৩১ মার্চ ২০২০

‘একজনের পৌষ মাস অন্যের সর্বনাশ’

-

এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) বেসরকারি স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে খুব শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তির আবেদনে আগের মতো লাখ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারীর সাথে এনটিআরসিএর হাজার হাজার ইনডেক্সধারীদেরও (যারা এনটিআরসিএ থেকে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে গত দু’টি গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধাতালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে নিয়োগ পেয়েছেন এবং চাকরি করছেন) সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে এনটিআরসিএ কয়েক দিন আগে ইনডেক্সধারীদেরসহ ১-১৫তম সব নিবন্ধনধারীর জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন হলো, ইনডেক্সধারীদের কেন আবেদনে আবার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে?

মূলত গত দু’টি গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধাতালিকার ওপরের দিকে (লিখিত নম্বর বেশি) থাকার সুবাদে তাদেরই বারবার চাকরি হয়েছে; তথা বদলির সুযোগ হয়েছে। গত দু’টি গণবিজ্ঞপ্তি (২০১৬ ও ২০১৮ সালে) থেকে ধারণা করা হয়, ইনডেক্সধারীর সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে যদি তাদের আবেদনে আবার সুযোগ দেয়া হয় (বদলি হওয়ার জন্য!) তাহলে লিখিত নম্বর বেশি থাকার কারণে তাদের আবার চাকরি হবে! এর ফলে একজন ইনডেক্সধারী চাকরিরত প্রতিষ্ঠান বদল (আবেদনে নতুন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার কারণে) করার কারণে তার পদটি স্বাভাবিকভাবে শূন্য হবে। বাস্তবে, ইনডেক্সধারীদের এই প্রতিষ্ঠান অদল-বদল প্রক্রিয়ায় শূন্যপদ শূন্যই থাকছে, ওই বছর আর পূরণ হচ্ছে না। এটা না করে অর্থাৎ ইনডেক্সধারীদের সুযোগ না দিলে স্বাভাবিকভাবে নতুন নিবন্ধনধারীদের দিয়ে ওই শূন্যপদ পূর্ণ হয়ে যেত এবং একজন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারীর কর্মসংস্থান হতো। মূলত ইনডেক্সধারীদের আবার আবেদনের ফলে নতুনসহ আগের নিবন্ধনধারী (যাদের এখনো চাকরি হয়নি) চাকরিপ্রত্যাশীদের খুব কমসংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হবে।

২০১৮ সালের গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সুযোগ রাখায় নতুন নিবন্ধনধারীদের খুব কমসংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ পুরনো ইনডেক্সধারীদের আবেদনে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে বদলি হওয়ার সুযোগ দিতে এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে! এক কথায়, এ পদ্ধতি ইনডেক্সধারীদের জন্য পৌষ মাস আর নতুন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারীদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ধরলাম, একজন ইনডেক্সধারী গণবিজ্ঞপ্তিতে আবার আবেদন করে নিজের পছন্দসই জায়গায় বদলি হচ্ছে। তার মানে বদলি হওয়ার সুযোগ আছে বা করা হচ্ছে। তাহলে আবেদনে টাকার বিনিময়ে কেন, ইনডেক্সধারীদের একটা বদলি নীতিমালা করলেই তো হয়!

এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তির সময় প্রত্যেকবার বলে থাকে, এ বছর এত এত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে, এটি আসলে শুভঙ্করের ফাঁকি! আসলে ইনডেক্সধারীদের আবেদনে সুযোগ দেয়ায় তাদেরই বারবার চাকরি ও চাকরি বদল করার সুযোগ হয়, নতুন খুব কমসংখ্যক প্রার্থীর চাকরি হয়। এনটিআরসিএর কাছে আহ্বান, চাকরিরত মেধাবী ইনডেক্সধারীদের মেধাতালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত, কেননা তারা তো চাকরি করছেনই। এ ছাড়া ইনডেক্সধারীদের বদলির জন্য দ্রুত নীতিমালা করা প্রয়োজন (কেননা নতুনদের বেশিসংখ্যক প্রার্থীর কর্মসংস্থান না করে আবেদনের মাধ্যমে ইনডেক্সধারী পুরনোদের বারবার নিয়োগের এ প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত)। আবেদনে ইনডেক্সধারীদের আর সুযোগ নয়, মেধাতালিকা অনুযায়ী নতুন ও বেকার নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হোক।

লেখক : একজন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধনধারী
[email protected]


আরো সংবাদ

করোনাকে ঠেকাতে ম্যালেরিয়ার ওষুধ খেয়ে প্রাণ গেল চিকিৎসকের দেশে আরো দুজন করোনায় আক্রান্ত, সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২৫ গণধর্ষণের পর আজান দিয়ে জামায়াতে ইমামতি : তাকমীনা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেফতার কুমিল্লায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ৭৯৩ জন বন্ধ হয়ে আছে গণপূর্তের তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দুই সপ্তাহের জন্য দুবাইয়ের কিছু এলাকা লকডাউন, খাবার দেয়া হবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কুমিল্লায় প্রাইভেটকার খাদে পড়ে নিহত ৩ কুলিয়ারচরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে কনফেকশনারি দোকানে অগ্নিকাণ্ড আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ১১ সেনা-পুলিশ নিহত নবাবগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু, নমুনা আইইডিসিআরে

সকল