০৭ মার্চ ২০২১
`

আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়া মারাত্মক ভুল : ভাইস প্রেসিডেন্ট

সৈন্য সংখ্যা দুই দশকে সবচেয়ে কম : পেন্টাগন
-

নাইন ইলেভেনে সন্ত্রাসী হামলার পর ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান দমন অভিযানে নামে যুক্তরাষ্ট্র। এক সময় আফগানিস্তানে সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার মার্কিন সৈন্যও ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা চুক্তি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে আরেক দফায় সৈন্য সরিয়ে নিলে আফগানিস্তানে আর মাত্র ২৫০০ সৈন্য থাকবে। তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জো বাইডেনের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকার।
এ সংখ্যা দুই দশক আগে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়ার বিষয়টিকে মারাত্মক ভুল হিসেবে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তিনি বলেছেন, তালেবান সন্ত্রাসী দল ছিল এবং এখনো তারা সন্ত্রাসী দল।
তারা নারী, মানবাধিকার কর্মীদের হত্যা করছে। আল কায়েদার উপস্থিতি রয়েছে তাদের মধ্যে। সব মার্কিন সৈন্য সরিয়ে নেয়ার সময় এখনো আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে বেশিই ছাড় দিয়ে ফেলেছে। সৈন্য সরিয়ে নিলে সহিংসতা কমবে না বরং বাড়বে। আমরুল্লাহ সালেহ আরো বলেন, আপনি (যুক্তরাষ্ট্র) সন্ত্রাসবাদের সাথে দরকষাকষি করতে চান। সেটি আপনার বিষয়। কিন্তু তালেবানকে বিশ্বাস করে, তাদের ছাড় দিয়ে প্রতারিত হবেন না। তবে সৈন্য সরিয়ে না নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পীড়াপীড়ি করতে চায় না আফগানিস্তান- এমনটা জানিয়ে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পেয়ে আফগানিস্তান কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমার দেশের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সামরিক হেলিকপ্টারের জন্য ঝুলে থাকবে না। এ দিকে আফগানিস্তানে ১৯ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সৈন্য কমিয়ে আড়াই হাজারে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সচিব এই সৈন্য কমানোর বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ১৯ বছরের ইতিহাসে আফগানিস্তানে সৈন্য সংখ্যা রয়েছে। তবে কত সংখ্যক সৈন্য রয়েছে সেটা তিনি বলেননি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক ধাপে সৈন্য সংখ্যা কমানোর বিষয়ে তালিবান নেতাদের সাথে চুক্তি করে। গুরুত্বপূর্ণ সেই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য শূন্যতে আনার কথা। যদিও বাইডেন প্রশাসন এ বিষয়ে কিভাবে এগোবে সেটা এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, আফগানিস্তান থেকে দ্রুত এই সেনা প্রত্যাহার আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র তালিবান চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান যৌথ ঘোষণার প্রতি আমাদের চলমান প্রতিশ্রুতি পূরণ ও সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।



আরো সংবাদ