০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

ফিলিস্তিনিদের ৭৪তম নাকবা দিবস পালন

-

মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নাকবা। ১৫ মে ১৯৪৮ সালে প্রায় সাত লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইসরাইল নামে ইহুদি-সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দিনটি পরবর্তীকালে বার্ষিকভাবে নাকবা দিবস হিসেবে পালিত হয়। এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের স্বাধিকার লড়াই চলছে। এ বছর নাকবার ৭৪তম বার্ষিকী।
নাকবা দিবস পালনে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে গতকাল রোববার বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনে ব্রিটিশ সম্প্রচার করপোরেশনের (বিবিসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে বিপুল মানুষ অংশ নেন। এর আগে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনেও বিক্ষোভ করেন।
আরবি ভাষায় ‘নাকবা’ শব্দের অর্থ ‘বিপর্যয়’। এটি ১৯৪৭-১৯৪৯ সালের মধ্যে ইহুদিবাদী আধাসামরিক বাহিনীর দ্বারা ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশকে পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নির্মূল এবং ফিলিস্তিনি সমাজের প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসকে বোঝায়। ইহুদিবাদী বাহিনী ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ৭৮ শতাংশেরও বেশি দখল করেছে, জাতিগতভাবে প্রায় ৫৩০টি গ্রাম ও শহর ধ্বংস করেছে এবং ৭০টিরও বেশি হত্যাযজ্ঞসহ ধারাবাহিক নৃশংসতা চালিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
এই বছরটি আল-নাকবার ৭৪তম বার্ষিকী। এ বছরটি এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে যখন বিশিষ্ট আল জাজিরার প্রবীণ সাংবাদিক শিরিন আবু আকেলাহ হত্যার কারণে গোটা বিশ্ব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন থেকে যেসব বাসিন্দাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তারা আর কখনো নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের বংশধররা গাজা, পশ্চিমতীর ও বিভিন্ন দেশের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন। ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার ৭৪ শতাংশ বর্তমানে শরণার্থীর জীবনযাপন করছেন।


আরো সংবাদ


premium cement