১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

সিরিয়ায় রুশ-তুর্কি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

আরো তুর্কি সেনা মোতায়েন; বিমান হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া
-

রাশিয়ার সোচিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দু’একদিনের মধ্যে। এ উপলক্ষে সিরিয়ায় দুই দেশের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্ক সিরিয়ায় ইদলিবে নতুন করে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। ওই দিকে রাশিয়া সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। পুতিনের সাথে বৈঠকের আগ মুহূর্তে নড়েচড়ে বসেছে দেশ দু’টির কর্তৃপক্ষ।
সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতিতে সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইদলিব প্রদেশে সৈন্য মোতায়েন জোরদার করেছে তুরস্ক। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ প্রশাসন ও তার মিত্র রাশিয়া বিদ্রোহীদের দখলে থাকা একমাত্র প্রদেশটি দখলে আক্রমণ বাড়ানোয় এই পদক্ষেপ নিলো তুরস্ক। রোববার সিরিয়ার আফরিন শহরের কাছাকাছি গ্রামে রুশ জোট বিমান থেকে গুলি ও বোমা হামলা করেছে। তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহীদের শহর ও গ্রামে এই বিমান হামলা গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে।
রোববার, সিবিএস নিউজে এক সাক্ষাৎকারে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান আভাস দিয়েছিলেন চলতি মাসের শেষ দিকে তিনি পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন। বৈঠকে রাশিয়ার কাছ থেকে আবারো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমদানির ব্যাপারে কথা হবে। এর মধ্যেই সিরিয়ায় বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। তুরস্কও নিজের উপস্থিতি জানান দিতে সিরিয়ায় নতুন করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করল।
রাশিয়ার বিমান অভিযান সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের জাবাল আল জাওয়া থেকে উত্তর-পশ্চিমে আফরিন পর্যন্তত বিস্তৃত হয়েছে, যা তুর্কি সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এক সময় সম্পূর্ণ কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের সহায়তায় সিরিয়ার সেনাফাঁড়ি থেকেও গুলি করা হয়েছে। তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহী বাহিনী ন্যাশনাল আর্মির মুখপাত্র মেজর ইউসুফ হামাউদ বলেন, রাশিয়ার হামলা এই সপ্তাহে তীব্র হয়েছে এবং ইদলিব প্রদেশ থেকে তা শুরু হয়ে সীমান্তবর্তী উত্তর আলেপ্পো প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে উত্তর সিরিয়ায় লড়াইরত পাঁচ সংগঠন একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই চালানোর ঘোষণা দেয়। উত্তর সিরিয়ার আল-বাব জেলায় এক অনুষ্ঠানে এই পাঁচ সংগঠন একত্রিত হয়ে জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। বাশার আল আসাদবিরোধী লড়াইয়ের পাশাপাশি এই অঞ্চলে সন্ত্রাস প্রতিরোধে তুরস্কের সাথে একত্রে কাজের প্রত্যয় প্রকাশ করে তারা। গত বছরের মার্চে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি অনুসারে ইদলিবকে ‘যুদ্ধ-বহির্ভূত অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তথাপি সিরিয়ার সরকার বিভিন্ন সময়ই এই অঞ্চলে সামরিক আক্রমণ চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।



আরো সংবাদ