন সেখানে, যাদের মধ্যে এক হাজার ২০০ জনেরই পরবর্তীতে উপসর্গ ধরা পড়েছে। রোগী ৩১ যে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন, সেখানে কত মানুষ ছিলেন, সেই হিসাব অবশ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া একই চার্চের বেশ কিছু সদস্য জানুয়ারি ৩১ এবং ফেব্রুয়ারির ২ তারিখের মধ্যে দায়গুর কাছেই আরেক শহর চেংডুর এক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে। এই দুই শহরেই সমগ্র দক্ষিণ কোরিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের ৮০ ভাগ। তা হলে বলা যেতে পারে যে, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস বিস্ফোরণের পেছনে এই চার্চ এবং বিশেষ করে রোগী ৩১-এর বিশাল ভূমিকা রয়েছে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বর্ণনার পর, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশে জনসাধারণের গাফিলতি এবং ন্যূনতম দায়দায়িত্ব নিয়ে হলেও চলাফেরা করায় অনীহার মাশুল যে কী বাজেভাবে দিতে হতে পারে।’ এ বিষয়েও সতর্ক করেছেন মনির।

ভয়াবহতাসহ নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ব্যক্তির নাম পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক বলেন, নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করা হবে। লাশ আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই প্যাকেট করে পরিবহনের ব্যবস্থাও করবেন। ‘মৃত ব্যক্তির লাশ প্যাকেট করার আগে আমরাই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, গোসল করিয়ে দেবো। এরপর কাফনের কাপড় পরিয়ে প্যাকেট করা হবে। সেই প্যাকেট কোনো অবস্থাতেই কেউ খুলতে পারবে না। আত্মীয়স্বজন লাশের মুখ দেখার সুযোগ নেই।’
মেড ইন চায়না ২০২৫ : সীমাহীন প্রযুক্তি মানুষকে কায়িকশ্রম থেকে বিদায় দিয়েছে। শরীরে বল বাড়াতে গিয়ে উঁচুতলার ঐশ্বর্যশালীরা দেশের স্কয়ার ইউনাইটেড থেকে শুরু করে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুরুসহ বড় বড় হাসপাতালে সমস্যা নিয়ে অস্থির। এসব কারণে মানুষ এক দিকে মৃত্যুর মুখোমুখি অন্য দিকে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর দম বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে।

২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ‘সব প্রযুক্তির মা’ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চীন। এক তথ্যে প্রকাশ, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ফেলছে চীন। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়োগিক ব্যবহারের আগেই তা নিয়ে নিচ্ছে চীন। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী হিসেবে আছে চীনারা। অন্য দিকে নিত্যনতুন প্রযুক্তির মালিক হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্ব পাওয়া। সেই প্রতিযোগিতাতেও চীনের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ পূর্ণ করার আগেই সব ওলটপালট করে দিয়েছে করোনাভাইরাস।

ভূতত্ত্ববিদদের কথা : ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলেছেন, ১০০ বছর পরপর প্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরে আছে বিশালাকার প্লেট, যা প্রাকৃতিক নিয়মে অবিরত নড়াচড়া করছে। বলা হচ্ছে, ১০০ বছর পরপর এদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করছে, গ্রামকে গ্রাম উজাড় হচ্ছে, নগরসভ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০-এ গ্রিসের ফুসফুস নামে খ্যাত এথেন্সে বসন্ত রোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়, যা ছিল ওই নগরের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ। ২৫০ খ্রিষ্টাব্দে সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারী রোমান সাম্রাজ্যকে বিপর্যস্ত করে দেয়। পঞ্চম শতাব্দীতে যুদ্ধ ও মহামারী পরাক্রমশালী পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। ৬০০ শতকের প্রথমার্ধে পুরো দুনিয়ায় ৪০ শতাংশ মানুষ মারা যায় প্লেগে। ৭৩৫-৭৩৭ এই দুই বছরে শুধু জাপানেই মারা যায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। প্লেগে বাইজানটাইন সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। ১৬ শতকে মেক্সিকোতে ৮০ শতাংশ, ইতালিতে তিন লাখ মানুষ প্লেগ রোগে মারা যায়। ১৩৩৪ সালে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই ছয় মাসে প্লেগে মারা যায় ৯০ হাজার মানুষ। ১৫১৯ সালে মেক্সিকোতে স্মলপক্স ছড়িয়ে পড়লে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। ১৫২০ সালে ইউরোপিয়ানদের সাথে একজন আফ্রিকান দাস স্মলপক্স নিয়ে এলে গোটা সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারী। ১৬৩৩ সালে ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীর মাধ্যমে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্পলপক্স ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ মারা যায় বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা।

১৬৬৫ সালের দিকে ‘দি গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন’-এ লন্ডনের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মৃত্যুবরণ করে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে সৈনিকদের মাধ্যমে ভারতবর্ষে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষ ছাড়াও স্পেন, আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও আমেরিকায় দেড় শ’ বছরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কলেরায় মারা যায়। ১৭৯৩ সালে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় ‘ইয়েলো ফিভার’ মহামারী আকার ধারণ করে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ মারা যায়। ২৫০ সাল থেকে শুরু করে বারবার এসেছে প্লেগ। ১৭২০ সালে দুনিয়াজুড়ে ২০ কোটি মানুষ শুধু প্লেগ রোগেই মারা যায়। তার ১০০ বছর পর ১৮২০ সালে শুধু ভারত ও পূর্ব এশিয়ায় কলেরা রোগে মারা যায় লাখ লাখ মানুষ এবং আফ্রিকা ও ইউরোপে বসন্ত ও প্লেগ রোগে মারা যায় ৩৫ লাখ মানুষ।

তারও প্রায় ১০০ বছর পর ১৯১৯ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ মারা গেছে। ভয়াবহ এই মহামারীকে তখন নাম দেয়া হয়েছিল ‘স্প্যানিশ ফ্লু’। এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। এই ভাইরাসের কারণে এইডস রোগে সে বছরই আমেরিকায় মারা যায় পাঁচ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত এইডসে মারা গেছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ। মানবসভ্যতার শুরু থেকে ইতিহাসের পাতায় যত মহামারীর উল্লেখ পাওয়া যায় কোনোটাই ২০২০ সালের করোনাভাইরাসের মতো বিশ্বের টুঁটি চেপে ধরতে পারেনি।

সব কিছুর নিয়ন্ত্রক : গতির সূত্র ও সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র নিউটনের সেরা দু’টি আবিষ্কার হলেও এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে তিনি সবসময়ই বিশেষ সতর্ক ছিলেন। এই তত্ত্বদ্বয়ের আশ্রয়ে মহাবিশ্বকে নিছক একটি যন্ত্র আখ্যা দেয়াসহ ‘মহামহিম ঘড়ি’র নিয়ন্ত্রণে এর বিকাশকে ব্যাখ্যা করার ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। এ সম্পর্কে নিউটন বলেন : ‘অভিকর্ষ গ্রহগুলোর গতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে; কিন্তু এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না, কে গ্রহগুলোকে গতিশীল হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করে দিলেন। একজন অবশ্যই আছেন, যিনি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন এবং যা কিছু ঘটছে বা যা কিছু ঘটা সম্ভবÑ সবই তিনি জানেন।’

বিজ্ঞানী নিউটন যার কথা বলেছেন, বিশ্বে যা কিছু ঘটছে বা যা কিছু ঘটা সম্ভব তার সবই তিনি জানেন। ইচ্ছা করলে যে কারো হাত দিয়ে যেকোনো সময় পরিত্রাণের পথ তিনিই দেখিয়ে দিতে পারেন।
লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক


আরো সংবাদ