১২ এপ্রিল ২০২১
`

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

কবে নাগাদ সেনারা ইরাক ছাড়বে সে ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি # ছাড়ার আগ পর্যন্ত ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী
-

অবশেষে ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে রাজি হলো যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে এরই মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাগদাদ ও ওয়াশিংটন। বুধবার এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে দেশ দুটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তবে কবে নাগাদ তারা ইরাক ছাড়বে সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু ইরাক ছাড়ার আগ পর্যন্ত ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সরকার মনে করছে, ইরাকি সেনাদের যুদ্ধ করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের আমলে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৌশলগত আলোচনার পর সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে এখন মার্কিন ও জোট বাহিনীর মিশন হচ্ছে কেবল প্রশিক্ষণ ও উপদেশ দেয়া। ফলে ইরাকে থাকা বাহিনীর বাকি সদস্যদের পুনঃমোতায়েন পথ তৈরি হলো।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরাক থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের সব সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আবার সেসব সেনা ফিরিয়ে আনা হয়।
ইরাকের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য ব্যাপক চাপ রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মার্কিন বাহিনী ইরাকের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হত্যা করার পর এই চাপ বাড়তে থাকে। মার্কিন হামলায় ইরাকের মিলিশিয়া সংগঠন হাশদ আশ-শাবির সেকেন্ড ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও নিহত হন। এর পর থেকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি ইরাকের জন্য ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাড়তি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা কবে নাগাদ ইরাক ছাড়বে তা আসন্ন টেকনিক্যাল বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, মার্কিন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাহিনী তাদের সামরিক অপারেশন থেকে এখন প্রশিক্ষণ, ইকুইপিং এবং ইরাক সিকিউরিটি ফোর্সেসকে (আইএসএফ) সহায়তায় মনোনিবেশ করছে, এটা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের সফলতার প্রতিফলন। আর আইএস যেন ইরাকের স্থিতিশীলতা আর কখনো ব্যাহত করতে না পারে সে জন্য আইএসএফকে সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ভার্চুয়ালি এই আলোচনা চলছে। গত বছরের জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই আলোচনা শুরু হয়। তবে বুধবারের আলোচনায় ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পেন্টাগনের প্রেসসচিব জন কিরবি বলেছেন, এই বিবৃতি মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার বিষয়ের প্রতিফলন না।
পরে ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া রাসুল বলেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাদিমি একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টেকনিক্যাল আলোচনা করবে। তাদের কাজ হবে মূলত মার্কিন সেনাদের পুনঃমোতায়েন সংক্রান্ত সময় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা।
সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদের অভিযোগ তুলে ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করে তাকে ফাঁসিতে ঝোলায়। তখন থেকেই দেশটিতে অবস্থান করেছে মার্কিন সেনারা।



আরো সংবাদ