২৭ অক্টোবর ২০২০

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সঙ্ঘাত বন্ধের আহ্বান জাতিসঙ্ঘের

সেনা পাঠানোর আর্মেনীয় দাবি তুরস্কের অস্বীকার
নাগোরনো কারাবাখে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থান লক্ষ্য করে আজারবাইজানের গোলা নিক্ষেপ : এএফপি -

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতি সঙ্ঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। রোববারের সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির পর জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান। মহাসচিবের মুখপাত্রের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গুতেরেসের মুখপাত্র জানান, এ সঙ্ঘাতের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব মর্মাহত। শিগগিরই তিনি এ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে টেলিফোনে কথা বলবেন। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। আর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
দুনিয়াজুড়ে বিদ্যমান করোনা মহামারীর মধ্যেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘ বিবাদের জেরে রোববার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ। আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এ সঙ্ঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩১ সেনা নিহত হয়েছে। আজারবাইজানের হামলায় ৫ জন বেসামারিক লোক নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আর্মেনিয়া।
নিহতদের মধ্যে ১৬ আর্মেনীয় বিদ্রোহী রয়েছে বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি দুই জন বেসামরিক নাগরিক। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রাণহানি ছাড়াও তাদের শতাধিক সদস্য আহত হয়েছে। আজারবাইজানে নিহত পাঁচ জনের সবাই একই পরিবারের সদস্য। আর্মেনীয়দের গোলাবর্ষণে তারা নিহত হয়। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে হামলা চালায় আজারবাইজান। এর জবাবে আর্মেনিয়ার বাহিনী প্রতিপক্ষের দু’টি হেলিকপ্টার, তিনটি ড্রোন ভূপাতিত ও তিনটি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। অন্য দিকে আজারবাইজান বলছে, হামলার শিকার হওয়ার পর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে সঙ্ঘাতের জন্য আর্মেনিয়াকে দায়ী করেছে আজারবাইজান। অন্য দিকে তুরস্কের পক্ষ থেকে আর্মেনিয়ার আচরণকে আজারবাইজানের বিরুদ্ধে উসকানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ায় আর্মেনীয়দের প্রতি দেশটির শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেছেন, যেসব নেতা আর্মেনিয়াকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এবং নাগরিকদের পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর্মেনীয়দের রুখে দাঁড়ানো উচিত। টুইটারে এরদোগান লিখেছেন, দখল ও নির্মমতার বিরুদ্ধে বিশ্বকে আজারবাইজানের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এ যুদ্ধ থেকে তুরস্ককে দূরে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আর্মেনিয়া।
এ দিকে, রাশিয়ায় নিয়োজিত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, উত্তরাঞ্চলীয় সিরিয়া থেকে আজারবাইজানে প্রায় ৪ হাজার যোদ্ধা পাঠিয়েছে তুরস্ক। বিবাদপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ এলাকায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে লড়াই চলার মধ্যেই সোমবার এমন অভিযোগ করেন তিনি। এ দিন রাশিয়ায় নিয়োজিত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, আজারবাইজানে তুরস্ক তাদের সেনা পাঠিয়েছে। তারা নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তুরস্ক।


আরো সংবাদ