১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা : বাইডেন

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ চায় না যুক্তরাষ্ট্র ; জলবায়ু মোকাবেলায় অর্থায়ন দ্বিগুণ করার ঘোষণা
-

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হচ্ছে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘উত্তম পথ’। গত মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে বাইডেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মধ্য প্রাচ্যের সকল জনগোষ্ঠীর জন্য বৃহত্তর শান্তি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই।’
বাইডেন বলেন, ‘ইসরাইলের নিরাপত্তার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে প্রশ্নাতীত এবং একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য আমাদের সমর্থন দ্ব্যর্থহীন।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমি বরাবরই বিশ্বাস করি যে একটি অর্থবহ, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাসে একটি গণতান্ত্রিক ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান হচ্ছে উত্তম পন্থা।’ বাইডেন বলেন, ‘এই মুহূর্তে এ লক্ষ্য থেকে আমরা অনেক দূরে থাকলেও এ ব্যাপারে আমাদের নিজেদের অগ্রগতির সম্ভাবনার হাল ছেড়ে দেয়া উচিত হবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো স্নায়ুযুদ্ধ চায় না। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরাইল, ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর ঠাণ্ডা যুদ্ধ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে এ বৈশ্বয়িক সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা করেন। পরে স্নায়ুযুদ্ধের এ আশঙ্কার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো স্নায়ুযুদ্ধ চায় না। ইরান প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ইরানের সাথে পূর্বের পরমাণু চুক্তিতে ফিরে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানকেও এ বিষয়ে সম্মত হতে হবে।
জলবায়ু মোকাবেলায় অর্থায়ন দ্বিগুণ করার ঘোষণা
সঙ্কট সমাধানে চলতি দশককে সিদ্ধান্ত নেয়ার দশক অভিহিত করে মিত্রদের সাথে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং সাবমেরিন চুক্তির পর ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে বিশ্বকে এমন আশ্বাস দিলেন তিনি।
২০২৪ সালের মধ্যে জলবায়ু মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থায়ন দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। গণতন্ত্র এবং কূটনীতি নিয়ে তার অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসঙ্ঘে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সবাইকে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যা আগে কখনো হয়নি।’
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন বিশ্বনেতারা। এবারের মূল আলোচ্য বিষয় জলবায়ু সঙ্ঘট এবং করোনাভাইরাস মহামারী। এই দুটি বিষয় নিয়ে গোটা বিশ্ব এখন বিভাজিত। আরো অনেক সঙ্ঘট রয়েছে বিশ্বে। এসব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বাইডেন এই বিষয়গুলোতে সহযোগিতার ব্যাপারে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘সঙ্কট মোকাবেলায় আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একজোট হবো কি হবো না সেটাই আগামী প্রজন্মের কাছে প্রতিধ্বনিত হবে। সহজভাবে বলতে গেলে, আমি আমার দৃষ্টিতে বলতে চাই, ইতিহাসের একটা বিভ্রান্তিকর অবস্থানে আমরা এখন দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বাইডেন উন্নয়নশীল দেশের জন্য জলবায়ু তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ ২০২৪ সালের মধ্যে ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যার অর্থ হলো, ইউরোপের ২৬টি দেশে জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জলবায়ু তহবিলে যে পরিমাণ বরাদ্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র একাই তার অর্ধেকের বেশি দেবে।
উন্নত বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দরিদ্র দেশগুলোকে সাহায্যের জন্য ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো অর্জিত হয়নি। জলবায়ু সঙ্ঘট নিয়ে সব দেশে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিয়ে বারবার জোর দিয়ে এসেছেন বাইডেন। জাতিসঙ্ঘে প্রথম ভাষণেও সেই প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের চলমান উত্তেজনা নিয়ে বাইডেন রাষ্ট্রনেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো স্নায়ুযুদ্ধ বা একটি বিভাজিত বিশ্ব দেখতে চায় না। অন্যান্য বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।’
গত মাসে আফগানিস্তান থেকে বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতির মধ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বাইডেন। ওয়াশিংটনের মিত্রদেশগুলো এর সমালোচনা করে। তবে প্রথম থেকে সেনা প্রত্যাহারে অটল বাইডেন জাতিসঙ্ঘে দেয়া বক্তৃতায় বলেছেন, ‘সামরিক শক্তিপ্রয়োগ অবশ্যই আমাদের শেষ উপায় হতে হবে।’
সব সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘কোভিড থেকে, মানুষের মর্যাদা, মানবাধিকার আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা নেতৃত্ব দেবো। তবে আমরা একা করব না। আমাদের মিত্র যারা আমাদের মতোই মূল্যবোধে বিশ্বাসী তাদের নিয়ে নেতৃত্ব দেবো।’



আরো সংবাদ