২৯ মার্চ ২০২০

তোরাব আলী খন্দকার

-

মাস্টার সাহেব নামে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমায় ব্যাপকভাবে পরিচিত তোরাব আলী খন্দকার ৯৪ বছর বয়সে ১৯৮২ সালের ২৫ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষানুরাগী মানুষটি ঢাকা সেশন জজশিপের জুরি বোর্ডের সদস্য ও আঞ্চলিক ঋণ সালিসি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়াও রূপগঞ্জ থানাধীন রানী ভিক্টোরিয়া এইচই স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। হিন্দু জমিদারদের স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিম কৃষক পরিবারের লোক গভর্নিং বডির সদস্য হওয়া তখন ছিল অত্যন্ত দুষ্কর। বর্তমানে স্কুলটি ‘সরকারি মুড়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়’।

নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯১৬ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ‘মাস্টার সাহেব’ তার বসতবাড়ি সংলগ্ন ৫৬ শতাংশ জমি দান করার পর ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার রূপসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনুমোদন দিয়েছিল। অত্র এলাকায় কোনো অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় তার উদ্যোগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তৎকালীন তারাবো ইউনিয়ন বোর্ডের আওতাধীন ও পাশের এলাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মরহুম ড. কাজী দীন মুহম্মদ একটি বই তার প্রাথমিক শিক্ষক তোরাব আলী খন্দকার মাস্টার সাহেবের নামে উৎসর্গ করেছেন। তিনি শিক্ষকতা ছাড়াও বাড়িতে দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রদের থাকাখাওয়ার ব্যবস্থাসহ শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। পাকিস্তান আমলে ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থীদের তৎকালীন মহকুমা সদরে (নারায়ণগঞ্জ) পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় রূপগঞ্জ থানার পরীক্ষার্থীদের (যাদের মহকুমা সদরে থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা ছিল না) জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। নিজের ও পাশের এলাকায় যখন পোস্ট অফিস ছিল না তখন ব্রিটিশ সরকার থেকে পোস্ট অফিস অনুমোদন করিয়ে রূপসীর নিজ বাড়িতে পোস্ট অফিস স্থাপন করে দীর্ঘকাল পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার উত্তরাধিকারীদের দান করা কিছু জমিসহ এলাকাবাসীর দান করা জমির ওপর পরে রূপসী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে পোস্টমাস্টার হিসেবে মাসিক ২২ টাকা, শিক্ষকতার জন্য মাসিক ৫২ টাকা, জুরি বিচারক হিসেবে উপার্জিত সম্মানী ও কৃষিকাজ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা ছাড়াও স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা ও রাস্তার জন্য জমি দান করেছেন। তার দান করা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সড়ক ‘তোরাব আলী খন্দকার (মাস্টার) সড়ক’ নামকরণ করেছে তারাবো পৌরসভা। তারই দান করা জমিতে স্ত্রীর নামে ‘বেগম জোহুরা খন্দকার বাইলেন’ নামে একটি রাস্তার নাম করা হয়েছে। রাজনীতিক ও কলামিস্ট অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের লেখা ‘জাতীয় নির্বাচন-২০১৮ পোস্টমর্টেম’ বইটি পিতামহ তোরাব আলী খন্দকারের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।

লেখক : আইনজীবী


আরো সংবাদ