০৫ ডিসেম্বর ২০২০
‘ ইসলামোফোবিয়াকে ব্যবহার করছেন ম্যাক্রোঁ’

ফ্রান্সজুড়ে আতঙ্কে মুসলমানরা

-

১৮ বছর বয়সী এক চেচেন বংশোদ্ভূত কিশোরের হাতে স্কুল শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনার পর ফ্রান্সে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সাথে ফরাসিদের ভঙ্গুর সম্পর্ক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। ঘৃণ্য এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশটিতে সামষ্টিক শাস্তির শঙ্কা করছেন মুসলিমরা। গত শুক্রবার রাজধানী প্যারিস থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরের কনফ্ল্যান্স-সেইন্টে-হনোরোইন এলাকায় আক্রান্ত হন ৪৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি। মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:-এর ব্যঙ্গাত্মক ছবি শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের কারণে হামলা চালিয়ে স্যামুয়েলকে হত্যা করে ওই কিশোর। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে মারা যায় সে।
স্কুলশিক্ষক স্যামুয়েল হত্যাকাণ্ডের পর শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো ফ্রান্স। গত বুধবার ফ্রান্সের সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা লিজিওন ডি অনারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক অনুষ্ঠানে স্যামুয়েলকে সর্বোচ্চ এই সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ফরাসি অংশ নেন। হত্যাকাণ্ডের দিন গত শুক্রবার প্যারিসসহ আশপাশের বেশ কিছু অঞ্চলে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকটি মসজিদেও হামলা চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ ফরাসিরা। সহিংসতার আশঙ্কায় দেশটির সরকার বেজায়ার্স ও বর্ডিক্স অঞ্চলে একাধিক মসজিদ বন্ধ করে পুলিশি পাহারা বসিয়েছে।
দেশটিতে বসবাসরত ইউরোপের বৃহত্তম সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও গত ২ অক্টোবর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশ্বজুড়ে ইসলাম গভীর সঙ্কটে রয়েছে বলে মন্তব্য করার পর থেকেই দেশটিতে কোণঠাসা অবস্থায় আছেন মুসলিমরা। তার মাঝে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে সেখানে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মুসলিমদের আশঙ্কা, ইসলামকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে অভিহিত করার নীতি এগিয়ে নেয়ার জন্য স্যামুয়েল প্যাটির র্মমান্তিক মৃত্যুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ফ্রান্সের সরকার।
ফ্রান্সের মুসলিম মানবাধিকার কর্মী ইয়াসির লোয়াতি বলেন, মুসলিমরা টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তার প্রচারণাকে জোরাল করতে ইসলামোফোবিয়াকে ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন লোয়াতি। গত সোমবার ফ্রান্সের সরকার সন্দেহভাজন চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক মুসলিমকে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্যামুয়েল প্যাটি হত্যাকাণ্ডের পর ফ্রান্সে অর্ধশতাধিক মুসলিম সংগঠনকে টার্গেট করা হয়েছে। শেখ ইয়াসিন কালেক্টিভ নামের একটি সংগঠনকে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ফ্রান্সের সরকার। প্যাটিকে অপমান করে ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোডের অভিযোগে এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হাকিম সেফরিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


আরো সংবাদ

বায়তুল মোকাররমের সামনে ভাস্কর্যবিরোধীদের মিছিলে লাঠিচার্জ (৮৯৮৮)মানুষের মতো দেখলেও তাকে যে কারণে জঙ্গলে ফল-ঘাস খেয়ে থাকতে হয় (৮৫৯৯)রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো (৭৪২০)ইরানি বিজ্ঞানী হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রথম মুখ খুললেন বাইডেন (৭৪১১)কোনো মুসলিম হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা (৬৭৬৫)ভাস্কর্য, মহাকালের প্রেক্ষাপট (৫৬৬১)নাগর্নো-কারাবাখে জয় পেতে কত সৈন্য হারাতে হলো আজারবাইজানকে? (৫৬৫৪)আওয়ামী লীগের আপত্তি, মামুনুল হকের মাহফিল বাতিল (৫০৩৬)নতুন পরমাণু কেন্দ্রে জ্বালানী ঢোকানোর কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান (৪২৫০)আঘাত করলে পাল্টা আক্রমণ হবে : ওবায়দুল কাদের (৩২০২)