০২ ডিসেম্বর ২০২০

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সঙ্ঘাতে মৃত্যু ৫০০০ : পুতিন

-

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সঙ্ঘাতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সাথেই প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছেন তিনি। নাগরনো-কারাবাখের স্বাধীন প্রশাসন যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসাব দিয়েছে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮৭৪ জন সেনা এবং ৩৭ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু নাগরনো-কারাবাখে। আজারবাইজানে ৬১ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের তরফ থেকে সেনা মৃত্যুর কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। আর্মেনিয়া কিছু দিন আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধে হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
পুতিন বলেছেন, তার কাছে যা খবর, তাতে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। কারণ, দুই দেশই যুদ্ধবিরতি মানতে চাইছে না। ‘দুই পক্ষেই হতাহত ব্যাপকভাবে বাড়ছে। প্রত্যেক পক্ষেরই দুই হাজারেরও বেশি করে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে’। নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সঙ্ঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। এরই মধ্যে সঙ্ঘাতে কয়েক শ’ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
মধ্যস্থতায় আগ্রহী তুরস্ক
তাস জানায়, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সম্মতির ওপর নির্ভর করছে নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে আলোচনার টেবিলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক থাকবে কি না। রাশিয়া বলছে, তুরস্ক মধ্যস্থতা করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আসতে হবে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পক্ষ থেকে।
রুশ প্রেসিডেন্টের আবাসিক প্রাসাদ ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার মস্কোয় এসব কথা বলেন। দিমিত্রি বলেন, ‘এর আগে দেশ দু’টি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল তা এখন পর্যন্ত কেউ মেনে চলেনি।’
এ দিকে আজারবাইজান জানিয়ে দিয়েছে তারা তুরস্ককে ছাড়া আলোচনার টেবিলে বসবে না। দীর্ঘ দিন ধরে চলা নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নেয় গেল ২৭ সেপ্টেম্বর। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর তুরস্ক প্রকাশ্যে আজারবাইজানের পক্ষ নেয়। তবে সম্প্রতি আঙ্কারা দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজে রাশিয়াকে সঙ্গ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু আর্মেনিয়া তুরস্কের এ প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা করছে।


আরো সংবাদ