১৪ এপ্রিল ২০২১
`

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু আইসিসির

-

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা জানিয়েছেন, অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করছেন তিনি। আইসিসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। অন্য দিকে ফাতু বেনসুদার তদন্তের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল।
বুধবার এক বিবৃতিতে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ‘স্বাধীনভাবে পক্ষপাতহীন ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে কোনো প্রকার ভয় বা কারো আনুকূল্য ছাড়া এই তদন্ত করা হবে।’ বিবৃতিতে বেনসুদা বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের কৌঁসুলির কার্যালয়ের ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্ত শুরুর বিষয় আমি নিশ্চিত করছি।’
বেনসুদা বলেন, ২০১৪ সালের ১৩ জুন থেকে সব অভিযোগ এতে তদন্ত করা হবে। ফিলিস্তিন সরকার আইসিসির তদন্তের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিচার ও জবাবদিহিতা আদায়ে ফিলিস্তিনের অক্লান্ত চেষ্টায় এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পদক্ষেপ, যা শান্তির এক অপরিহার্য স্তম্ভ। ফিলিস্তিনিরা যার অনুসন্ধান করছেন এবং তারা যার যোগ্য।’
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকেও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়। অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসিম রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি দখলদারদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করার আইসিসির সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের জনগণের ক্ষতির বিচার আদায়ের পথে এর মাধ্যমে একধাপ অগ্রগতি হলো।’ কাসেম বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ আইনসঙ্গত এবং আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্যই এই প্রতিরোধ। সব আন্তর্জাতিক আইনে বৈধ প্রতিরোধের স্বীকৃতি আছে।’
এ দিকে আইসিসির পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলকে ‘আক্রমণের শিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আইসিসি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার নির্যাস ইহুদি বিদ্বেষ।’
তেমনি বুধবার ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধের এই তদন্তের পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ ও ‘নৈতিকতা ও আইনি দৈন্যতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, ‘ইসরাইল তার বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের আইনি হয়রানি থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিবে।’
২০১৪ সালে গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলের ৪৯ দিনের আগ্রাসনের বিচারে তদন্ত দাবি করে আসছিলেন ফিলিস্তিনিরা। অপর দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণের বিষয়ে তদন্তের দাবি করা হয়েছে। অতীতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আইসিসির বিরুদ্ধে তার সীমালঙ্ঘনের অভিযোগ করে। বেনসুদা ২০১৯ সালে বলেছিলেন, গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইরের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ের সাথে সাথে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিষয়ে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে। এর পরপরই ফাতু বেনসুদা আইসিসির বিচারকদের কাছে তদন্ত শুরুর বিষয়ে আদেশের আবেদন করেন। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি এক আদেশে জানায়, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইলের যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাদের বিচারের এখতিয়ার আছে।

 



আরো সংবাদ