০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪
ads
`

ইন্দোনেশিয়ায় বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে আইন পাস

-

-নতুন ফৌজদারি আইন আগামী ৩ বছর কার্যকর হবে না
-আইনটি দেশী ও বিদেশী উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে

বিয়েবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে নতুন একটি আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়া। এ ধরনের সম্পর্কের জন্য এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে সর্বসম্মতভাবে এই আইনের পক্ষে মত দেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।
নতুন আইনে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় আদর্শের প্রতি যেকোনো ধরনের অবমাননার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের ফলে মানবাধিকার ও মানুষের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছে একটি মহল।
পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে দেশটির আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসোনা লাওলি বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মিটমাট করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। দণ্ডবিধি সংশোধনের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়ার এবং আমাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ঔপনিবেশিক ফৌজদারি কোড পরিত্যাগের সময় এসেছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এ সংক্রান্ত বিলের খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছিল; কিন্তু সে সময় নাগরিক স্বাধীনতার জন্য হুমকির অজুহাতে বিক্ষোভ শুরু হলে প্রক্রিয়াটি কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে যায়। অবশেষে ওই বিক্ষোভের তিন বছরেরও বেশি সময় পর সর্বসম্মতভাবে বিলটির অনুমোদন দিলো বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট। তবে নতুন ফৌজদারি এই আইন আগামী তিন বছর কার্যকর হবে না। আইনটি ইন্দোনেশীয় নাগরিক এবং দেশটিতে বসবাসরত বিদেশী- উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এতে বেশ কয়েকটি ‘নৈতিকতা’ আইনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনে অবিবাহিত দম্পতিদের একসাথে বসবাস এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অবৈধ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
বিয়ের বাইরে অন্য কারো সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো ব্যক্তির সঙ্গী অথবা তার বাবা-মা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। নতুন আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বেআইনি শারীরিক সম্পর্কের দায়ে ওই ব্যক্তিকে কারাগারে যেতে হবে।
নতুন এই আইনে ব্লাসফেমিকে আরো কঠোর করে তোলা হয়েছে, যা জনজীবনের পরিসরকে প্রভাবিত করবে। আইনের নতুন মানহানি অনুচ্ছেদে দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপমান এবং জাতীয় মতাদর্শের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটির আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তারা জনস্বার্থে বাকস্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকারের সুরক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মুসলিম প্রধান ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে অবশ্য আগে থেকেই এসব বিধান কার্যকর ছিল। সেখানে নারী-পুরুষের মেলামেশা, যৌন সম্পর্ক এবং মদ্যপান করলে বেত্রাঘাতের সাজা দেয়া হয়। ২৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষের ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও দেশটিতে অন্যান্য ধর্মের কিছু অনুসারীদেরও বসবাস রয়েছে।

 


আরো সংবাদ


premium cement