০৫ মার্চ ২০২১
`

তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন, গ্রেফতার ১০০০

আটক অধিকাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ২০; নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযত থাকার আহ্বান অ্যামনেস্টির
-

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় চলমান বিক্ষোভে সোমবার এক হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া টানা তিন দিনের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাতে তিউনিসিয়ার বিভিন্ন শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তিউনিসিয়ায় গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভের জেরে পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। মূলত ভাঙচুর ও লুটতরাজের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
তরুণ বিক্ষোভকারীরা ফের রাজধানী তিউনিসের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তারা একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ও পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ওয়াটার ক্যানন ছুড়ে মারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর সারা দেশের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জিকরি বলেন, উত্তরে বিনজার্তে, পূর্বের সুসা এবং কেন্দ্রীয় তিউনিসিয়ায় কাসরিন ও সিলিয়ানায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এ দিকে সোমবার তিউনিসের বুরগুইবা অ্যাভিনিউতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে আগের দিন গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানায়। এ সময় ‘ভয় নয়, রাস্তা জনগণের’ স্লোগান দিতে থাকে তারা। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়নি বা কোনো রাজনৈতিক দলকেও তাদের সমর্থনে দেখা যাচ্ছে না। এই বিক্ষোভ চলমান থাকা বা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোমবার এক টুইটবার্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার সিলিয়ানা ও অন্য শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মেষপালককে এক পুলিশ কর্মকর্তার তিরস্কার ও নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই মেষপালকের ভেড়া স্থানীয় সরকারি কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীসহ তিউনিসিয়ার বিভিন্ন শহরে নতুন এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এক দশক আগে দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিপ্লবের মাধ্যমে তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের উত্তরণ হলেও দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো শোচনীয়। রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থার দুর্গতির সাথে সাথে তিউনিসিয়ার অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের প্রান্তে রয়েছে।



আরো সংবাদ