১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

এশিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে অকাস : রাশিয়া

-

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ বলেছেন- অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন যে সামরিক চুক্তি সই করেছে তা পুরো এশিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এটি মূলত চীন ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি শত্রুতামূলক পদক্ষেপ। গত বুধবার অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি সামরিক চুক্তি সইয়ের পর এই কথা বললেন রুশ এ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার তিনি বলেন- অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে যে অকাস জোট গঠিত হয়েছে তা মূলত একটি সামরিক জোট এবং রুশ ও চীন-বিরোধী নীতিই অনুসরণ করছে এ জোট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জোটের অবকাঠামো পুরো এশিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
পাত্রুশেভ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সাথে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি করে মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে পরমাণু সাবমেরিন মোতায়েনের স্টেশনে পরিণত করতে চায়। এই পদক্ষেপটি চীন ও রাশিয়াকে লক্ষ্য করে নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুশ কর্মকর্তা।
চুক্তির আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি ও মোতায়েন করবে অস্ট্রেলিয়া। তিনি আরো বলেন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া মিলে যে জোট গঠন করেছে তা থেকে ফ্রান্সকে বাদ দেয়া হয়েছে; এতে দৃশ্যত ন্যাটো জোটকে মূল্য দিতে হচ্ছে বলে ধারণা করা যায়।


দেশের বাইরে কয়লাভিত্তিক নতুন প্রকল্প করবে না চীন
বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর যুগান্তকারী পদক্ষেপ
ষ বিবিসি ও আলজাজিরা
চীন এখন থেকে দেশের বাইরে নতুন আর কোনো কয়লাচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পে থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া তার এ প্রতিশ্রুতিকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় চীন ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে অসংখ্য কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ঠিক করা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা করে যাওয়া বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনকে এ অর্থায়ন বন্ধে চাপও দিয়ে আসছিল। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে পাঠানো ভিডিও ভাষণে শি বলেন , ‘অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে যেন গ্রিন এনার্জি ও কম-কার্বন নিঃসরণ হয় এমন জ্বালানি ব্যবহার হয়, সেজন্য সহায়তা দেয়া বাড়াবে চীন এবং আমরা আর অন্য দেশে নতুন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবো না’।
ভাষণে চীনা প্রেসিডেন্ট এ প্রসঙ্গে আর বিস্তারিত না বললেও বেইজিংয়ের এমন পদক্ষেপে বিভিন্ন দেশে বিআইয়ের অধীনে থাকা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সম্প্রসারণ সীমিত হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিআরআইয়ের অধীনে চীন অনেক দেশের রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে। তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধেই তারা নতুন কোনো কয়লা প্রকল্পে অর্থায়ন করেনি। চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্রিনহাউজ নিঃসরণকারী দেশ; তারা দেশের ভেতরকার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কয়লার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীলও।

 



আরো সংবাদ