২৫ মে ২০২২
`

ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া

-

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে ব্লিনকেনের আলোচনা হয়। জানা গেছে, সম্মেলনে ৫৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইউক্রেন ইস্যুতে দেশ দুইটির মধ্যে চলছে তীব্র উত্তেজনা। এর মধ্যেই তাদের এই বৈঠকের খবর এলো। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেন অভিযোগ করে আসছে যে, সীমান্তে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। কিয়েভের এই অভিযোগের প্রতি সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। রাশিয়া এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে। মস্কো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সামরিক জোট রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার কাজ করছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনে ন্যাটো জোট কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে বলে খবর বেরিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সামরিক জোটকে লক্ষ্য করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মঙ্গলবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় পুতিন বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সামরিক জোট যদি রেড লাইন ক্রস করে তাহলে রাশিয়া জবাব দেবে।
এ দিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইউরোপ তার ভাষায় ‘সামরিক সঙ্ঘাতের দুঃস্বপ্নের দিনগুলোতে’ ফিরে যেতে পারে। তিনি পাশ্চাত্যের সাথে এ বিষয়ে একটি নয়া চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুইডেনে ইউরোপের একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে ল্যাভরভ এ কথা বলেন। তিনি ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মস্কো ইউরোপের সাথে স্বাক্ষর করার লক্ষ্যে একটি নিরাপত্তাচুক্তি প্রস্তুত করছে, যার লক্ষ্য হবে পূর্ব দিকে ন্যাটো জোটের বিস্তার প্রতিহত করা। রাশিয়া নিজেকে সাবেক ‘পরাশক্তি’ সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি মনে করে, যার সাথে পাশ্চাত্যের সঙ্ঘাত অনিবার্য। গত কয়েক বছরে পশ্চিমা দেশগুলোর বিপরীতে রাশিয়া নিজের অবস্থান কঠোর করেছে।
এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে আক্রমণ করে তাহলে মস্কোকে ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। বৃহস্পতিবার স্টকহোমে এক বৈঠকে ল্যাভরভকে এ সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন ব্লিনকেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শিগগিরই বৈঠক হতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গভীর উদ্বেগ এবং রাশিয়াকে তার পদক্ষেপের জন্য জবাবদিহি করতে আমাদের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তারা যদি আরো আগ্রাসী কোনো পদক্ষেপ নেয় সে ক্ষেত্রে ভয়াবহ মূল্য ও পরিণতি রাশিয়ার ওপর চাপিয়ে দিতে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কাজ করার যে প্রতিশ্রুতি আছে তার কথাও বলেছি। এখন রাশিয়ার ব্যাপার, তারা তাদের সাম্প্রতিক সৈন্য সমাবেশ করে যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে সেখান থেকে পিছু হটে বাহিনীকে শান্তিকালীন সময়ের অবস্থানে নেয়া এবং ইউক্রেনে আরো হস্তক্ষেপ ও দেশটিকে অস্থিতিশীল করা থেকে বিরত থাকবে কি না।’ তার সাথে বৈঠকের আগে ল্যাভরভ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মস্কো কিয়েভের সাথে আলোচনায় প্রস্তুত। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা, যেমন প্রেসিডেন্ট পুতিনও বলেছেন, কোনো ধরনের সঙ্ঘাত চাই না।’
প্রতিবেশী দুই দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় দু’টি প্রজাতন্ত্র ছিল। ১৯৯১ সালে ইউনিয়নটি ভেঙে পড়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তসহ নানান বিষয়ে জটিলতা বাড়তে থাকে। ইউক্রেন এখন ন্যাটোতে ঢুকতে চাইছে, যা রাশিয়ার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন সীমান্তে সাম্প্রতিক সঙ্কটের শুরু থেকেই রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা হবে না এবং দেশটিতে রাশিয়াকে ‘টার্গেট’ করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা বসানো হবে না এমন আইনি নিশ্চয়তা চাইছে। ব্লিনকেনের সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেছেন, ‘আমাদের কথা শোনা হবে, এমনটা নিশ্চিত করব আমরা। মূল বিষয় হচ্ছে আমাদের নিরাপত্তা। আর যদি ন্যাটো এই বিষয়ে আলোচনা করতে বা আইনি নিশ্চয়তা দিতে কিংবা প্রেসিডেন্ট পুতিন যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন তা নিয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবো। আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা কারো ওপর নির্ভর করে না।’


আরো সংবাদ


premium cement