১৮ এপ্রিল ২০২১
`

ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা খারিজ

সরকারের মতের বিরোধী ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হলেই ‘দেশদ্রোহ’ বলা যায় না
-

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জম্মু-কাশ্মিরের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরের সাবে মুখ্যমন্ত্রী ডা: ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা পরিচালনা করার আবেদন করা হয়েছিল। একইসাথে আবেদনকারীকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন, কোনো দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের মতের বিরোধী ও তা থেকে ভিন্ন হলেই তাকে ‘দেশদ্রোহ’ বলা যায় না। গতকাল বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কউলের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তার সমন্বিত বেঞ্চের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়।
রজত শর্মা নামে এক ব্যক্তি আদালতে একটি আবেদন করে জম্মু-কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়ার অভিযোগে ডা: ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা পরিচালনা করার আদেশ চেয়েছিলেন। আবেদনকারী তার পিটিশনে ডা: ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩৭০ ধারা ফেরানোর বিষয়ে চীন ও পাকিস্তানের সাহায্য চাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু নিজের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় শীর্ষ আদালত পিটিশন খারিজ করার পাশাপাশি ৫০ হাজার রুপি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতে করা আবেদনে বলা হয়েছিল, ফারুক আবদুল্লাহ দেশবিরোধী ও দেশবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কেবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত নয়, তার এমপি পদও বাতিল করতে হবে। তিনি যদি এমপি হিসেবে বহাল থাকেন তবে এর অর্থ হলো ভারতে দেশবিরোধী কার্যক্রমকে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এটি দেশের ঐক্যের ক্ষতি করবে। আবেদনকারী বলেছিলেন, ফারুক আবদুল্লাহ বিবৃতি দিয়েছিলেন যে তিনি ৩৭০ ধারা আবার কার্যকর করবেন যা দেশবিরোধী এবং দেশদ্রোহের সমান। কারণ, যেহেতু এটি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে পাস হয়েছিল।
আবেদনকারীর মতে, ‘ফারুক আবদুল্লাহ একটি সরাসরি বিবৃতি দিয়েছিলেন যে তিনি ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধারে চীনের সহায়তা চাইবেন যা স্পষ্টভাবে দেশদ্রোহ। ফারুক আবদুল্লাহ যেহেতু কাশ্মিরকে চীন ও পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন, সেজন্য তার এমপিপদ বাতিল করে কারাগারে পাঠানো উচিত। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারার অধীনে জম্মু-কাশ্মিরের জন্য দেয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দিয়েছিল। এ সময়, ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফারুক আবদুল্লাহ এবং জম্মু-কাশ্মিরের অনেক নেতাকে তিন মাসের জন্য জম্মু-কাশ্মির জননিরাপত্তা আইন অনুসারে প্রতিরোধমূলক আটক/গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। ১৩ ডিসেম্বর, আটকের আদেশ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছিল। অবশেষে, ২০২০ সালের ১৩ মার্চ, তার আটকাদেশ আদেশ বাতিল করা হয়েছিল।

 



আরো সংবাদ