০৭ মে ২০২১
`

ফ্রান্সের মসজিদে ইসলামবিদ্বেষী দেয়ালচিত্র

-

ফ্রান্সে একটি মসজিদের দেয়ালে ইসলামবিদ্বেষী দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি) অঙ্কনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দেশটির রেনে শহরের ইসলামিক কালচারাল সেন্টার এবং এর সংলগ্ন মসজিদের দেয়ালে এই গ্রাফিতি দেখা গেছে। তবে কারা এ জন্য দায়ী, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
রোববার ভোরে মসজিদটির তত্ত্বাবধায়ক প্রথম এই ব্যাপারটি লক্ষ করেন। দেয়ালচিত্রে ইসলাম এবং এই ধর্মের নবী মুহাম্মদ সা:-এর উদ্দেশে বিষোদ্গার করার পাশাপাশি বলা হয়েছে, ফ্রান্সে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ক্যাথলিক খ্রিষ্টান মতবাদকে রাষ্ট্রধর্ম করার দাবিও জানানো হয়েছে সেখানে।
রেনের স্থানীয় মুসলিম কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাইদৌনি এ ঘটনাকে ‘অশ্লীল আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে এএফপিকে বলেন, ‘এই প্রজাতান্ত্রিক দেশের সন্তান হওয়ার পরও সম্প্রতি আমরা ঘৃণা, সহিংসতা ও বর্বরতার শিকার হচ্ছি।’ দেয়ালচিত্র ঘটনার নিন্দা এবং ফ্রান্সে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুইট করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেরাল্ড ডারমানিন। রেনের মেয়র নাথালি অ্যাপেরে এবং শহরটির সিনেটর ভ্যালেরি বয়েরও পৃথক বার্তায় নিন্দা জানিয়েছেন এই ঘটনার।
গত বছর থেকে ফ্রান্সে বেড়ে চলেছে ইসলামের বিরুদ্ধে ভীতি ও বিদ্বেষ। এবার এই বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে দেশটির মসজিদগুলো। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নান্তেস শহরে একটি মসজিদের প্রবেশ দরজা পুড়িয়ে দেয়া হয়। তার পরদিন শুক্রবার পশ্চিম ফ্রান্সের মসজিদগুলো ধ্বংসের হুমকি দেয়ায় ২৪ বছর বয়সী এক নাৎসি মতবাদ সমর্থনকারীকে গ্রেফতার করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফ্রান্সের ইসলামবিদ্বেষবিরোধী জাতীয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ জেকরি ক্রমবর্ধমান এই ইসলামবিদ্বেষের জন্য দেশটির রাজনীতিকদের দায়ী করেছেন। এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় ফ্রান্সে ইসলামের বিরুদ্ধে এক প্রকার ভীতি সৃষ্টি হয়েছে, এটি সত্য। তবে দেশের রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড এই ভীতিকে কমানোর পরিবর্তে বরং বাড়িয়ে তুলছে।’



আরো সংবাদ