২৪ জানুয়ারি ২০২১
`

কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে নমনীয় মোদি সরকার

বিতর্কিত ৩টি আইন বাতিল চান কৃষকরা
-

ভারতে কৃষকদের আন্দোলনে চাপে পড়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার অনেকটাই নমনীয় হয়েছে। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন সংশোধন করতেও রাজি হয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু আন্দোলনরত কৃষকরা তাতেও রাজি নন। তাদের স্পষ্ট দাবি, তিনটি আইন বাতিল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার কৃষক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসে সরকার। তবে বৈঠকে সাত ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরেও সমাধান আসেনি। কৃষকরা বলে দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারই সরকারের শেষ সুযোগ। এ দিনই দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ৩৫টি কৃষি সংগঠনের নেতার সাথে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসে সরকার। প্রথম বৈঠক কয়েক ঘণ্টাতেই ব্যর্থ হয়েছিল। এ দিনের বৈঠকে কৃষকরা কী দাবি করবেন, তা বৈঠকে ঢোকার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পার্লামেন্ট ডেকে কৃষি আইন বাতিল করতে হবে এবং ফসলের ন্যূনতম মূল্য আইনে ঢোকাতে হবে। সরকারের এক সূত্র জানিয়েছিল, এর আগে বিষয়টি নিয়ে সরকার যতটা একরোখা ছিল, এ দিন সেই মনোভাব নাও দেখানো হতে পারে। কৃষকদের সাতে একটি আপস-মীমাংসায় আসার চেষ্টা হতে পারে। তবে কৃষকদের দাবি সম্পূর্ণ ভাবে মেনে নেয়ার কথা এখনো সরকার ভাবছে না। কিন্তু নতুন আইনে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিষয়টি ঢোকানোর কথা বলা হতে পারে। কৃষকরা তা সমর্থন করবেন কি না, তা অবশ্য এখনই বলা মুশকিল।
বস্তুত, নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইনে ঢোকানোর জন্য দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। অথচ তার আমলেই কেন্দ্র যে কৃষি আইন এনেছে, তাতে সেই বিষয়টির কোনো উল্লেখ আইনে নেই।
ফের আজ শনিবার বৈঠকে বসবে উভয়পক্ষ। এর আগে কৃষক নেতারা বলেছেন, তারা আগে সরকারের কছে জানতে চাইবেন, আইন বাতিল হবে কি না। সরকার প্রতিশ্রুতি না দিলে সম্ভবত আজ বৈঠকেই যাবেন না তারা।
গত ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম ভারতে কোনো আন্দোলন সরকারকে রীতিমতো চাপে ফেলেছে। এর আগে সিএএ এবং এনআরসিবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে কৃষক বিক্ষোভ হয়েছে, পেট্রল-ডিজেলের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু সরকার অনড় থেকেছে। এই প্রথম কোনো আন্দোলনের চাপে সরকার কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষক নেতারা। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর বলেন, আমরা কৃষকদের আরো আইনি আধিকার দেবো। এমএসপি নিয়েও আমরা কৃষকদের আশ্বস্ত করেছি। এখন কৃষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলে ভালো হবে। কিন্তু কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, তাদের তরফে আর আলোচনা করার কিছু নেই। সরকার আইন বাতিল না করলে আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা সরকারের ওপর এতটাই ক্ষুব্ধ যে, বৈঠকে তারা সরকারের দেয়া খাবার, চা, এমনকি, পানি পর্যন্ত পান করেননি। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের খাবার তারা সাথে করে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। প্রতিদিন সেটাই খাচ্ছেন। সরকারের দেয়া খাবার তারা খাবেন না। অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার নেতা বালকরণ সিং ব্রার বলেছেন, সরকার তিনটি কৃষি আইন সংশোধন ও ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য (এমএসপি) নিয়ে নতুন আইন আনার কথা তারা বিবেচনা করবে। কিন্তু আমরা বলে দিয়েছি, আগে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। মহারাষ্ট্রের নেতা শঙ্কর বারেকরের দাবি, সরকার যে আইন সংশোধন করতে চাইছে, এতেই বোঝা যাচ্ছে, তারা পিছু হটেছে।



আরো সংবাদ