২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩
`

হাউছি হামলার প্রতিশোধের অঙ্গীকার আমিরাতের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া, ইয়েমেনের সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ১৪
হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর পরিদর্শনে ইয়েমেনিরা : এএফপি -

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বিমানবন্দরের কাছে তেলের ট্রাক বিস্ফোরিত হয়ে তিনজন নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নিচ্ছে। সোমবারের ওই বিস্ফোরণের পর আমিরাতের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর দাবি করে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা। অন্য দিকে এ ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আমিরাতে হামলার একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চালানো এ বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের সবাই একই ভবনের বাসিন্দা। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সানায় হাউছি বিদ্রোহীদের ঘাঁটিসহ বিভিন্ন অবস্থানে সৌদি সামরিক জোটের বিমান হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন যে সামরিক জোট ইয়েমেনে বছরের পর বছর ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও সেই জোটের সদস্য। সৌদি জোটের আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে প্রায় নিয়মিতভাবেই সৌদি আরবে ড্রোন হামলা চালিয়ে থাকে হাউছি। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুইটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়।
আমিরাতে এ পর্যন্ত কিছু হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউছি। তবে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ সেগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছে। অবশ্য সোমবারের হামলার ঘটনাটি আমিরাতি কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। দেশটিতে এটিই হাউছি বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হামলা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, মুসাফা এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে। আবুধাবি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তদন্তে উভয় পাশে ছোট প্লেনের অংশ পাওয়া গেছে, যা ড্রোনের হতে পারে, এ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।’ তবে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও এর আগে তেহরান ও আবুধাবি এমন আঞ্চলিক সঙ্ঘাত এড়াতে সম্মত হয়েছিল যাতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সানায় জোটের হামলা
রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি সাবেক একজন সামরিক কর্মকর্তার বাড়িকেও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। এতে ওই সামরিক কর্মকর্তা, তার স্ত্রী, তাদের ২৫ বছর বয়সী সন্তানসহ পরিবারের আরো একাধিক সদস্য নিহত হয়। এ ছাড়া সেখানে অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে ১৪ জন নিহতের কথা বলা হলেও এ হামলায় ২০ জন নিহতদের কথা জানিয়েছে হাউছি বিদ্রোহীরা। টুইটারে দেয়া পোস্টে হাউছি বিদ্রোহীদের পরিচালিত প্রশাসনের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। হাউছি পরিচালিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, হামলায় অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ডজনখানকে মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ডজনখানেক মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বিমানবন্দরের কাছে ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার নিন্দা জানিয়ে এর পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার আমিরাতের রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমিরাতের মাটিতে এবং বেসামরিক স্থাপনায় হাউছি মিলিশিয়াদের এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের ঘটনা কোনো শাস্তি ব্যতিরেকে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে না। এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার আমিরাতের রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, হাউছি বিদ্রোহীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ওয়াশিংটন কাজ করবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement