০১ ডিসেম্বর ২০২০

আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের তৃতীয় যুদ্ধবিরতিও লঙ্ঘিত

-

গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। আমেরিকার মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার থেকে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। রোববার শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বার যুদ্ধবিরতির মানবিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই পক্ষ। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আর্মেনিয়া তাদের টারটার ও লাচিন শহরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। আর্মেনিয়াও পাল্টা দাবি করেছে।
প্রায় এক মাস ধরে নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। প্রথম থেকেই দুই দেশকে শান্তি বৈঠকে বসানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। দুইবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও হয় রাশিয়ার মধ্যস্থতায়। কিন্তু অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা লঙ্ঘন করেছে দুইটি দেশ। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ফের দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসায় মস্কো। গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও জট খোলেনি।
এরপর প্রথমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং পরে মার্কিন কূটনীতিবিদদের সাথে বৈঠক করেন আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ বৈঠকের পর গত রোববার সন্ধ্যায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। আমেরিকা, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয় মানবিক কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হচ্ছে। এ দিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড রোববার জানিয়েছে, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সীমান্তে তারা সেনার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। ইরান যাতে দুই দেশের যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা বলে তারা জানিয়েছে। বস্তুত, এর আগে ইরান দাবি করেছিল, দুই দেশের গোলায় বিধ্বস্ত হয়েছে ইরানের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল।
রোববার সকালেই টুইটারে দেয়া এক পোস্টে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেন, নিজ দেশকে রক্ষার অধিকার সবারই রয়েছে। আজেরিরা শেষ দিন পর্যন্ত নিজের দেশকে রক্ষা করবে। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছিল, তখনো আজারবাইজান সীমান্তে ঢুকে পড়ে আর্মেনিয়ার একটি যুদ্ধবিমান।

 


আরো সংবাদ